Advertisement
E-Paper

হেঁশেলে পুরুষও

ছড়ায় কন্যেদের কথা আছে, কিন্তু কন্যেরাই কি শুধু রাঁধেন? ঘরের রান্না কন্যেদের, বাইরের রান্না পুরুষদের— রান্নার চাকরি মহাভারতের কাল থেকেই পুরুষদের জন্য। দ্রৌপদীর রান্নার বেজায় খ্যাতি, কিন্তু পাণ্ডবরা যখন বিরাট রাজ্যে অজ্ঞাতবাস নিলেন, তখন ভীম নিজের কী পরিচয় দিলেন?

বিশ্বজিৎ রায়

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:০৭

ছড়ায় কন্যেদের কথা আছে, কিন্তু কন্যেরাই কি শুধু রাঁধেন? ঘরের রান্না কন্যেদের, বাইরের রান্না পুরুষদের— রান্নার চাকরি মহাভারতের কাল থেকেই পুরুষদের জন্য। দ্রৌপদীর রান্নার বেজায় খ্যাতি, কিন্তু পাণ্ডবরা যখন বিরাট রাজ্যে অজ্ঞাতবাস নিলেন, তখন ভীম নিজের কী পরিচয় দিলেন? উপেন্দ্রকিশোরের ছোটদের মহাভারতে ভীমের উক্তি ‘আমার নাম বল্লভ, মহারাজ যুধিষ্ঠিরের পাচক ছিলাম। একটু আধটু পালোয়ানিও জানি।’ আর দ্রৌপদী? রানি সুদেষ্ণার চুল বাঁধা মালা গাঁথার কাজ নিলে। ভীম বললে, সে বিরাট রাজ্যের রাঁধুনিদের চেয়ে ঢের ভাল রান্না করে। এ যেন রাজ্যে রাজ্যে রান্না প্রতিযোগিতা, যেমন বাঙালি ঘটি-বাঙাল করত। ভীম রাজবাড়িতে রান্না ভালই করেছিল, না হলে শেফের চাকরি যেত। তবে ঘরে ঘরে মা-মাসিরা শাক-পাতা তুলে যৎসামান্য কিছু দিয়ে খাবারে সোয়াদ এনে মাসের শেষে কম টাকায় যে ভাবে সংসার চালাতেন, সে কৌশল পুরুষ ভীম কি জানতেন?

এক সন্ন্যাসী জানতেন। ছবি লিখিয়ে অবন ঠাকুরের ‘রাজ কাহিনী’তে সন্ন্যাসীরাজা মহাবীর হরোয়া শংকলের কাছে রাতদুপুরে আশ্রয় চাইলেন যোধরাও। এদিকে একটু খুদও নেই, সেদিনের চাল ডাল বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যোধরাওরা খাবেন কী? সন্ন্যাসীদের কাপড় রাঙাবার জন্য এক রাশ মূঁজলতা বাঁধা ছিল। সন্ন্যাসী শংকল রাজর্ষি নিজে হাতে গাছতলায় মূঁজলতার তরকারি রাঁধতে বসলেন। মোটা আটার রুটি আর সেই তরকারি। আহা! সবাই বললে, মূঁজশাকের এমন রান্না হয় তারা জানতই না, এবার থেকে রাতে খাবে শুধু এই তরকারি আর রুটি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy