Advertisement
E-Paper

পাঁচ দশক পর মহাকাশচারীরা পাড়ি দেবেন চাঁদে! ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নয়া দিন ঘোষণা নাসার, অভিযানের গুরুত্ব কী?

নাসার সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ থাকছে এই মিশনে। চাঁদের উদ্দেশে রওনা হলেও ওই চার মহাকাশচারী এই মিশনে চাঁদের মাটিতে নামবেন না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩২
NASA announces new date for mission Artemis-II

চার মহাকাশচারী নিয়ে পাড়ি দেবে নাসার শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেট। ছবি: সংগৃহীত।

৬ ফেব্রুয়ারি নয়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চার মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবে ওরিয়ন মহাকাশযান! আমেরিকার মহাকাশ সংস্থা নাসা তার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের পরিবর্তিত দিনক্ষণ সম্পর্কে জানিয়ে দিল।

নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবেন চার নভশ্চর। নানান পরীক্ষানিরীক্ষা করে আবার ফিরে আসবেন পৃথিবীতে। নাসার সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ থাকছে এই মিশনে। চাঁদের উদ্দেশে রওনা হলেও ওই চার মহাকাশচারী এই মিশনে চাঁদের মাটিতে নামবেন না। ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে নানা তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা।

যে চার মহাকাশচারী ‘আর্টেমিস-২’ মিশনে যাচ্ছেন, তাঁদের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করেছে নাসা। তাঁরা হলেন, রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। ভিক্টর হলেন এই মিশনে মহাকাশযানের চালক আর রিড হলেন মিশনের কমান্ডর। বাকি দু’জনকে বিশেষজ্ঞ হিসাবে মিশনে পাঠাচ্ছে নাসা।

৫০ বছর আগে ‘অ্যাপোলো-১১’ মহাকাশযানে চড়ে তিন মার্কিন মহাকাশচারী গিয়েছিলেন চাঁদে। চাঁদের মাটিতে নেমেছিলেন দুই মার্কিন মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। সাড়ে ২১ ঘণ্টার জন্য। তাঁরা চাঁদের মাটিতে পুঁতেছিলেন আমেরিকার পতাকা। তুলে নিয়ে এসেছিলেন চাঁদের মাটি। তার পরে নানা অভিযান করেছে আমেরিকার এই মহাকাশ সংস্থা। তবে চাঁদের মানুষ পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা করেনি এত দিন। পাঁচ দশক পর আবার চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন মানুষ। চাঁদের মাটিতে নভশ্চরেরা পা না-রাখলেও ভবিষ্যতের জন্য এই মিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এর আগে ‘আর্টেমিস-১’ মিশন হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে। সেই মিশনেও ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেট চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ওরিয়ন মহাকাশযানও ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই যান চাঁদের চারপাশে ঘুরে ফিরে এসেছিল পৃথিবীতে। তবে সেই রকেট ছিল ফাঁকা। ‘আর্টেমিস-১’ মিশনের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে নাসা শুরু করে ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের প্রস্তুতি।

কী ভাবে এই মিশন পরিকল্পনা করা হয়েছে, তারও আভাস মিলেছে। চার মহাকাশচারী পৃথিবীর কক্ষপথে থাকাকালীনই বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। সেগুলি সাধারণত সতর্কতা অবলম্বনের জন্যই করা হবে। যদি পরীক্ষাগুলির ফলাফল ইতিবাচক হয় তবেই পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের কাছে পৌঁছে যাবে ওরিয়ন মহাকাশযান। তবে সেই সময় যদি কোনও সমস্যা ধরা পড়ে, তৎক্ষণাৎ ওই মহাকাশযানকে ফিরিয়ে আনা হবে পৃথিবীতে। ঠিক রয়েছে, চার দিন চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে ওই মহাকাশযান। সেই সময়ে অতিক্রম করবে প্রায় ৪, ৬০০ মাইল পথ। পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়ার পর ওই মহাকাশযান চালাবেন ভিক্টর।

কেন অভিযানের সূচিতে বদল হল? নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ফ্লোরিডায় অতিরিক্ত শীত এবং আবহাওয়া অনুকূল না-হওয়ায় মিশন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মিশনের প্রস্তুতি হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’! অর্থাৎ, উড্ডয়নের চার দিন আগে মহাকাশচারীদের ভিজে কাপড়ে মহড়া দিতে হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে সেই মহড়া সম্ভব হয়নি।

NASA Moon Mission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy