বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে ভারত কি এক জন বাড়তি বোলার পেয়ে গেল? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া সে রকমই বলছে। আর এই বোলারের নাম বিরাট কোহালি!

সাউদাম্পটনে পৌঁছে বৃহস্পতিবারই প্র্যাক্টিসে নেমে পড়ল ভারত। সেখানে শুরুতেই নেটে বল করতে দেখা গেল কোহালিকে। যা দেখার পরে টুইটারে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের সার্বিক প্রতিক্রিয়া হল, ‘‘ভারত এক জন ষষ্ঠ বোলার পেয়ে গেল!’’ নেটে কোহালিকে অফস্পিন করতে দেখা গিয়েছে। ভারত অধিনায়ক যে আগে বল করেননি, তা নয়। কিন্তু তখন তিনি মিডিয়াম পেস করতেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটও পেয়েছেন কোহালি। ওয়ান ডে-তে চারটে এবং টি-টোয়েন্টিতেও চারটে উইকেট রয়েছে কোহালির ঝুলিতে। 

গত কাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রানি দ্বিতীয় এলিজ়াবেথ এবং প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিশ্বকাপের দশ অধিনায়ক। যে ছবি টুইট করে কোহালি এ দিন লেখেন, ‘‘অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি গত কাল বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রানি এলিজ়াবেথ এবং প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে দেখা করতে পেরে।’’ কোহালির সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের আবদার শুরু হয়ে যায়। অনেকেই টুইটারে লিখতে থাকেন, ‘‘কোহিনুর নিয়ে ফিরতে হবে বিলেত থেকে।’’ 

কোহিনুর নিয়ে কোহালির পক্ষে ফেরা সম্ভব হবে না ঠিকই, কিন্তু বিশ্বকাপ নিয়ে আসার ব্যাপারে তিনি অন্যতম দাবিদার। যে অভিযানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের। এ দিনের নেটে কিছু নতুনত্বও দেখা গেল। ভারতের ফিল্ডিংয়ে যা আমদানি করলেন ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর। ফিল্ডিং কোচের কথায়, সেটা হল, ‘ডাইরেক্ট হিট’ অনুশীলন। 

কী এই অনুশীলন? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিয়োয় শ্রীধর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিভিন্ন কোন থেকে ফিল্ডারদের বলা হয়েছিল এক থ্রোয়ে উইকেট ভাঙতে। যত ক্ষণ না পর্যন্ত ফিল্ডাররা উইকেট ভাঙতে পারবেন, তত ক্ষণ তাঁদের বল মেরে যেতে হবে উইকেটে। শ্রীধর বলেছেন, ‘‘আমাদের ফিল্ডিংয়ের আজ মূল বিষয় ছিল ডাইরেক্ট হিট। যেখানে জোর দেওয়া হয়েছিল, নন স্ট্রাইকার এন্ডের উইকেটে বল মারার উপরে।’’ সেই অনুযায়ী প্রথমে ‘রাউন্ড দ্য ক্লক’ বলে একটা সেশন হয়। যেখানে ছ’রকম জায়গা থেকে ২০বার উইকেট লক্ষ্য করে বল মারতে হয়। শ্রীধর আরও বলেন, ‘‘তার পরে ছোট একটা টেকনিক্যাল সেশন হয়। যেখানে ক্রিকেটারদের বোঝাই, বল ছোড়ার সময় হাতের অবস্থান কী রকম হবে। এক থ্রোয়ে বল উইকেট মারার ক্ষেত্রে হাতের অবস্থানটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ এর পরে আরও একটা বিশেষ ফিল্ডিং সেশন হয়। যা নিয়ে শ্রীধর বলেছেন, ‘‘এর পরে আমরা একটা খেলা খেলি। যেখানে এক টিপে উইকেট ভাঙতে পারলে ছুটি। আর না পারলে, তাকে আবার ফিরে এসে উইকেটে বল মারতে হবে। শেষ পর্যন্ত এক জন ফিল্ডারই উইকেট ভাঙতে পারেনি।’’ সেই ফিল্ডারের নাম অবশ্য জানা যায়নি।