Advertisement
E-Paper

সন্তানজন্মের পর আপাত স্বাভাবিক বিষয়ই হতে পারে চিন্তার কারণ, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সন্তানজন্মের পর মায়ের জীবন ছোট্ট প্রাণটিকে কেন্দ্র করেই এগোতে থাকে। শারীরিক-মানসিক বদল আসে। প্রসবের ধকল থাকে। এই সময় কোনটি হওয়া স্বাভাবিক কোনটি নয়? কখন বুঝবেন, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৭
সন্তান প্রসবের পরে অল্প-বিস্তর  শারীরিক সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু কখন তা চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে?

সন্তান প্রসবের পরে অল্প-বিস্তর শারীরিক সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু কখন তা চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

সন্তানজন্মের পর বদলে যায় অনেক কিছুই। মায়ের জীবন ছোট্ট প্রাণটিকে কেন্দ্র করেই এগোতে থাকে। তার কান্না, হাসি, ভাল থাকা-মন্দ থাকাতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েন মায়েরা। আর এমন সময়ে মেজাজে বদল, ক্লান্তি, শরীরে ব্যথা-যন্ত্রণা, বেশি দিন ধরে রক্তপাত— সবই যেন ‘স্বাভাবিক’ হয়ে ওঠে।

কিন্তু যা স্বাভাবিক বলে ভাবা হচ্ছে, সত্যি কি তা এতটাই সাধারণ, হয়েই থাকে? সন্তান প্রসবের পর কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে বুঝবেন তা ততটাও স্বাভাবিক নয়, দরকার রয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শের?

ক্লান্তি: সন্তান প্রসবের ধকল রয়েছে, তার উপর অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে সেই ক্ষত সারতেও সময় লাগে। তবে চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, তা বড় জোর ৬-৮ সপ্তাহের জন্য। নিয়ম মেনে খাওয়া-ঘুম এবং বিশ্রামের পরেও যদি মনে হয়, ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়ছে, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। এই সময় আয়রনের অভাব হতে পারে। ভিটামিনেরও ঘাটতি হয় কারও কারও। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে রক্তাল্পতায় ভুগতে পারেন সদ্য মায়েরা। তাই সমস্যা কেন হচ্ছে, তার প্রতিকার কী, একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারবেন। মা ক্লান্ত হয়ে পড়লে বা তাঁদের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-খনিজের অভাব হলে তার প্রভাব পড়বে শিশুর স্বাস্থ্যেও।

অতিরিক্ত রক্তপাত: সন্তান প্রসাবের পরে যোনিপথে রক্তক্ষরণ স্বাভাবিক। যাকে বলা হয় লোকিয়া। তবে যত সময় এগোয়, তার মাত্রা কমতে থাকে। তা ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু তার পরেও লম্বা সময় ধরে রক্তক্ষরণের নেপথ্যে থাকতে পারে সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। এ ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা: প্রসবের পরে হাঁচলে বা কাশলে কি প্রস্রাব বেরিয়ে যাচ্ছে, সেটি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না? মাসখানেক এমনটা হলে এক রকম, তার পরেও সমাধান না হলে, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার। ‘পেলভিক ফ্লোর মাসল’ দুর্বল হয়ে গেলে প্রস্রাব ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ঝাঁকুনি, হাঁচি-কাশিতে তা বেরিয়ে যায়। এর জন্য ব্যায়াম বা ফিজ়িওথেরাপির প্রয়োজন হয়।

মেজাজ বদল: সন্তান প্রসাবের পর আচমকা অবসাদ অস্বাভাবিক নয়। একে বলা হয় ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’। শিশুর জন্মের পরে চারপাশের অনেক কিছুই বদলে যায়। মায়েদের জীবন একেবারেই সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এত বদলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চাপ অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনে অবসাদ। তা ছাড়া, হরমোনের ওঠা-পড়ার ভূমিকাও থাকে। তাই মেজাজ হারানো বা আচমকা চুপচাপ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক না হলেও, তা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন। এই পর্যায়ে অনেক সময় কাউন্সেলিংয়েরও দরকার হয়।

কোমরের নীচে, তলপেটে ব্যথা: প্রসবের পরে কোর মাংসপেশি যে জায়গায় থাকে, কোমরের নীচ, তলপেট, পেলভিকে ব্যথা হয়ই। কিন্তু তা যদি মাত্রাছাড়া হয় এবং মাসের পর মাস হতে থাকে তা হলেও সতর্ক হতে হবে। বসার ভঙ্গি ঠিক না থাকলে, পেলভিক ফ্লোরের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে এমনটা হতে পারে। এ জন্য সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়ামের প্রয়োজন বা ফিজ়িওথেরাপির দরকার হতে পারে, যা এক জন চিকিৎসকই বুঝতে পারবেন।

Postpartum depression Health Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy