কলকাতার রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার চরিত্রবদল! শহরে আবাসন কিনতে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন অভিজ্ঞ লগ্নিকারীদের একাংশ। পিছিয়ে নেই প্রথম বার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকেরাও। তার জেরে গঙ্গাপারের শহর এবং তার আশপাশের এলাকায় দিন দিন বাড়ছে রিয়্যাল এস্টেটের চাহিদা। ফলে অচিরেই এখানে গৃহনির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কলকাতাকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। এ দেশের পুরনো শহরগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী অন্যতম। তা ছাড়া এ শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেলে দেওয়ার নয়। এর টানে ভিন্রাজ্যের অনেকে গঙ্গাপারের শহরে আবাসন কিনতে আসছেন বলে জানিয়েছে রিয়্যাল এস্টেটের একাধিক বাজার নজরদার সংস্থা।
কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ফ্ল্যাটের দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি। গত কয়েক বছরে সেখানে বেড়েছে জীবনযাত্রার খরচও। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, সেই কারণেই আবাসনে স্বপ্নের ঘর পেতে ক্রমশ শহরতলির দিকে ঝুঁকছেন ফ্ল্যাটের ক্রেতারা। ফলে নিউ টাউন, রাজারহাট বা গড়িয়ার মতো এলাকাগুলি নতুন গৃহনির্মাণ প্রকল্পের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে।
নজরদার সংস্থাগুলি জানিয়েছে, শহরতলিতে ফ্ল্যাট কেনার নেপথ্যে আরও একটি যুক্তি কাজ করছে। বর্তমানে আয়তনে বড় ফ্ল্যাট পছন্দ করছেন বহু ক্রেতা। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে সেই ধরনের বাজেট-বান্ধব আবাসন পাওয়া দুষ্কর। তা ছাড়া কলকাতার যানজট এবং কোলাহল এড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। শহরতলির আবাসনে রয়েছে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সুখ’।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত কয়েক বছরে নতুন মেট্রো প্রকল্প, এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলি কলকাতার আশপাশের এলাকার ভোল পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। একসময় ওই জায়গাগুলিকেই প্রান্তিক বলে মনে করা হত। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জেরে বর্তমানে সেখানকার জমির দাম দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জেরে অনেকেই সেখানে ভাড়া নিচ্ছেন বা কিনে ফেলছেন ফ্ল্যাট।
অন্য দিকে আবাসনের নকশাতেও নির্মাণকারী সংস্থাগুলি বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। ফ্ল্যাটকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্ম এবং পেশাদারদের কাছে সেগুলি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তা ছাড়া ‘রেডি টু মুভ ইন’ বা বসবাসের জন্য পুরোপুরি তৈরি, এই ধরনের ফ্ল্যাটই বেশি পছন্দ করছেন তাঁরা। সেই কথা মাথায় রেখে তাঁদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিতে দেরি করছে না এখানকার অধিকাংশ রিয়্যাল এস্টেট সংস্থা।