E-Paper

অপদার্থ

মিনিট পাঁচেক পর উনি হাত ধরে আমাকে জল থেকে তুলেছিলেন। তার পর গামছাটা আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে, সোজা হাঁটা লাগিয়েছিলেন।

শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৮
ছবি: রৌদ্র মিত্র।

ছবি: রৌদ্র মিত্র।

আমি বড় ভিতু মানুষ। এটা সবার আগে বুঝেছিলেন আমার বাবা সরিৎশেখর গঙ্গোপাধ্যায়। আমাকে সাহসী করার জন্য অনেক চেষ্টাও করেছিলেন।

আমার তখন সাত-আট বছর বয়স। আমাদের বাড়ির সামনেই একটা পুকুর ছিল, সেখানে বাবা আমায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। আমি সাঁতার জানি না। ডুবি আর ভাসি। ভয়ে হাত-পা শক্ত হয়ে গিয়েছিল। ভয়ের চোটে পেট-ভর্তি জল খেয়ে ফেলেছি। আমার হাঁসফাঁস অবস্থা দেখে, ঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা, চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলেছিলেন। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আমি ভয়ে আর শীতে কাঁপছি। তখন শীতকাল। বাবা কোমরে জড়ানো গামছা দিয়ে গা-হাত-পা মুছিয়ে দিয়ে, আমাকে রোদে দাঁড় করিয়ে নিজে স্নান করতে গিয়েছিলেন। স্নান সেরে উঠে আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলেছিলেন, “এখন আর ভয় লাগছে না তো?”

আমি মাথা নেড়ে বলেছিলাম, না। উনি গা-হাত-পা মুছে, আমার দিকে এগিয়ে এসে, আবার জলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। পরের বার আমি বেশি অবাক হয়েছিলাম। ভাগ্যিস খুব বেশি জল খাইনি! বাবা ঘাটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, “সাইকেল চালানোর মতো করে পা চালাও। শরীরটাকে হালকা করে নাও। ডুববে না।”

মিনিট পাঁচেক পর উনি হাত ধরে আমাকে জল থেকে তুলেছিলেন। তার পর গামছাটা আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে, সোজা হাঁটা লাগিয়েছিলেন। আমি ওঁর পিছন-পিছন এক রকম ছুট্টে বাড়ি যাই। বাবা বাড়িতে ঢুকেই চিৎকার করে বলেছিলেন, “বুঝলে চিত্রা, তোমার ভিতু ছেলেকে আজকে সাঁতার শিখিয়ে দিয়েছি।”

তার পরই আমার দিকে ঘুরে বলেছিলেন, “তোকে দ্বিতীয় বার কেন জলে ফেললাম জানিস?”

আমি মাথা নেড়ে বলি, না।

বাবা মৃদু হেসে বলেছিলেন, “সব সময় সতর্ক থাকা মানুষের ধর্ম। তা ছাড়া প্রথম বার জলে পড়ে ভয় পেয়েছিলি। লক্ষ করে দেখিস, দ্বিতীয় বার কিন্তু ভয় পাসনি।”

কথাটা ভীষণ ভাবে সত্যি। আজ এই সাতাশ বছরে এসে বুঝি।

“তুমি এক জন চূড়ান্ত ভিতু এবং ব্যর্থ পুরুষ!” বর্ণা চোখমুখ লাল করে বলেছিল। আমি মনে মনে হাসি। এই কথাটা বহু দিন আগেই বাবা বলেছিলেন। যদিও বর্ণার বলার কারণ আলাদা। বর্ণা ভুল কিছু বলেনি। বর্ণা নিজে প্রফেসর। ওর বাবা রেলের বড়বাবু, বড়দা ইঞ্জিনিয়ার, ছোড়দা ডাক্তার, মা রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরে আছেন। আর আমি চার-পাঁচশো টাকার প্রাইভেট টিউটর। সেটাও বাংলার মতো নড়বড়ে বিষয়ে।

আমি ব্যর্থ মানুষ সত্যি। কথাটা বর্ণা বার তিনেক বলে ফেলেছে। এটাই বোধহয় সিগন্যাল, বর্ণা এ বার ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের দিকে যাত্রা শুরু করবে। বর্ণা চলে গেলে কি খুব কষ্ট হবে? মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করি। উত্তরটায় ভয় পাই। এ কি ভালবাসার জন্য, নাকি একাকিত্বের জন্য, বুঝতে পারি না।

বর্ণা ছাড়া আমার তেমন কোনও বন্ধু নেই। দু’-এক জন ছিল। তারা হয় মফস্সল ছেড়ে অন্য শহরে চলে গেছে। নয়তো তাদের সফল জীবনে বন্ধু বদলে গেছে। এত বছরে বর্ণা তেমন বদলায়নি। এখন চাকরি পেয়ে সামান্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বর্ণার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব ক্লাস এইট থেকে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত সমস্ত লেখাপড়া বাবা নিজে দেখতেন। এইটে ওঠার পর বাবার মনে হয়েছিল, এ বার এক জন অঙ্কের শিক্ষক লাগবে। আমাদের আমতলা অঞ্চলে অঙ্কের শিক্ষক মানেই গগন দেবনাথ। ভদ্রলোক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী পড়াতেন। নিচু ক্লাস থেকে শুরু করে কলেজ স্টুডেন্ট। গগন স্যরের কাছে বাবা আমাকে ভর্তি করলেন। ওখানেই আলাপ বর্ণার সঙ্গে। মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে। পেন-পেনসিল চাইলেই এগিয়ে দেয়। জ্যামিতি-বক্স নিয়ে যেতে ভুলে গেলে ওরটা ব্যবহার করতে দেয়। অঙ্ক ভুল কষলে, শুধরে দেয়। এমন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব না হয়ে থাকতে পারে! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়েছে।

এক বর্ষার দিনে, কলেজে পরীক্ষা, যেতেই হবে। আকাশ অন্ধকার করে মেঘ করেছে। আমি গড়িমসি করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশন পৌঁছেছি। দেখি, প্রায় ফাঁকা স্টেশনে বর্ণা দাঁড়িয়ে আছে। চোখ রাস্তার দিকে। সে দিন বর্ষা নাকি মেঘ, কী যে জাদু করেছিল, জানি না। কী অপরূপ সুন্দর লাগছিল বর্ণাকে! মনে হয়েছিল, ওর মতো আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করবে না। কথাটা ওকে বলব ভেবেছিলাম। ওর সামনে দাঁড়িয়ে ভেবেছিলাম, বলে ফেলি মনের মধ্যে কী চলছে।

বর্ণা আমার মুখ চেপে বলেছিল, “আজ কিছু বলিস না। পরে বলিস। আমাকে তোর সব কথা বলিস। শুধু এই মুহূর্তের কথাটা না বলাই থাক। এই কথাটা ফুরিয়ে গেলে, আর নতুন কিছু বলার থাকবে না। বুঝলি!”

আমি বর্ণার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলাম। বর্ণা হাতে সজোরে চিমটি কেটে বলেছিল, “বুদ্ধু একটা।”

ঠিক তখনই শিয়ালদহগামী ট্রেন ঢুকেছিল স্টেশনে।

এত বছর পরেও মুহূর্তগুলো কেমন টাটকা মনে হয়। সদ্য-ফোটা শিউলির মতো। পবিত্র, নিষ্পাপ। জীবন এগিয়ে গেছে অনেকখানি। বর্ণার ছোড়দার বিয়ে সামনেই, যদিও দিন ঠিক হয়নি। কনে ঠিক হয়ে আছে। শুনেছি মেয়েটিও ডাক্তার। বর্ণার মায়ের ইচ্ছা, মেয়ের বিয়ে দিয়ে ছোট ছেলের বিয়ে দেবেন। বড় ছেলে, বড় বৌমা গুরগাঁওয়ে থাকে। তারা চাইছে এক বারে এসেই দুই ভাই-বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান মিটিয়ে ফেলতে।

বর্ণার জন্য পাত্র খোঁজা চলছে জোরকদমে। এর মধ্যে এক জন শর্টলিস্টেড হয়ে আছে। যাকে বলে শীর্ষ বাছাই। এ বার বর্ণার মতামতের পালা। ওর উপর যত পারিবারিক চাপ বাড়ছে, তত ও আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। আমি কী করি! আমার তেমন কোনও বন্ধুবান্ধব নেই, যার কাছে বুদ্ধি বা উপদেশ পাওয়া যায়।

“আমার মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই যদি তোমাকে ডায়েরি হাতড়াতে হয়, তা হলে জানবে তুমি শুধু ভিতু নও। এক জন মুখচোরা, পুরুষত্বহীন এবং অপদার্থ মানুষ। পাড়ায় এক জনও বন্ধু নেই তোমার? যদি থাকত, তা হলে ডায়েরি ঘাঁটার দরকার ছিল না! তোমার মাকে কী ভাবে রাখবে, ভেবেই শিউরে উঠছি। তোমার মা বড় নরম মনের মানুষ, শিশুতুল্য। বেচারি তোমার কাছে বড় কষ্ট পাবে।

“ধরো এই লেখাটা আমার মৃত্যুর বেশ কিছু মাস বা বছর পর তোমার চোখে পড়েছে, তা হলে স্যরি। তোমাকে গালমন্দ করার জন্য, দুঃখিত। শুধু একটা কথা বলব, মাকে যথাসম্ভব যত্নে রেখো।”

বাবা মারা গিয়েছিলেন আচমকা। প্রতিদিনের মতোই খাওয়া-দাওয়া করে অফিস বেরিয়ে গেছিলেন। বাবা বাড়ি থেকে সামান্য দূরের এক ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সিনিয়র কেমিস্ট ছিলেন। বাবা খেয়েদেয়ে স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে গেলে আমি খেতে বসতাম। আমারও ট্রেন ধরার তাড়া ছিল। তখন কলেজের লাস্ট ইয়ার। আমতলা থেকে ট্রেন ধরে সামান্য এগিয়েছি, আমার ফোনে বাবার ফোন এল। তত দিনে বাবা আমাকে ছোট একটা ফোন কিনে দিয়েছেন। ট্রেনের আওয়াজ ছাপিয়ে গলা তুলে বলেছিলাম, “ হ্যালো।”

“কত দূর গেছিস?”

“সবে ট্রেনে উঠলাম। কেন?”

“আজ কলেজে যাওয়ার খুব দরকার না থাকলে, বাড়ি আয়।”

“কেন? মা ঠিক আছে তো?”

“মা ঠিক আছে। আমার শরীরটা খারাপ লাগছে। স্কুটারটা অফিসে রেখে আমতলা নার্সিং হোম যাচ্ছি। তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই, ধীরেসুস্থে আয়।”

“তোমার সঙ্গে কে আছে? হ্যালো… হ্যালো…”

লাইন কেটে গিয়েছিল। বাবার গলাটা ঠিক নর্মাল লাগেনি। বাবাকে কখনও অসুস্থ হতেও দেখিনি। হঠাৎ কী এমন হল!

নার্সিং হোম পৌঁছে দেখি, বাবার অফিসের এক জন বসে আছেন। তিনি আমাকে কী ভাবে চিনতেন জানি না। তার মুখেই শুনলাম, অফিসে পৌঁছনোর পর থেকেই বাবার বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রচণ্ড ঘামতে থাকেন। কয়েক জন মিলে বাবাকে এই নার্সিং হোমে নিয়ে আসেন। বাকিরা চলে গেছেন, এই ভদ্রলোক আমার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। আবার আগামী কাল আসবেন বলে চলে গেলেন।

ভদ্রলোককে আর আসতে হয়নি। বাবা তার আগেই চলে গিয়েছিলেন। বাবা শুয়ে ছিলেন ঠান্ডা ঘরে, শরীরে হাজার রকম নল লাগানো। আমাকে দেখে কষ্ট করে হেসেছিলেন। তার পর বলেছিলেন, “তেমন কিছু হয়নি।”

“বুঝতে পারছি। চুপ করো।”

“তোকে ডাকলাম কেন বল তো? তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল? না। দেখছিলাম তুই কেমন ঠান্ডা মাথায় সব সামলাতে শিখেছিস।”

এই ছিল বাবার আর আমার শেষ কথা। সে রাতেই দ্বিতীয় কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়।

বাবার মৃত্যু আমাকে দিশাহারা করে দেয়। মাকে সামলাব কী ভাবে? কাকে ডাকব এই বিপদে? হঠাৎ মনে পড়ে, বাবা একটা ডায়েরি লিখতেন। সেটাতেই আত্মীয়দের ফোন নম্বর খোঁজার আশায় খুলেছিলাম। প্রথম দু’পাতা উল্টাতেই দেখি বাবা লিখেছেন, “তুমি একটি অপদার্থ।”

নিজেকে আমারও তা-ই মনে হয়। এখনও পর্যন্ত বাবার রেখে যাওয়া টাকাপয়সায় তেমন হাত দিইনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশন করে সংসার চালানোর চেষ্টা করি। বর্ণা যখন চাকরির কথা বলে, ওকে কিছুতেই বোঝাতে পারি না, আজকের দিনে সাধারণ গ্র্যাজুয়েটদের কোনও চাকরি নেই। যদিও বা কিছু খুঁজে পাওয়া যায়, তার ভরসায় বর্ণার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

বর্ণা আজও সন্ধেয় ফোন করেছিল। আগামী কাল খুব সম্ভবত ওর বিয়ের কথাবার্তা পাকা হবে। পাত্রের বাড়ি লোক, পাত্র— আগেই দেখে গেছে। বর্ণা ওর মাকে বুঝিয়ে বলতে গিয়েছিল। ওর মা নাকি খুব শান্ত গলায় বলেছেন, “বুবু, তোর মনে হচ্ছে আমরা তোকে হাত-পা বেঁধে জলে ফেলে দিচ্ছি? ছেলেটি তোর মতোই প্রফেসর। অতি ভদ্র, সভ্য, রুচিবান। আর কী চাই? খুব সুদর্শন নয়, মানলাম। কিন্তু তোর বন্ধুর মতো সুন্দর রূপের অপদার্থ নয় এটা তো মানবি!”

