Advertisement
E-Paper

এমন কোনও জীবও যে পৃথিবীতে ছিল, জানতেনই না কেউ! অদ্ভুত-দর্শন বিলুপ্ত প্রাণীর জীবাশ্মের সন্ধান মিলল আমাজ়নে

গবেষকেরা এই প্রজাতির নাম রেখেছেন ট্যানিকা অ্যামনিকোলা। স্থানীয় গুয়ারান ভাষায় ‘ট্যানিকা’ শব্দের অর্থ চোয়াল। ‘অ্যামনিকোলা’ বলতে বোঝায়, এমন কোনও প্রাণী যারা নদীতে বাস করে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৮
আমাজ়নে মিলল অদ্ভুত চোয়ালের এক প্রাণীর জীবাশ্ম।

আমাজ়নে মিলল অদ্ভুত চোয়ালের এক প্রাণীর জীবাশ্ম। ছবি: সংগৃহীত।

এমন কোনও প্রাণী এক কালে পৃথিবীতে ছিল, তা এতদিন জানতেনই না কেউ। প্রায় ২৭ কোটি বছর আগের কথা। পৃথিবীতে তখন মানুষের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। সেই সময় পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত অদ্ভুত-দর্শন এই প্রাণীরা। সম্প্রতি আমাজ়নের জঙ্গলে সেই বিলুপ্ত প্রাণীর জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

এদের বিশেষত্ব মুখের চোয়ালে। বর্তমানে পৃথিবীতে যত জীবিত প্রাণী রয়েছে, তাদের কারও সঙ্গেই এই প্রাণীর চোয়ালের মিল নেই। এদের চোয়াল অদ্ভুত ভাবে বাঁকানো। শুধু তা-ই নয়, এদের নীচের চোয়ালের দাঁতগুলি উপরের দিকে ওঠেনি। চোয়াল থেকে বাইরের দিকে বেরিয়ে এসেছে। মুখের ভিতরের দিকেও দাঁতের সারি। তবে সেগুলি আকারে ছোট ছোট। অদ্ভুত-দর্শন চোয়ালের এই প্রাণীর বাকি চেহারা কেমন ছিল, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এরা ছিল চারপেয়ে।

শিকাগোর ফিল্ড মিউজ়িয়ামের গবেষক জেসন পার্ডো এই জীবাশ্মগুলির সন্ধান পান। ব্রাজ়িলে আমাজ়নের জঙ্গলে এক শুকিয়ে যাওয়া নদীখাত থেকে জীবাশ্মগুলি খুঁজে পান তিনি। অদ্ভুত চোয়ালের এই প্রাণীর মোট ৯টি জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন পার্ডো এবং তাঁর সঙ্গীরা। গবেষকেরা এই প্রজাতির নাম রেখেছেন ট্যানিকা অ্যামনিকোলা। স্থানীয় গুয়ারান ভাষায় ‘ট্যানিকা’ শব্দের অর্থ চোয়াল। ‘অ্যামনিকোলা’ বলতে বোঝায় এমন কোনও প্রাণী, যারা নদীতে বাস করে। ‘প্রসিডিংস অফ রয়্যাল সোসাইটি বি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

ট্যানিকার শারীরিক গড়ন কেমন ছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মুখের অংশ ছাড়া এদের কঙ্কালের বাকি অংশের কোনও জীবাশ্ম এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পার্ডো এবং তাঁর সঙ্গীরা আমাজ়নের জঙ্গলে অভিযানের সময়ে শুকিয়ে যাওয়া এক নদীখাত থেকে প্রথমে একটি জীবাশ্ম খুঁজে পান। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আরও আটটি চোয়ালের জীবাশ্মের সন্ধান পান। ওই নদীখাত থেকেই। প্রতিটি চোয়ালের জীবাশ্মই প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা। কিন্তু সমস্যা হল— এই চোয়ালের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়, এমন কোনও হাড়ের সন্ধান মেলেনি। ফলে ট্যানিকার সম্পূর্ণ কঙ্কালের অবয়ব পুনর্গঠন করা যায়নি।

তবে এই চোয়ালগুলি যে একই প্রাণীর তা নিয়ে গবেষকদের মনে কোনও দ্বিধা নেই। কারণ, প্রতিটি চোয়ালের জীবাশ্মেই একই ধরনের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সবগুলি চোয়ালই বাঁকানো। প্রথম বা দ্বিতীয় জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়ার পরে বিষয়টি খুব একটা স্পষ্ট ছিল না পার্ডোদের কাছে। চোয়ালগুলিতে কেন এই ধরনের বিকৃতি রয়েছে, তা ভাবিয়ে তুলছিল তাঁদের। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন আরও জীবাশ্মের সন্ধান মেলে এবং সবগুলিতেই একই ধরনের বিকৃতি দেখা যায়— তখন বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় তাঁদের কাছে। পার্ডোর কথায়, “এই বাঁকানো চোয়াল কি কোনও ধরনের বিকৃতি? প্রথমে সেটিই আমরা ভাবছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের কাছে আরও চোয়াল এল। ন’টি চোয়াল। সবগুলিই বাঁকানো। এর মধ্যে কিছু কিছু জীবাশ্ম খুব ভাল ভাবে সংরক্ষিত ছিল। ফলে এগুলি কোনও বিকৃতি নয়। প্রাণীটির চোয়ালের গড়নই এই রকম ছিল।”

পার্ডোর কথায়, “এটি সত্যিই এক অদ্ভুত প্রাণী। অতীতে এমন কোনও প্রাণী যে ছিল, তা আমরা এত দিন জানতামই না।” এই প্রাণীরা যে সময়ে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াত তখন ব্রাজ়িল কিংবা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশও তৈরি হয়নি। ওই সময়ে পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি অতিমহাদেশ (সুপার কন্টিনেন্ট)। যেমন দক্ষিণ গোলার্ধে ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড বা গন্ডোয়ানা অতিমহাদেশ। আনুমানিক ৫০-৫৫ কোটি বছর আগে এটি তৈরি হয়েছিল। গন্ডোয়ানাল্যান্ড থেকেই পরবর্তী সময়ে ভেঙে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা-সহ বিভিন্ন মহাদেশ তৈরি হয়। সেই গন্ডোয়ানাল্যান্ডের সময়ের প্রাণী ছিল ট্যানিকা।

প্রাথমিক ভাবে গবেষকদের অনুমান, ট্যানিকা তৃণভোজী প্রাণী ছিল। চোয়াল এবং দাঁতের অদ্ভুত গড়ন দেখে অনুমান করা হয়, এরা গাছপালা পিষে খেত। তবে এরা ঠিক কী ধরনের প্রাণী ছিল, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পার্ডো এবং তাঁর সঙ্গীরা। বিশেষ করে এদের শরীরের বাকি অংশের জীবাশ্ম পাওয়া গেলে তা ট্যানিকাদের বিষয়ে আরও বিশদ তথ্যের জোগান দেবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Fossils Amazon Forest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy