জর্জ টেলিগ্রাফকে হারিয়ে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ টেবলে শীর্ষ স্থান দখল করার স্বস্তি চব্বিশ ঘণ্টাও স্থায়ী হয়নি সবুজ-মেরুন শিবিরে। ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে এক নম্বরে উঠে আসে পিয়ারলেস। এই পরিস্থিতিতে বুধবার মহমেডানের বিরুদ্ধে ভবানীপুর জেতায় চার নম্বরে নেমে এসেছেন সালভা চামোরারা। তবে আজ, বৃহস্পতিবার কল্যাণীতে এরিয়ানকে হারাতে পারলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ফের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে মোহনবাগানের সামনে।

সবুজ-মেরুন কোচ কিবু ভিকুনা অবশ্য এই মুহূর্তে লিগের অঙ্ক নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ, ছয় ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে থাকা এরিয়ানের রক্ষণাত্মক রণকৌশল। ম্যাচের আগের দিন সাধারণত হাল্কা অনুশীলন করান সবুজ-মেরুনের স্পেনীয় কোচ। ম্যাচ প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে দেখে নেন, রণনীতি অনুযায়ী ফুটবলারেরা খেলতে পারছেন কি না। বুধবার সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন মাঠে উল্টো ছবি। সব চেয়ে বেশি জোর দিলেন সিচ্যুয়েশন অনুশীলনে। অর্থাৎ, দুই প্রান্ত দিয়ে উঠে সেন্টার করছেন মিডফিল্ডারেরা। গোল করার জন্য ঝাঁপাচ্ছেন চামোরো, ভি পি সুহেররা। ম্যাচ প্র্যাক্টিস করালেনই না। অনুশীলনের পরে তিনি বললেন, ‘‘মহমেডান ও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে এরিয়ানের খেলা দেখেছি। অন্য দলকে সমস্যায় ফেলার মতো শক্তি ওদের রয়েছে। তিন জন বিদেশি রয়েছে। ভারতীয় ফুটবলারেরাও ছন্দে রয়েছে। ফলে ম্যাচটা একেবারেই সহজ হবে না। আমাদের লক্ষ্য ভাল খেলা।’’ এর পরেই তিনি যোগ করলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আমরা নিজেরাই! কারণ, লিগের যা পরিস্থিতি তাতে সব ম্যাচেই আমাদের জিততে হবে।’’

এরিয়ান ম্যাচের আগে ফ্রান গঞ্জালেসকে নিয়েও অস্বস্তি বাড়ছে মোহনবাগানে। এ দিন অনুশীলনে আসেননি তিনি। কিবু জানালেন, ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন ফ্রান। তবে বৃহস্পতিবারে ম্যাচে তাঁর না খেলার কোনও কারণ নেই। কিবু অবশ্য কিছুটা খুশি ম্যাচ কল্যাণীতে খেলতে হবে বলে। জর্জের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে দুরন্ত জয়ের পরে মোহনবাগান মাঠ নিয়ে হতাশা গোপন করেননি তিনি। এ দিন কিবু বললেন, ‘‘অস্বীকার করার জায়গা নেই, কল্যাণীর মাঠ বড় এবং দারুণ। এর ফলে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারব। তবে মোহনবাগান মাঠে আগের ম্যাচেই কিন্তু আমরা জিতেছিলাম। সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’’

বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ: মোহনবাগান বনাম এরিয়ান (কল্যাণী, দুপুর ২.৩০)।