Advertisement
E-Paper

সূর্য, তারা, ছায়াপথকে আরও ভাল ভাবে জানতে ৪ টেলিস্কোপের আধুনিকীকরণ! বাজেটে ঘোষণা সীতারমণের

২০২৫ সালের বাজেটে মহাকাশ গবেষণার খাতে ১৩,৪১৬.২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের বাজেটে সেই পরিমাণ ছিল ১৩০৪২.৭৫ কোটি টাকা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৭
লাদাখের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

লাদাখের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ছবি: অ্যাপসস।

মহাকাশ গবেষণা যে তাদের অন্যতম গুরুত্বের বিষয়, ২০২৫ সালের বাজেট পেশের সময়েই বুঝিয়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটেও সেই ধারা বজায় থাকল। দেশে চারটি টেলিস্কোপ এবং জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র স্থাপন এবং সংস্কারের কথা রবিবার বাজেট পেশের সময় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এ জন্য বরাদ্দ হয়েছে বাজেটে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে বিজ্ঞানীরা আরও ভাল ভাবে নজর রাখতে পারবেন সূর্য, নক্ষত্র, ছায়াপথ সর্বোপরি মহাকাশের উপরে। মহাকাশ গবেষণায় গোটা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন এ দেশের বিজ্ঞানীরা।

রবিবার বাজেট পেশ করার সময়ে নির্মলা জানান, দেশে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিতে চায় মোদী সরকার। নতুন এই বিনিয়োগের ফলে এ দেশের বিজ্ঞানীদের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে তারাও মহাকাশ গবেষণার পথে এগোবে। সারা দুনিয়ায় জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে যে গবেষণা চলছে, তাতে ভারত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারবে।

বাজেটে যে চারটি টেলিস্কোপের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল— ন্যাশনাল লার্জ সোলার টেলিস্কোপ (এনএলএসটি), ন্যাশনাল লার্জ অপটিক্যাল ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ (এনএলওটি), হিমালয়ান চন্দ্র টেলিস্কোপ, কসমস ২ প্ল্যানেটোরিয়াম।

ন্যাশনাল লার্জ সোলার টেলিস্কোপে আরও ভাল ভাবে ধরা দেবে সূর্য। বিজ্ঞানীরা তাতে চোখ দিয়ে দেখতে পাবেন সূর্যে কী চলছে, চৌম্বকক্ষেত্র, মহাকাশের আবহাওয়া। মহাকাশের আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে কৃত্রিম উপগ্রহে। পৃথিবীতে যোগাযোগের মাধ্যমও প্রভাবিত হয়। সেই সংক্রান্ত সমস্যা এড়ানো যাবে, যদি তাই মহাকাশের আবহাওয়ায় ভাল ভাবে নজর রাখা যায়। সেই কাজটা করবে এনএলএসটি।

ন্যাশনাল লার্জ অপটিক্যাল ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ মহাকাশে খুব দূরের জিনিসে নজর রাখতে সাহায্য করবে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের। অন্য সৌরজগতের গ্রহ, ছায়াপথ, নীহারিকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন তাঁরা। এর ফলে মহাজাগতিক বিষয়ে নতুন নতুন গবেষণা সম্ভব হবে।

হিমালয়ান চন্দ্র টেলিস্কোপের আপগ্রেডেশন বা উন্নতিসাধন হবে বলে রবিবার জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। লাদাখে পৃথিবীর উচ্চতম মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানেই রয়েছে এই টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রটির আপগ্রেডেশন হলে তা আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে। বিশেষ আবহাওয়াতেও তা পর্যবেক্ষণে সমর্থ হবে।

কসমস ২ প্ল্যানেটোরিয়ামটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। মহাকাশ বিজ্ঞান এবং গবেষণাকে সাধারণ মানুষ, বিশেষত যুবসমাজের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে প্ল্যানেটোরিয়ামটি। তাদের আগ্রহ বাড়াবে। মনে করা হচ্ছে, বাজেটের এই বরাদ্দ আদতে দেশে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার পথ আরও খুলে দেবে। সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানের দিকে ঝুঁকতে সাহায্য করবে।

২০২৫ সালের বাজেটে মহাকাশ গবেষণার খাতে ১৩,৪১৬.২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের বাজেটে সেই পরিমাণ ছিল ১৩০৪২.৭৫ কোটি টাকা। তার চেয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছিল গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের বাজেটে। তার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল বেসরকারি সংস্থার মহাকাশ গবেষণায় অংশগ্রহণের খাতে। এ বার মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দিল কেন্দ্র। যাতে আরও ভাল নজর রাখা যায় মহাকাশে, সেই মতো চালানো যাবে নতুন নতুন গবেষণা।

Nirmala Sitharaman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy