প্রথম বার সেমিফাইনাল। প্রথম বার ফাইনাল। প্রথম বারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। রঞ্জি ট্রফিতে জম্মু-কাশ্মীরের উত্থান চমকে দিয়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। ব্যতিক্রম নন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের ব্যস্ততার মধ্যেও সিএবি সভাপতি চোখ রেখেছেন রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে।
জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারেরাও সম্ভবত এতটা আশা করেননি। কোয়ার্টার ফাইনালে মধ্যপ্রদেশ, সেমিফাইনালে বাংলাকে হারিয়ে ফাইনালে কর্নাটকের মুখোমুখি জম্মু-কাশ্মীর। ময়ঙ্ক আগরওয়াল, লোকেশ রাহুলদের ঘরের মাঠেই তাঁদের কোণঠাসা করে দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। কর্নাটক বেশ শক্তিশালী দল। ভারতীয় দলে খেলা বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার রয়েছেন দলে। সেই দলের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীর করে ৫৮৪ রান। জবাবে দেবদত্ত পাড়িক্কলের দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ২৯৩ রানে। ময়ঙ্কের ১৬০ রানের পর কর্নাটকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান কার্তিক কৃষ্ণের ৩৬। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে ম্যাচ ড্র হলেও চ্যাম্পিয়ন হবে জম্মু-কাশ্মীর। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে তৈরি হবে নতুন ইতিহাস।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন শক্তি হিসাবে জম্মু-কাশ্মীর উঠে আসায় উচ্ছ্বসিত সৌরভ। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর বিশ্বকে দেখিয়ে দিল ইচ্ছাশক্তি এবং চেষ্টা থাকলে কী করা যায়। ওরা নিজেদের জায়গাকে গর্বিত করেছে। কঠিন পরিবেশ মানুষকে কঠিন ভাবে গড়ে তোলে। আমার মনে হয়, আকিব নবি জাতীয় দল থেকে বেশি দূরে নেই। আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরের দলেই থাকতে পারে।’’
কর্নাটকের প্রথম ইনিংসে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন আকিব। গোটা রঞ্জি ট্রফিতে ধারাবাহিক ভাবে ভাল পারফর্ম করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের জোরে বোলার। রাহুল, ময়ঙ্ক, করুণ নায়ার, রবিচন্দ্রন স্মরণের মতো কর্নাটকের প্রথম সারির ব্যাটারদের আউট করেছেন তিনি। চলতি মরসুমে ১০ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আগের মরসুমে ৮ ম্যাচে ৪৪টি উইকেট নেন। তাঁকে এখনই ভারতীয় টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সৌরভ।
আরও পড়ুন:
ফাইনালের চতুর্থ দিনের খেলার শেষে ইতিহাস গড়ার কাছে পৌঁছে গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। শুক্রবার খেলার শেষে জম্মু-কাশ্মীরের দ্বিতীয় ইনিংসের রান ৪ উইকেটে ১৮৬। ওপেনার কামরান ইকবাল ৯৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ২২ গজে সাহিল লোটরা (১৬)। ৪৭৭ রানে এগিয়ে রয়েছে তারা। এ দিন লড়াইয়ে ফেরার কিছুটা আশা তৈরি করেছিল কর্নাটক। দ্বিতীয় ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীর ১১ রানে ২ উইকেট হারালেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি পাড়িক্কলেরা।