রান বা উইকেট ভুলে যান। ব্যাটসম্যান বা বোলার নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে নাকি জিতিয়েছে ‘ডাইনি বিদ্যা’-র কেরামতি। মঙ্গলবার কলম্বো ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন দাবিই করলেন শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক দীনেশ চণ্ডীমল। আর তার পরেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে শুরু হয়েছে তাঁকে নিয়ে রসিকতা।

ঠিক কী বলেছেন চণ্ডীমল? শ্রীলঙ্কার টেস্ট অধিনায়ক এ দিন সাংবাদিকদের বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে তিনি একজন  ডাইনি বিদ্যায় পারদর্শীর কাছে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন। যিনি তাঁর এক বন্ধুর মা। শ্রীলঙ্কায় যাদের বলা হয় ‘মেয়নি’।

চণ্ডীমলের কথায়, ‘‘সাফল্যের জন্য যে কোনও মানুষের আশীর্বাদ নিতে আমি সব সময়ে রাজি আছি। সে তিনি পাদ্রী হন বা মেয়নি।’’ এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, ‘‘কারও প্রতিভা থাকতেই পারে। কিন্তু এঁদের আশীর্বাদ ছাড়া কেউ এক পা-ও এগোতে পারবে না। আমি স্বেচ্ছায় মেয়নির আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলাম।’’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে দুই টেস্টের সিরিজে ২-০ জিতলেও তার পরে শ্রীলঙ্কা পাঁচ ম্যাচের একদিনের  সিরিজ হারে ০-৫। এমনকী, তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও চান্ডিমলরা হেরেছেন ০-৩।

আরও পড়ুন: সহবাগকে সম্মান দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক ভুল

তা হলে টেস্ট সিরিজে এ রকম অভাবনীয় ফল হল কী ভাবে? ডাইনি বিদ্যার সাহায্য নিয়ে? কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন, শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীই ওঝাদের আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্রিকেটারদের।  সপ্তাহখানেক আগে এ ব্যাপারে প্রশ্ন উঠলে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী দয়াসিরি জয়শেখর অবশ্য তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন।

এর পরেই এক ব্যক্তি দাবি করে বসেন, ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরোধ করার পরেই তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কাকে টেস্ট সিরিজ জেতানোর জন্য আসরে নেমেছিলেন। সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হলে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। মনে করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিই নাকি চান্ডিমলদের ‘ডাইনি বিদ্যার ওস্তাদ’। 

যদিও ভাগ্যগণনা বা এ ধরনের কোনও তথাকথিত ডাইনি বিদ্যায় পারদর্শীর  কাছে গিয়ে কোনও বড়সড় কাজের আগে আশীর্বাদ নেওয়ার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় নতুন নয়। দু’বছর আগে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষ তাঁর ব্যক্তিগত জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনে এগিয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে হেরে যান তিনি।

শ্রীলঙ্কার সমর্থকরা যদিও তাঁদের টেস্ট অধিনায়কের এই মন্তব্যের পর ইন্টারনেটে রসিকতা শুরু করেছেন। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে চণ্ডীমলের সেই বন্ধুর মা-কে সরাসরি ‘প্রতারক’ও বলেন। ক্রিকেটে এমন ধরনের ঘটনা হালফিলে শোনা যায়নি। চান্ডিমলের বক্তব্য শুধু তাঁর দেশেই নয়, ক্রিকেট দুনিয়াতেই প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।