Advertisement
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

স্টিফেন হকিং এক বিস্ময় প্রতিভার নাম

১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্ম হয় আধুনিক বিজ্ঞানের এই অন্যতম সেলিব্রিটির। গ্যালিলিওর জন্মের ঠিক ৩০০ বছর পরে। গরিব পরিবারের হলেও হকিংয়ের বাবা, মা দু’জনেই পড়তেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন মেডিসিনের ছাত্র। মা পড়তেন রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দর্শন। হকিংরা ছিলেন চার ভাই বোন।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮ ১৩:১৪
Share: Save:

যন্ত্রচালিত একটি হুইলচেয়ার। ডান দিকে হেলানো ঘাড়। হুইলচেয়ারের হাতলের কন্ট্রোলের উপর রাখা হাত। বিশ্ব তাঁকে এই অবস্থাতেই দেখেছে বছরের পর বছর। মৃত্যুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কী ভাবে জীবনের আস্বাদ নেওয়া যায়, তাঁর থেকে বড় উদাহরণ বোধহয় আর হয় না। তিনি, স্টিফেন উইলিয়াম হকিং দেখিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে বসেই কী ভাবে মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো যায়।

১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্ম হয় আধুনিক বিজ্ঞানের এই অন্যতম সেলিব্রিটির। গ্যালিলিওর জন্মের ঠিক ৩০০ বছর পরে। গরিব পরিবারের হলেও হকিংয়ের বাবা-মা দু’জনেই পড়তেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন মেডিসিনের ছাত্র। মা পড়তেন রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দর্শন। হকিংরা ছিলেন চার ভাই-বোন।

তবে নিয়তি যেন হকিংয়ের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। ১৯৬২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে মোটর নিউরন নামে স্নায়ুর এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন হকিং। মোটর নিউরনের একটি রোগ অ্যামিওট্রপিক লেটারেল স্কেলরোসিস-এ (এএলএস) আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে চিকিত্সকেরা বলেছিলেন, দু’বছরের বেশি বাঁচা সম্ভব নয় হকিংয়ের। এর পর থেকে তাঁর পুরো জীবনই কেটেছে হুইলচেয়ারে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েও কম্পিউটার স্পিচ সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলতেন তিনি।

মানসিক জোর যে ঠিক কতটা ছিল, তার প্রমাণ মেলে এএলএস নিয়ে হকিংয়ের করা এক মন্তব্যে। বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীকে এক বার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এএলএস-এর মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত আপনি। কী করে সামলান এত কিছু? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমার এই রকম কোনও রোগ আছে তা অনুভবই করি না। চেষ্টা করি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন কাটাতে। আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, এমন কোনও কিছুই আমি পাত্তা দিই না।”

আরও পড়ুন: প্রয়াত স্টিফেন হকিং

হকিংয়ের কাজের বেশির ভাগ অংশ জুড়েই ছিল আপেক্ষিকতাবাদ, কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং মহাবিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র ক্ষুদ্র কণা ও তাদের চরিত্র এবং অবশ্যই ব্ল্যাক হোল। ১৯৭৪ সালে ব্ল্যাক হোলের উপর তাঁর বিখ্যাত থিওরি ‘হকিং রেডিয়েশন’ সামনে আনেন। সেই বছরই মাত্র ৩২ বছরে বয়সে রয়্যাল সোসাইটির ফেলো হন তিনি। ১৯৭৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের লুকেসিয়ান প্রফেসর হন। এই পদে ছিলেন আইজ্যাক নিউটনও।

বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। বইটির শুধুমাত্র ইংরেজি সংস্করণই এক কোটি কপি বিক্রি হয়েছিল। ২০০১ সালের মধ্যে ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘দ্য ইউনিভার্স ইন আ নাটশেল’।

রাজনীতি নিয়েও সরব হতে দেখা গিয়েছে এই বিজ্ঞানীকে। মার্কিন নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বুদ্ধিমত্তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সরব হয়েছিলেন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধেও।

১৯৬৫ সালে জেন ওয়াইল্ডকে বিয়ে করেছিলেন হকিং। তাঁদের তিন সন্তান। ২৫ বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি তাঁর নার্স এলাইন ম্যাসনকে বিয়ে করেন। যদিও এ সম্পর্কও বেশি দিন টেকেনি। ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয় সিনেমা ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE