জুভেন্তাসের ম্যানেজার হিসেবে ঘরের মাঠে মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির শেষ ম্যাচের রাতেই আলোচনার কেন্দ্রে জোসে মোরিনহো! ইটালির সংবাদমাধ্যমের দাবি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোই নাকি তাঁকে চাইছেন।

সেরি-আ চ্যাম্পিয়ন আগেই হয়ে গিয়েছিল জুভেন্তাস। বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে রোনাল্ডোদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া। কিন্তু জয়ের সরণিতে ফেরা হল না তাঁদের। রবিবার রাতে ৩৯ মিনিটে ইয়োসিফ ইলিচিচের গোলে এগিয়ে যায় আটলান্টা। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ৮০ মিনিটে গোল করে জুভেন্তাসের হার বাঁচান মারিয়ো মাঞ্জুকিচ। এই নিয়ে টানা আট বার সেরি-আ জিতল জুভেন্তাস। সব মিলিয়ে ৩৫ বার। ইটালির আর কোনও ক্লাবের এই নজির নেই। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। দুই ক্লাবই এখনও পর্যন্ত ১৮ বার করে 

সেরি-আ জিতেছে। পরে সেরা ফুটবলারের ট্রফি হাতে ছবি পোস্ট করে রোনাল্ডো টুইট করেন, ‘‘ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইটালিতে চ্যাম্পিয়ন। এই তিন দেশে সেরা ফুটবলারও। স্বপ্নটা প্রতিদিন যখন বেঁচে থাকে লক্ষ্যপূরণের কোনও শেষ হয় না।’’

রবিবার রাতে ঘরের মাঠে আটলান্টাকে হারাতে না পারার হতাশা অবশ্য ভুলতে বেশি সময় লাগেনি জুভেন্তাসের ফুটবলার ও সমর্থকদের। ম্যাচের পরে মাঠেই ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। রোনাল্ডোর মা মারিয়ো দোলোরেস, বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেস ও ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রও উৎসবে যোগ দেন। তবে উৎসবের মাঝে বিপত্তিও ঘটে যায়। সি আর সেভেনের হাত ফস্কে ট্রফির আঘাত লাগে তাঁর ছেলের কপালে। 

ফুটবলারেরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আলেগ্রিকে বিদায় জানানোর সময়। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয় তাঁকে। ম্যাচের পরে আলেগ্রিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন আন্দ্রেয়া বারজ়াগালি। সাংবাদিক বৈঠকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি জুভেন্তাস ম্যানেজারও। টানা পাঁচ বার জুভেন্তাসকে সেরি-আ চ্যাম্পিয়ন করা আলেগ্রি বলেছেন, ‘‘ফুটবলকে আমি বিদায় জানাচ্ছি না। সাময়িক অবসর নিচ্ছি।’’ জুভেন্তাস কর্তৃপক্ষ যে তাঁকে রাখবে না, তা নাকি আগেই জানতেন আলেগ্রি। তিনি বলছেন, ‘‘গত বৃহস্পতিবার বৈঠকের পরেই আমি জেনে গিয়েছিলাম, পরের মরসুমে জুভেন্তাসে আমি থাকব না। আমাকে তা বলা হয়নি।’’ তিনি যোগ করেছেন, ‘‘জুভেন্তাস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছিল। ম্যানেজার হিসেবে এখানেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু ছয় সপ্তাহে অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। আমি না থাকলেই মনে হয় জুভেন্তাসের ভাল হবে।’’

পরের মরসুমে আলেগ্রি কোথায় কোচিং করাবেন, তার চেয়েও বেশি জল্পনা জুভেন্তাসের নতুন ম্যানেজার কে হবেন, তা নিয়ে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম প্রথমে দাবি করেছিল, আন্তোনিয়ো কন্তে দায়িত্ব নিতে পারেন ইটালির সফলতম ক্লাবের। কিন্তু রোনাল্ডো নাকি রাজি নন। এই পরিস্থিতিতে মোরিনহোকে নিয়ে ইটালির সংবাদমাধ্যমের দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।