এর উত্তর বর্ণা কী দিয়েছে জানি না। কারণ এটুকু বলেই বর্ণা ফোন কেটে দিয়েছিল। তার পর থেকে পড়ানোয় মন দিতে পারিনি। রাতে দুটো রুটি কোনও ক্রমে খেয়ে ছাদে বসে আছি। ভাল লাগছে না। নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে।

অনেক রাত হয়ে গেছে। এ বার শুতে যেতে হবে। সকাল হলেই আবার পড়ানো শুরু। নীচে নেমে আসি। মা ডাইনিংয়ে বসে টিভি দেখছিল। আমাকে দেখে টিভি বন্ধ করে দিল। অন্য দিন খাওয়াদাওয়ার পর মা-ছেলের একটু আড্ডা হয়। আজ আর ইচ্ছে করছে না। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, “শুলাম মা। সকালবেলা ডেকে দিয়ো। সাড়ে সাতটা থেকে পড়ানো আছে।”

শোওয়ার ঘরের দরজাটা বন্ধ করার আগেই, রাতের নীরবতা কাটিয়ে ডোরবেল বেজে ওঠে। এত রাতে কে এল? কারও কোন বিপদ-আপদ হল নাকি!

মা-ও নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। দৃষ্টিতে আমার মতোই জিজ্ঞাসা। দরজা খুলি। বর্ণা দাঁড়িয়ে। বর্ণা, এত রাতে? তাড়াতাড়ি ডাইনিংয়ে এনে বসাই। ঠান্ডা জল এগিয়ে দেয় মা।

এক চুমুক জল খেয়ে বর্ণা শুধু বলে, “চলে এসেছি।”

শুনে আমি অবাক হতেও ভুলে যাই যেন, “মানে?”

বর্ণা বলল, “আগামী কাল সেজেগুজে মিথ্যে নাটকে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই চলে আসতে বাধ্য হলাম।”

“বাড়ির কেউ কিছু জানে না?”

“বাপিকে সব বলেছি। বাপি দরজা খুলে দিয়েছে। ছোড়দা তোর বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। শুধু মা জানে না। বাপি কথা দিয়েছে, মাকে সামলাবে।”

আমি কিছু বলার আগেই মা একগাল হেসে বলল, “তোর বেশ সাহস আছে বুবু। খুব ভাল করেছিস। আর এক জন তো খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেবদাস হয়ে যাচ্ছিল।”

এ কী জ্বালা! আমি কখন দেবদাস হয়ে যাচ্ছিলাম! কিছু বলার আগেই বর্ণা বলল, “আর দেবদাস হয়ে কাজ নেই। আগামী কাল থেকে চাকরির পরীক্ষাগুলোর প্রিপারেশন নিবি। দরকার হলে কিছু টিউশনি ছাড়তে হবে। ছোড়দা বলছিল, একটা ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ওর ভাল সম্পর্ক আছে। তোর কথা বলবে। সেখানে চাকরি হয়ে গেলে তো খুবই ভাল।”

বর্ণার কথা শুনে মা অদৃশ্য ভগবানের উদ্দেশে হাতজোড় করে প্রণাম জানায়। আমি চাকরির কথার থেকে বেশি ভাবতে থাকি, বর্ণা শোবে কোথায়। আমাদের দুটো মাত্র ঘর। একটায় আমি শুই, আর একটায় মা। ও কি মায়ের সঙ্গে শোবে!

আমি কিছু বলার আগেই বর্ণা সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। মায়ের ঘরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আমার দিকে মুচকি হেসে বলে, “শুভরাত্রি। এ বার ঘুমিয়ে পড়।”

“কী রে ওঠ, ওঠ। কত বেলা হয়ে গেছে। তুই যে বললি সাড়ে সাতটায় পড়াতে যাবি!”

মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে। এখনও চোখে ঘুম লেগে।

ঘুম জড়ানো গলায় মাকে জিজ্ঞেস করি, “বর্ণা এখনও ঘুমোচ্ছে?”

“বর্ণা! কী সব বলছিস? স্বপ্ন দেখছিস না কি!”

আমি ধড়মড় করে উঠে বসি। নিজের ঘর ছেড়ে মায়ের ঘরে যাই। বাবা-মায়ের বিছানায় সকালের মিঠে রোদ ঝলমল করছে।

মনে হচ্ছে কে যেন সেই রোদের মধ্য থেকে হেসে বলছে, “অপদার্থ! স্বপ্ন দেখে জীবন কাটাচ্ছে।”

আমিও হেসে উঠি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Short Story Short story

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy