অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার নির্মূল করার উপায় কি তবে পাওয়া গেল? স্প্যানিশ ন্যাশনাল ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় তেমনটাই দাবি করা হয়েছে। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে ক্যানসার নির্মূল করেছেন গবেষকেরা, দাবি এমনটাই। এই গবেষণা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানীমহলে।
অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ হল ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডিনোকার্সিনোমা’। এই ক্যানসার ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরাও পড়ে না। তলে তলে শরীরে বাড়তে থাকে। গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি জিনের মিউটেশনের (রাসায়নিক বদল) কারণেই ক্যানসারের এত বাড়বাড়ন্ত হয়। সেই জিনগুলিকে আয়ত্তে আনতে তিন ধরনের ওষুধের থেরাপি কার্যকর হতে পারে। ওষুধগুলির কাজ হল সেই জিনের রাসায়নিক বদলকে ঠেকিয়ে রাখা। ইঁদুরের উপর ওষুধগুলির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা।
আরও পড়ুন:
কোন কোন জিনের বদলে মাথাচাড়া দেয় অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে?
কেআরএএস জিন: ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের কোষের অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক বিভাজনের জন্য দায়ী এই জিন। এই জিনের রাসায়নিক বদল যত দ্রুত হবে, ততই ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়তে থাকে শরীরে।
টিপি৫৩: এই জিনের বদল হলে কোষের মৃত্যু হয় না, বরং তার বিভাজনের হার বেড়ে যায়। কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে শুরু করে, যা ক্যানসারের রূপ নেয়।
সিডিকেএন২এ: এই জিন কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই জিনে বদল ঘটে, তা হলে কোষের বৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।
এসএমএডি৪: এই জিনের রূপান্তর ঘটলে ক্যানসার আক্রান্ত কোষের সংখ্যা বেড়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কোন কোন ওষুধে আশার আলো দেখছেন গবেষকেরা
বদলে যাওয়া জিন ও ক্যানসারের সময়ে বাড়তে থাকা প্রোটিনগুলিকে আয়ত্তে আনতে ‘ট্রিপল-ড্রাগ ট্রিটমেন্ট থেরাপি’-তে জোর দিয়েছেন গবেষকেরা। ক্যানসারের কোষগুলির বৃদ্ধি ও বিভাজন ঠেকাতে আফাটিনিব নামক ওষুধের প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি ঠেকাতে ডারাক্সোনর্যাসিব নামক ওষুধটিও মেশানো হয়েছে তাতে। তৃতীয় ওষুধটি হল আরএএফ১ ইনহিবিটর, যেটি কেআরএএস জিনের রাসায়নিক বদল ঠেকাতে পারে। এই তিন ওষুধ মিশিয়ে বিশেষ এক রকম থেরাপি করা হয়েছে ইঁদুরের উপরে। তাতে দেখা গিয়েছে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে। তবে মানুষের উপরে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরেই গবেষণাটিতে সিলমোহর দেওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে।