বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে তো ছিলেনই না, শিখর ধওয়ন ও বিজয় শঙ্করের চোটের পরেও ডাকা হয়নি তাঁকে। ক্ষোভে টুইট করে থ্রি ডি চশমা কেনার নামে বিজয় শঙ্কর এবং নির্বাচক প্রধানকেআক্রমণ করেছেন,তার পর সবাইকে চমকে দিয়ে অবসর নিয়েছেন ক্রিকেট থেকেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত অম্বাতি রায়ুডুর নাম ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে বার বার। কিন্তু এত দিন বিশ্বকাপের দল থেকে তাঁর বাদ পড়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি নির্বাচকরা। অবশেষে সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন নির্বাচক প্রধান এম এস কে প্রসাদ। জানালেন, থ্রি ডি চশমা নিয়ে মন্তব্য তিনি মজার ছলেই নিয়েছিলেন। যুক্তিও দিলেন কেন বিশ্বকাপের রিজার্ভ দলে থাকলেও তাঁকে পাঠানো হয়নি ইংল্যান্ডে।

নির্বাচক প্রধানের কথা অনুযায়ী বিশ্বকাপে শিখর ধওয়ন চোট পাওয়ায় ভারতীয় দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আর কেউ ছিলেন না। টিম ম্যানেজমেন্ট তখন ওপেনার নয়, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান চেয়ে পাঠিয়েছিল, কারণ দলে ওপেনার হিসেবে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন লোকেশ রাহুল। তাই শিখরের বদলে কোনও ওপেনার নয়, বাঁহাতি ঋষভ পন্থকে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় এমএসকে প্রসাদের ‘থ্রি ডি প্লেয়ার’ আখ্যা দেওয়া বিজয় শঙ্কর চোট পেলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ওপেনার চেয়ে পাঠায়। কারণ একটা ক্যাচ নিতে গিয়ে চোট লাগে রাহুলের এবং দলে আর কোনও ওপেনার ছিল না। সেই জন্য পাঠানো হয় ময়াঙ্ক আগরওয়ালকে।

রায়ুডুর টুইট মজার ছলে নিলেও তিনি অবসর নেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রসাদ। তিনি বলেছেন, কোনও প্লেয়ারকে তাঁরা নির্বাচন করার পর সে ভাল খেললে যেমন তাঁদের আনন্দ হয়, খারাপ খেললেও তাঁদের খারাপ লাগে। সেই জায়গা থেকে কোনও ক্রিকেটার যদি ক্ষোভে অবসর নিয়ে নেয়, তা খারাপই লাগে নির্বাচকদের। তিনি যদিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ২০১৭-১৮ সালের টি২০-তে পারফরমান্সের ভিত্তিতে যখন রায়ুডুকে একদিনের দলে নেওয়া হয়, তখন কথা উঠেছিল অনেক। কিন্তু তখন তাঁরা রায়ুডুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর ফিটনেস পরীক্ষায় তিনি ফেল করলে এই সিলেকশন কমিটিই তাঁর পাশে দাঁড়ায়। এবং একমাসের মধ্যে আবার ফিটনেস টেস্ট নিয়ে তাঁকে দলে ফেরায়। যদিও পরে দলের কম্বিনেশনে রায়ুডু সঠিক মনে না হওয়ায় তাঁকে বাদ দিতে হয়। তার জন্যে প্রসাদ মনে করেননা, নির্বাচকমণ্ডলীকে পক্ষপাতদুষ্ট ভাবার কারণ আছে।

আরও পড়ুন: রোহিতকে এখন টেস্টেও ওপেন করানোর ভাবনা