মুকেশ ও নীতা অম্বানীর কনিষ্ঠ পুত্র অনন্তের চেহারায় এক সময়ে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। ১০৪ কেজি ওজন কমিয়ে পৃথুলবপু অনন্তের সুঠাম চেহারা এক সময়ে অবাক করেছিল সকলকে। এই রূপান্তরের নেপথ্যে ছিল প্রশিক্ষক বিনোদ চন্নার শেখানো কিছু ব্যায়াম। ষাট বছরের নীতা অম্বানীর ফিটনেসের দায়িত্বেও রয়েছেন বিনোদ। অম্বানী পরিবার ছাড়াও বলিউডের আরও অনেক তারকার ফিটনেসের দায়িত্বও সামলান তিনি। তারকা মহলে জনপ্রিয় ফিটনেস প্রশিক্ষক বিনোদ জানিয়েছেন, ওজন যদি ঝরাতে হয় তা হলে শুধু জিমে গিয়ে কঠিন ব্যায়াম নয়, এমন কিছু ব্যায়াম করতে হবে যা মেদ ঝরিয়ে পেশিকে টানটান রাখবে। ফলে চেহারার গড়ন সুন্দর হবে, দেখতেও ভাল লাগবে।
ওজন কমাতে অনন্ত ও নীতা অম্বানীকে দু’টি বিশেষ ব্যায়াম শিখিয়েছিলেন বিনোদ। জানিয়েছেন, এই ব্যায়ামের নাম ‘যোদ্ধা পোজ়’। কোমর, ঊরু ও নিতম্বের পেশির জন্য এই ব্যায়াম খুবই উপযোগী। ভারতীয় নারী ও পুরুষের শরীরের নিম্নাংশে মেদ জমে বেশি। তলপেট, তোমর, নিতম্ব ও ঊরুতে চর্বির স্তর জমা হয়। এর জন্য চেহারা বেশি ভারী লাগে দেখতে। শরীরের নিম্নাংশের মেদ ঝরানো সহজ নয়। অনেকেই আছেন যাঁরা ভারী ওজন তুলতে চান না। সে ক্ষেত্রে ‘যোদ্ধা পোজ়’ উপযোগী। একাধারে যোগাসনের পদ্ধতি, অন্যদিকে স্ট্রেচিংও। শুধু শরীরের নিম্নাংশ নয়, সারা শরীরের পেশির জোর বৃদ্ধিতে এই ব্যায়ামের তুলনা নেই। তবে মালাসনের পদ্ধতি কিছুটা বদলে ও সঙ্গে বীরভদ্রাসনের পদ্ধতি জুড়ে তিনি এই ব্যায়ামের সহজ পদ্ধতি তৈরি করেছেন।
আরও পড়ুন:
কেমন ব্যায়ামের পদ্ধতি?
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। দুই পায়ের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান থাকবে।
দুই পায়ের গোড়ালি উঁচু করে পরস্পরের সঙ্গে ঠেকাতে হবে।
শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে দুই পা দু’দিকে দিয়ে, হাঁটু মুড়ে উবু হয়ে বসতে হবে।
হাত দু’টি থাকবে নমস্কারের ভঙ্গিতে। এই পদ্ধতিতে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে।
প্রণাম করার ভঙ্গিতে দু’টি হাত এমন ভাবেই রাখবেন যেন দু’টি কনুই দুই হাঁটু স্পর্শ করতে পারে।
টানা ৩০-৪০ সেকেন্ড এই পদ্ধতিতে থাকতে হবে।
সামনে ঝুঁকে দুই হাতের তালু পায়ের সামনের মাটিতে রাখুন। সামান্য লাফিয়ে দুই পা দু’দিকে প্রসারিত করুন।
এ বার ডন বৈঠক করার ভঙ্গিতে হাতে চাপ দিয়ে শরীর নামিয়ে আনুন। ফের সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠুন।
২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবারও পদ্ধতিটি শুরু থেকে করুন।
ওজন কমাতে এই ব্যায়াম খুব কার্যকরী। তবে হাঁটুর ব্যথা থাকলে এই আসন এড়িয়ে চলাই ভাল। কোমর, নিতম্ব, হাঁটু বা গোড়ালির অস্থিসন্ধির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই আসনটি করা যাবে।