চলতি মরসুমে কোনও প্রতিযোগিতায় সাফল্য না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়া ওপেনে দুরন্ত ভাবে এগিয়ে চলেছেন পি ভি সিন্ধু। শুক্রবার জাকার্তায় বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার এই সুপার সিরিজ প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উঠলেন ভারতীয় তারকা। শেষ চারে ওঠার পথে সিন্ধু মাত্র ৪৪ মিনিটে স্ট্রেট গেমে উড়িয়ে দেন তৃতীয় বাছাই নজোমি ওকুহারাকে। ফল সিন্ধুর পক্ষে ২১-১৪, ২১-৭। এ বার সেমিফাইনালে সিন্ধুর লড়াই দ্বিতীয় বাছাই চিনের চেন উফেইয়ের বিরুদ্ধে। 

ওকুহারা বরাবরই গাঁট সিন্ধুর। ২০১৭ বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে তাঁদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এখনও অনেকে ভোলেননি। অল্পের জন্য সেই ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন সিন্ধু। এপ্রিলে সিঙ্গাপুর ওপেনে শেষ সাক্ষাতেও সিন্ধুকে হারিেয়ছিলেন ওকুহারা। ইন্দোনেশিয়া ওপেনে নামার আগে তাঁদের মুখোমুখি সাক্ষাতের পরিসংখ্যান ছিল ৭-৭। দুরন্ত জয়ে এ বার তা ৮-৭ করে ফেললেন সিন্ধু। 

এ দিন প্রথম থেকেই দাপট ছিল সিন্ধুর। ম্যাচের রাশ হাতে নেওয়ার আগে গোড়ায় অবশ্য তিনি কিছুটা সময় নেন। তবে প্রথম গেমে ৬-৬ থেকে এক বার এগিয়ে যাওয়ার পরে আর ওকুহারাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি তিনি। টানা চার পয়েন্ট তুলে নিয়ে ১০-৬ করে ফেলেন। এর পরে জাপানি তারকা কয়েকটি পয়েন্ট পেলেও বিরতিতে সিন্ধু এগিয়ে যান ১১-৮ পয়েন্টে। এর পরে সিন্ধু আরও আগ্রাসী খেলতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত প্রথম গেম ২১-১৪ জিতে নেন। 

দ্বিতীয় গেমেও একপেশে ভাবে দাপট দেখা যায় সিন্ধুর। ওকুহারাকে সে ভাবে দাঁড়াতেই দেননি তিনি। 

ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র পঞ্চম বাছাই সিন্ধুই এখন প্রতিযোগিতায় খেতাব জয়ের আশা ধরে রেখেছেন। কিদম্বি শ্রীকান্ত দ্বিতীয় রাউন্ডে ছিটকে গিয়েছেন হংকংয়ের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচে। প্রণব জিরি চোপড়া এবং এন সিকি রেড্ডির জুটিও ছিটকে গিয়েছেন প্রতিযোগিতার শীর্ষবাছাই জুটির বিরুদ্ধে হেরে। আর আগে পুরুষদের ডাবলসেও ব্যর্থ হয় সাত্ত্বিকসাইরাজ রানকিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টির জুটি।

এ দিকে, একের পর এক চোট-আঘাতে ভুগছে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রা। ফলে তাঁদের ২০২০ টোকিয়ো অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ধাক্কা খাচ্ছে। গত দুটি অলিম্পিক্সে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়েরা দুটি পদক দিয়েছে দেশকে। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক্সে সাইনা ব্রোঞ্জ পান, ২০১৬ রিয়ো অলিম্পিক্সে সিন্ধু জেতেন রুপো।

টোকিয়ো অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্ব শুরু ২৯ এপ্রিল ২০১৯ থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত। র‌্যাঙ্কিং তালিকা প্রকাশিত হবে ৩০ এপ্রিল ২০২০। এই তালিকা থেকেই বেছে নেওয়া হবে যোগ্যতা অর্জনকারীদের। পুরুষ ও মেয়েদের সিঙ্গলস বিভাগে প্রতি দেশ দু’জন করে খেলোয়াড়কে পাঠাতে পারবে অলিম্পিক্সে। যদি তাঁরা এই তালিকায় প্রথম ১৬ জনের মধ্যে থাকেন। ফলে ভারতীয় খেলোয়াড়দের এই প্রথম ষোলো জনের মধ্যে থাকতে টানা কয়েকটি প্রতিযোগিতায় ভাল পারফর্ম করতেই হবে। তবে ভারতীয় খেলোয়াড়দের পরিকল্পনায় বাধ সাধছে চোটের ধাক্কা। যেমন চলতি ইন্দোনেশিয়া ওপেন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাইনা এবং সমীর বর্মা।

চলতি মরসুমে এক মাত্র সাইনাই খেতাব জিতেছেন একটি প্রতিযোগিতায়। এ ছাড়া ভারতের কোনও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ই সাফল্য পাননি। খেতাব জয়ের কাছাকাছি গিয়েছিলেন বি সাই প্রণীত এবং কিদম্বি শ্রীকান্ত। যথাক্রমে সুইস ওপেন এবং ইন্ডিয়া ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

সাইনা মরসুমের শুরুতে ছন্দে থাকলেও পরে পেটের গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় তাঁর। যাতে অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। চোট কাটিয়ে এপ্রিলে সাইনা কয়েকটি প্রতিযোগিতায় খেললেও আবার চোটের কবলে পড়ে যান তিনি। ফলে অতীতে তিন বার জেতা ইন্দোনেশিয়ান ওপেনে এ বার তিনি নামতেই পারেননি। 

২৯ বছর বয়সি হায়দরাবাদি তারকার গোড়ালি, কোমর, কব্জিতে চোটের সমস্যা ভোগাচ্ছে। ফলে যথেষ্ট অনুশীলনের সময় তিনি পাচ্ছেন না। ‘‘সাইনা চোটের সমস্যায় ভুগছে। তবে জাপানে হয়তো ও খেলতে পারবে। সাইনা দুরন্ত অ্যাথলিট এবং লড়াকু। ও সব সময় নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দেয়,’’ বলেন জাতীয় ব্যাডমিন্টন কোচ পুল্লেলা গোপীচন্দ।