বাঙালির ঘরে মেপে চাল নেওয়া হয় নাকি? নিজেরা তো কব্জি ডুবিয়ে খাবেনই, তার উপর যদি কেউ হঠাৎ চলে আসেন, তাঁকেও যে পাত পেড়ে খাওয়াতে হবে! ভোজনরসিকদের পরিবারে এই রীতি দেখা যায় বহুকাল ধরে। অথচ এর ফলে দায়িত্ব বাড়ে ফ্রিজের। একের পর এক খাবারে ভরতে থাকে যন্ত্র। তার মধ্যে ভাত থাকে অধিকাংশ দিনই। রোজ রোজ বাসি ভাত খেতেও ভাল লাগে না। সে ক্ষেত্রে তা দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন সুস্বাদু কিছু খাবার।
ভাতভাজা
একটি কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করুন। এর পর পেঁয়াজ, গাজর এবং ক্যাপসিকামের মতো সব্জিগুলি হালকা করে ভেজে নিন। আলাদা করে ভেজে রাখা ডিমও মিশিয়ে দিতে পারেন এতে। এ বার এতে বাসি ভাত দিয়ে সব কিছুর সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে নিন। স্বাদের জন্য সামান্য সয়া সস বা আপনার পছন্দের মশলা যোগ করতে পারেন। খুব অল্প সময়েই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ সুস্বাদু ভাতভাজা। শেষে অল্প মাখন দিলে স্বাদে ও ঘ্রাণে জমে যাবে ভোজ।
ভাতের চিলা
বেসন বা সুজির তৈরি চিলা তো হামেশাই খেয়ে থাকেন, কিন্তু আগের দিনের ভাত দিয়ে তৈরি চিলাও যে খেতে সুস্বাদু হতে পারে, তা কি জানতেন? প্রথমে বেঁচে যাওয়া ভাত মিক্সিতে ভাল করে পিষে নিন। এর পর এতে কাঁচা লঙ্কাকুচি, পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতা ও পরিমাণমতো মশলা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। তার পর তাওয়ায় সামান্য তেল ছড়িয়ে মিশ্রণটি দিয়ে দিন। দুই পিঠে সোনালি রং না ধরা পর্যন্ত ভেজে নিতে হবে। নিজের পছন্দের চাটনি বা টম্যাটো সস দিয়ে গরম গরম খেয়ে নিন রাইস চিলা। প্রাতরাশ হোক বা সন্ধ্যায় স্ন্যাক্স, যে কোনও বেলায় বানিয়ে খাওয়া যায়।
রাইস পকোড়া
আলু সেদ্ধ করে ভাল করে মেখে নিন হাতে। তার মধ্যে পেঁয়াজকুচি, লঙ্কাকুচি মিশিয়ে দিন। স্বাদ অনুসারে আরও কিছু মশলা মিশিয়ে দিতে পারেন এতে। এ বার বাসি ভাতের সঙ্গে ভাল করে মেখে নিন। তার পর বেসনে ডুবিয়ে ছাঁকা তেলে ভেজে নিতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে ভাত দিয়ে বানানো সুস্বাদু পকোড়া। বৃষ্টির দিনে রসিয়ে পকোড়া খেতে খেতে আড্ডা দিতে পারেন।