বিশ্বকাপের পরে প্রায় দু’মাস মাঠের বাইরে কাটিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত হার্দিক পাণ্ড্য। ভারতের এই অলরাউন্ডার বলে দিচ্ছেন, দু’মাসের এই বিশ্রামে তিনি নিজের ফিটনেসকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন।

মুম্বইয়ে টানা বৃষ্টির কারণে বডোদরায় গিয়ে এখন প্র্যাক্টিস করছেন হার্দিক। সে রকমই একটা প্র্যাক্টিস সেশনের পরে হার্দিক বলেছেন, ‘‘ক্রিকেট থেকে এই বিশ্রামটা আমার খুব দরকার ছিল। আইপিএলের মতো দীর্ঘ একটা প্রতিযোগিতায় খেলার পরেই ছিল বিশ্বকাপ। দুটো প্রতিযোগিতাতেই আমি ভাল খেলেছি। নিজেকে নিংড়ে দিয়েছি। এর পরে আমার শরীরকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। যাতে হঠাৎ চোট লেগে না যায়। তখনই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে আমাকে বিশ্রাম দেবে। যাতে পুরোদস্তুর ফিট অবস্থায় এই সিরিজে নামতে পারি।’’ 

এই সময়টায় কী ভাবে তৈরি করলেন নিজেকে? হার্দিকের জবাব, ‘‘আমার ফিটনেসের মান অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। আমি বিশেষ ধরনের ব্যায়াম শুরু করি। গত এক মাসে দিনে দু’বার করে ট্রেনিং করেছি। আমার পিঠের কথা মাথায় রেখে এই ব্যায়াম করে গিয়েছি।’’ 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সামনে দাঁড়িয়েও উঠে এসেছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারের প্রসঙ্গ। যা নিয়ে হার্দিক বলেছেন, ‘‘ওই হারের পরে আমরা সবাই খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। আমরা দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছিলাম। শুধু সেমিফাইনালের ওই তিরিশ মিনিট ছাড়া। দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছিল। কিন্তু নক আউট পর্বে এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে। এখন পরের বছরের বিশ্বকাপের (টি-টোয়েন্টি) জন্য তৈরি হতে হবে। ওই বিশ্বকাপটা জিততে চাই।’’    

ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি এবং কোচ রবি শাস্ত্রী— দু’জনেই হার্দিককে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখেন। কী রকম লাগে ব্যাপারটা? হার্দিক বলেছেন, ‘‘কোচ-অধিনায়ক যদি আপনার উপরে আস্থা রাখে, তা হলে আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায়। নিজের সেরা খেলাটাও বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি আমি খেলাটা উপভোগও করতে চাই। সেটা করতে পারলে নিজের ওপর থেকে চাপও কমে যায়।’’ 

১৫ সেপ্টেম্বর, ধর্মশালায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি। এই সিরিজে নিজের জন্য কোনও লক্ষ্য কি স্থির করেছেন? হার্দিকের জবাব, ‘‘আমি মাঠে নামার আগে নিজের জন্য কোনও লক্ষ্য স্থির করতে চাই না। আমি চমক দিতে চাই। এমন কিছু করতে চাই, যেটা একটু অভিনব। আমি বিশ্বাস করি, মাঠে ম্যাজিক ঘটানোই যায়। যখন দল চাপে পড়ে যায়, তখনই আমি বিশেষ কিছু করতে চাই। পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী নিজের খেলাটা বদলে নিতে চাই আমি।’’ 

শুধু হার্দিকই নন, দাদা ক্রুণালও তাল মিলিয়ে অনুশীলন চালাচ্ছেন। এ দিন ক্রুণালের সঙ্গে অনুশীলনের একটি ভিডিয়ো টুইটারে পোস্ট করেন হার্দিক। যেখানে দেখা যায় ক্রুণালের বল উড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে হার্দিক লেখেন, ‘‘এই রাউন্ডটা আমিই জিতলাম, বড় ভাই।’’ এর পরে পাল্টা আর একটা ভিডিয়ো পোস্ট করেন ক্রুণাল। যেখানে আবার দাদার বাঁ-হাতি স্পিনে পরাস্ত হয়েছেন হার্দিক। সঙ্গে ক্রুণালের মন্তব্য, ‘‘এই ভিডিয়োটা পোস্ট করলে না কেন?’’  

এ দিকে ধর্মশালায় দিন দুয়েক হল অনুশীলন শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের সহ-অধিনায়ক ফান ডার দুসোঁ এ দিন বলেন, ‘‘আমরা কুইন্টন ডি কক ও ডেভিড মিলারের থেকে পরামর্শ নিচ্ছি। ওরা প্রচুর আইপিএল ম্যাচ খেলেছে ভারতে। এখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ওদের পরামর্শ নিচ্ছি।’’