অ্যামাজ়নের পর ওরাকল। ই-কমার্স সাইটের পাশাপাশি এ বার বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে এই মার্কিন টেক জায়ান্ট। সূত্রের খবর, অচিরেই সেখানে কাজ হারাবেন অন্তত ৩০ হাজার জন। বর্তমানে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির জন্য তথ্যভান্ডার (ডেটা সেন্টার) নির্মাণে বিপুল লগ্নি করেছে ওরাকল। সেই কারণেই কি কর্মী সঙ্কোচন করতে চলেছে ওই মার্কিন টেক জায়ান্ট? তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।
সম্প্রতি, ওরাকলের ব্যাপারে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্ক টিডি কাওয়েন। সেখানেই মার্কিন টেক জায়ান্টটি তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণে বিপুল খরচ করতে চলেছে বলে খবর প্রকাশ্যে আসে। যদিও ওই রিপোর্টে ওরাকলের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে ওই বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্ক। টিডি কাওয়েনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত টেক জায়ান্টটির গ্রাহক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫ সাল) স্যাম অল্টম্যানের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি ওপেনএআইয়ের জন্য তথ্যভান্ডার তৈরির প্রকল্পে যুক্ত হয় ওরাকল। এর জন্য টিডি কাওয়েনের থেকে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার নিয়েছিল তারা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণ প্রকল্পে মার্কিন টেক জায়ান্টটিকে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে আমেরিকার একাধিক ব্যাঙ্ক। ফলে ওরাকলের আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়ার ষোলো আনা আশঙ্কা রয়েছে। টিডি কাওয়েনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই কারণেই বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই টেক জায়ান্ট। এতে ৮০০ থেকে ১,০০০ কোটি ডলারের প্রবাহ তাদের কোষাগারে বহাল থাকবে বলে মনে করছে ওই বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্ক।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে প্রকাশ্যে মুখে রা কাটেননি ওরাকল কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণের যে কাজ মার্কিন টেক জায়ান্টটি হাতে নিয়েছে, তাতে আরও টাকা ধার করতে হতে পারে তাদের। বর্তমানে সেটাই জোগাড় করার চেষ্টা করছে তারা। পাশাপাশি, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির জন্য কিছু তথ্যভান্ডার লিজ়ে নিয়েছিল ওরাকল। সেগুলির ব্যবহারও আপাতত বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট।
২০১৫ সালের শেষের দিকে এক ধাক্কায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে ওরাকল। এতে ১৬০ কোটি ডলার বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল তারা। ১১ বছরের মাথায় মার্কিন টেক জায়ান্টটি যে আরও বড় ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১৬ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে অ্যামাজ়ন। ই-কমার্স সংস্থাটির ওই পদক্ষেপের নেপথ্যেও ছিল কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি।