যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের  ফাইনালে চেয়ার আম্পায়ার  কার্লোস র‌্যামোসের বিরুদ্ধে সেরিনা উইলিয়ামসের ক্ষোভ নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, জাপান উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেশের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন নেয়োমি ওসাকাকে নিয়ে।

২০ বছর বয়সির উদ্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছার বন্যা। যার মধ্যে আছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেও। তিনি লিখেছেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে জাপানকে আরও শক্তি দেবে ওসাকার এই কৃতিত্ব।’’ মনে করা হচ্ছে সম্প্রতি জাপানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বহু মানুষের হতাহতের কথাই বলতে চেয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। টুইট করেছেন ওসাকার সতীর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে পুরুষদের সিঙ্গলসে সেমিফাইনালিস্ট কেই নিশিকোরিও।

হোক্কাইডোতে জাপানি তরুণীর ঠাকুর্দা তেতসুয়ো সাংবাদিকদের বলেছেন, টিভিতে নাতনির দুরন্ত জয় দেখার পরে তিনি এবং ওসাকার ঠাকুমা উৎসবে মেতেছেন। জাপানি সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ‘‘শক্তি এবং শিশুর মতো সারল্যই ওসাকার প্রধান আকর্ষণ। আমাদের নতুন নায়িকাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’’

যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে উপস্থিত জাপানি সাংবাদিকেরাও বেশির ভাগই সেরিনা-আম্পায়ার বিতর্ক এড়িয়ে গিয়েছেন। বরং তাঁদের আগ্রহ বেশি ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের দিন ওসাকার খাবারের তালিকায় প্রথম কী থাকবে তা নিয়ে। তাতে জাপানি চ্যাম্পিয়নের উত্তর, ‘‘কাটসু কারি’’ (জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার)। উত্তর শুনে বেজায় খুশি তাঁরা।

সেরিনার বিতর্কিত ঘটনার সময় ওসাকা যে ভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে পেরেছিলেন তাতে খুশি টেনিস প্রেমীরাও। এক জাপানি খেলোয়াড় বলেছেন, ‘‘এত কিছু হল ম্যাচটায়। ওসাকা কিন্তু শান্ত ছিল। ওর মানসিক শক্তিও দুরন্ত। ফাইনালে প্রায় গোটা স্টেডিয়ামের দর্শকরাই সেরিনাকে সমর্থন করছিল। কিন্তু ওসাকা নিজের খেলায় মনসংযোগ করে গিয়েছে।’’ ওসাকার বাবার জন্ম হাইতিতে। জাপানের পাশাপাশি তাই হাইতিতেও ওসাকার সাফল্য নিয়ে প্রশংসা চলছে।

শুধু জয়ের উচ্ছ্বাসই নয়, টানা দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হারের ম্যাচে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী যে ভাবে অপ্রত্যাশিত বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন, তাতে খারাপই লেগেছে ওসাকার। তিনি বলেছেন, ‘‘সেরিনার জন্য আমার খারাপই লাগছে।’’ সোশ্যাল মিডিয়া আবার এই বিতর্কে দু’ভাগ। কেউ কেউ মার্কিন তারকাকে ঘটনার জন্য দুষছেন। আবার অনেকে সেরিনার পাশেও দাঁড়িয়েছেন। যার মধ্যে আছেন নোভাক জোকোভিচও। যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন নোভাক বলেছেন, ‘‘প্রথমেই বলব আমি সেরিনাকে খুব পছন্দ করি। ফাইনালে যা হল, তার জন্য আমার খারাপ লাগছে। চেয়ার আম্পায়ারের পক্ষেও এমন একটা পরিস্থিতি সামলানো সহজ নয়। ওঁর কথাও ভাবতে হবে। আসলে, সবাই অস্বস্তিকর একটা পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়েছিল। সেরিনা কাঁদছিল। নেয়োমি কাঁদছিল।’’ সঙ্গে জোকোভিচ আরও বলেছেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মতামত, চেয়ার আম্পায়ারের উচিত হয়নি সেরিনাকে এতটা চাপে ফেলে দেওয়া। বিশেষ করে ম্যাচটা যখন ফাইনাল।’’