Advertisement
০৯ ডিসেম্বর ২০২২
Tempareture

Record Breaking Coldest Temperature: আলো যখন তরল হয়ে যায়, পাত্রে ঢালা যায়! সেই তাপমাত্রার সবচেয়ে কাছে পৌঁছলেন বিজ্ঞানীরা

জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ।

যে তাপমাত্রাকে ছুঁতে পারেনি হাড়জমানো ঠান্ডার মহাকাশও।

যে তাপমাত্রাকে ছুঁতে পারেনি হাড়জমানো ঠান্ডার মহাকাশও। প্রতীকী ছবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ১৮:৫৬
Share: Save:

মহাকাশেরও যা সাহসে কুলোয়নি, সেই পরম শূন্য তাপমাত্রাকে প্রায় ছুঁয়েই ফেললেন বিজ্ঞানীরা! দু’সেকেন্ডের জন্য।

যে তাপমাত্রায় আলোও তরল হয়ে যায়। আলোকে কোনও তরলের মতোই পাত্রে ঢালা যায়। যে তাপমাত্রায় কোনও একটি পরমাণু একই সঙ্গে থাকে দু’টি জায়গায়।

জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ।

বহু দশকের সাধ্যসাধনার পর বিজ্ঞানীরা এ বার পৌঁছতে পারলেন সেই হাড় জমিয়ে দেওয়া পরম শূন্য তাপমাত্রার ঠিক ৩৮ লক্ষ কোটি ভাগ আগের তাপমাত্রায়। যে তাপমাত্রায় পৌঁছনোর সাহস দেখাতে পারেনি সুগভীর মহাকাশও। এখনও পর্যন্ত।

তাপমাত্রার কোনও ঊর্ধ্বসীমা না থাকলেও নীচে নামতে নামতে তা এক জায়গায় থমকে দাঁড়ায়। সেই জায়গার চেয়ে আর নীচে নামতে পারে না তাপমাত্রা। বিজ্ঞানের পরিভাষায় সেই তাপমাত্রাই পরম শূন্য তাপমাত্রা। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের ২৭৩.১৫ ডিগ্রি নীচে। মাইনাস ২৭৩.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা মাপার আর একটি দাঁড়িপাল্লায় যা মাইনাস ৪৫৯.৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই পরম শূন্যের নীচে তাপমাত্রার পক্ষে নামা আর সম্ভব হয় না। এটাকেই বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় শূন্য ডিগ্রি কেলভিন তাপমাত্রা।

হাড়জমানো ঠান্ডার মহাজগৎ- মহাকাশের গড় তাপমাত্রাও থাকে এর আড়াই ডিগ্রিরও বেশি উপরে। মহাকাশও পৌঁছতে পারে না শূন্য ডিগ্রি কেলভিন তাপমাত্রায়। তাই সঠিক হিসাবে মহাকাশের গড় তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রি কেলভিন। বা প্রায় মাইনাস ৪৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

যে তাপমাত্রায় আলোও হয়ে যায় তরল।

যে তাপমাত্রায় আলোও হয়ে যায় তরল। —ফাইল ছবি।

অণুদের চলাচল ও সংঘর্ষের ফলে জন্ম হয় কম্পনের। তাপমাত্রা সেই কম্পনেরই পরিমাপক। তাই পরম শূন্য এমনই একটি তাপমাত্রা যেখানে পৌঁছনো সম্ভব হলে কোনও অণুর পক্ষেই আর নড়াচড়ার ক্ষমতা থাকবে না। সে হয়ে পড়বে আক্ষরিক অর্থেই স্থবির।

বিজ্ঞানীরা কাজটি করেছেন রুবিডিয়াম পরমাণু নিয়ে। রুবিডিয়াম গ্যাসের এক লক্ষ পরমাণুকে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে। তার পর সেই ভ্যাকুয়াম চেম্বারটিকে ঠান্ডা করা হয় পরম শূন্যের এক ডিগ্রি সেলসিয়াস উপরের তাপমাত্রার ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগে। তাতেও সন্তুষ্ট হননি বিজ্ঞানীরা। তার পর সেই খুব ঠান্ডা রুবিডিয়াম অণুগুলিকে একটি টাওয়ারের উপর থেকে ৩৯৩ ফুট নীচে ফেলে দেন। তাতেই মাত্র দু’সেকেন্ডের জন্য পরম শূন্য তাপমাত্রার সবচেয়ে কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.