আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রিস গেলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে জল ঢেলে দিল ইংল্যান্ড। আরও ভাল করে বললে দুই ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান জেসন রয় এবং জো রুট। শুধু তাই নয়, প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রেকর্ড রান তাড়া করে দলকে জেতালেনও দু’জন।

গেলের ১৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৫ রান পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড ২৩টা ছক্কার সাহায্যে ৩৬০ রানের লক্ষ্য রাখার পরে অনেকেই ভেবেছিলেন ইংল্যান্ডের পক্ষে রান তাড়া করা সোজা হবে না। সোজা ছিলও না। তবে জেসন রয় (৮৫ বলে ১২৩) এবং জো রুটের (৯৭ বলে ১০২) সেঞ্চুরির সাহায্যে আট বল বাকি থাকতেই ৩৬৪-৪ তুলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এটাই সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে কোনও দলের জয়। সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বাধিক রান তাড়া করার নজির। বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিংয়ে এই দাপট ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টকে নিশ্চিত ভাবে অনেক ভরসা যোগাবে পাশাপাশি একই মাঠে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ান ডে-তেও প্রচুর আত্মবিশ্বাস দেবে রুটদের, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন জেসন। সেই ছন্দেই দেখা যায় তাঁকে। রুটের চেয়েও তাঁকেই বেশি বিধ্বংসী দেখিয়েছে ক্রিজে। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ম্যাচে বোলিং আক্রমণে পায়নি কেমার রোচকে। এর আগে টেস্ট সিরিজে ১৮ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-১ জিততে অন্যতম প্রধান ভূমিকা নেন রোচ।

রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের ইনিংসে গতি আনেন জেসনই। ৬৫ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে যা দ্রুততম। পাশাপাশি প্রথম উইকেটে ৯১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন জনি বোয়ারস্টোর সঙ্গে। এর পরে দ্বিতীয় উইকেটেও তাঁর সঙ্গে জো রুটের ১১৪ রানের পার্টনারশিপ হয়। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ২৭ নম্বর ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর বোলিংয়ে যখন জেসন আউট হন, ইংল্যান্ড জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। জো রুটও কম দাপট দেখাননি। ইংল্যান্ড অধিনায়ক অইন মর্গ্যানের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে রুট ১১৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। মর্গ্যান যখন ফিরে যান ৬৫ রানে, ইংল্যান্ড জয় থেকে ৪০ রান দূরে। দলকে সেখান থেকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভুল করেননি রুট আর বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড অধিনায়ক মর্গ্যান বলেছেন, ‘‘ম্যাচটার সব ক্ষেত্রেই আমরা যে ভাবে শান্ত থাকতে পেরেছি তাতে খুশি হয়েছি। শেষ দিকে বোলারেরা খুব ভাল খেলেছে।’’