Advertisement
E-Paper

পাঁচ অঙ্গ দান করে পাঁচ জনকে ‘পুনর্জন্ম’ দিয়ে গেলেন ‘মা’

‘মা’ তাঁর ‘রূপ’ দেখালেন বিসর্জনের দিন, ‘দশেরা’য়! দশ দিক থেকে দশ দেবতার দেওয়া অস্ত্রে সেজে উঠে যাঁর ‘দশভূজা’ রূপ, তেমনই এক ‘মা’, ব্রেন ডেড হয়ে যাওয়া মহারাষ্ট্রের ৬৩ বছর বয়সী এক মহিলার পাঁচ-পাঁচটি অঙ্গে ‘প্রাণ’ পেয়ে গেলেন পাঁচ জন রোগী। বিসর্জনের দিনই, তাঁর পাঁচ-পাঁচটি অঙ্গ দিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়ার জন্য পাঁচ জন রোগীর হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে গেলেন কোলাপুরের এক মা!

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৬ ১৬:১৬
কোলাপুরের হাসপাতালে মায়ের শরীর থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক অঙ্গ

কোলাপুরের হাসপাতালে মায়ের শরীর থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক অঙ্গ

‘মা’ তাঁর ‘রূপ’ দেখালেন বিসর্জনের দিন, ‘দশেরা’য়!

দশ দিক থেকে দশ দেবতার দেওয়া অস্ত্রে সেজে উঠে যাঁর ‘দশভূজা’ রূপ, তেমনই এক ‘মা’, ব্রেন ডেড হয়ে যাওয়া মহারাষ্ট্রের ৬৩ বছর বয়সী এক মহিলার পাঁচ-পাঁচটি অঙ্গে ‘প্রাণ’ পেয়ে গেলেন পাঁচ জন রোগী। বিসর্জনের দিনই, তাঁর পাঁচ-পাঁচটি অঙ্গ দিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়ার জন্য পাঁচ জন রোগীর হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে গেলেন কোলাপুরের এক মা!

মহারাষ্ট্রে কোলাপুরের রেডিওলজিস্ট সন্তোষ সারুদকরের ৬৩ বছর বয়সী মায়ের ডান হাত আর পা’টা হঠাৎই একেবারে অচল, অসাড় হয়ে যায়। দ্রুত তাঁকে ভর্তি করানো হয় অ্যাস্টর আধার হসপিটালে। সেখানে অপারেশনের টেবিলে ওই মাকে নিয়ে গিয়ে ডাক্তাররা দেখেন, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। এক বার অন্তত শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক। শুরু হল অস্ত্রোপচার। কিন্তু ডাক্তাররা যা চেয়েছিলেন, তা হল না। কোলাপুরের মা ধীরে ধীরে ডাক্তারদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন। ছেলে রেডিওলজিস্ট সন্তোষ সারুদকরকে ডেকে ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন, বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্ভব হয়নি। তাঁর মায়ের ব্রেন ডেড হয়ে গিয়েছে। তাঁর আর বাঁচার সম্ভাবনা নেই।

কিন্তু সেটাই শেষ নয়। বরং সেই ‘শেষ’ থেকেই শুরু অন্যদের প্রাণ বাঁচানোর প্রচেষ্টার। রেডিওলজিস্ট সারুদকরের পরিবার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, মা যখন চলেই যাচ্ছেন, তখন তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি দিয়ে বরং প্রাণ বাঁচিয়ে যান বিপন্নদের। তাতে বিপন্নরা তো বাঁচবেনই, সারুদকরের মাও ‘বেঁচে থাকবেন’! সারুদকরের পরিবারের তরফে আর্জি জানানো হল হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষের কাছে।

অ্যাস্টর আধার হসপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর উল্লাস দামলের কথায়, ‘‘ওঁরা আমাকে বললেন। কিন্তু আমাদের এমন কোনও অনুমতি ছিল না। আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। আর খুব তাড়াতাড়ি বিশেষ অনুমতি পেয়েও গেলাম। ওই মহিলার শরীর থেকে একে একে তুলে নেওয়া হল দু’টি কিডনি, লিভার, দু’টি চোখ। অপারেশন শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে ন’টায়। শেষ হল দু’টো নাগাদ। সাড়ে চার ঘণ্টার ওই অপারেশন শেষ হওয়ার পর পরই মায়ের শরীর থেকে বের করে আনা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি একটি বিমানে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুণের একটি হাসপাতালে। সেখানে পাঁচ জন রোগীর ওই পাঁচটি অঙ্গের জরুরি প্রয়োজন ছিল। কাউকে দেওয়া হল লিভার, কাউকে কিডনি, কাউকে বা সারুদকরের মায়ের চোখের রেটিনা।’’

কোলাপুরের মতো ছোট্ট একটা শহরে এই প্রথম কোনও মৃত্যুপথযাত্রী অঙ্গদান করলেন।

আর কোলাপুরের সেই মায়ের দেওয়া ‘অস্ত্র’ই জীবনযুদ্ধে লড়ার হাতিয়ার হয়ে উঠল পাঁচ-পাঁচ জন রোগীর! মায়ের বিসর্জনের দিন, ‘দশেরা’য়!

আরও পড়ুন- কোটিপতি এই ভারত-কন্যাদের চেনেন?

Organs Of 65-Year-Old Brain-Dead Maharashtra Woman Organs Brain-Dead Maharashtra Woman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy