ম্যাচ জেতার পর মাঠে পুশ আপের মাধ্যমে আর আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করতে পারবে না পাক ক্রিকেট দল। সে দেশের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি কমিটিতে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান নাজাম শেঠ।
হঠাত্ কেন এই সিদ্ধান্ত? কেনই বা আনন্দের বহিঃপ্রকাশের উপর এমন ফতোয়া জারি করা হল?
নেপথ্যে অবশ্য ক্রিকেট বোর্ড নয়, কলকাঠি নেড়েছেন পাক রাজনীতিতরা। মাঠে এ ধরনের কাজে নাকি রীতিমতো ক্ষুব্ধ তাঁরা। তাঁদের মতে, পুশ আপের মাধ্যমে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করা মানে দেশের ভাবমূর্তিতে আঘাত করা। এই নিয়ে অ্যসেম্বলি কমিটিতে ব্যাপক হইচই হয়। পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর সেনেটর আফজল খান পাক ক্রিকেটারদের এ ধরনের কাজের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, “ক্রিকেটকে ‘জেন্টলম্যানস গেম’ বলা হয়। মাঠে এ ভাবে আনন্দ জাহির করা মানে ক্রিকেটকেই অসম্মান করা। তা ছাড়া পুশ আপের মাধ্যমে ম্যাচ জেতার উত্সব পালন দেশের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
রাজনীতিকদের প্রবল বিরোধিতার মুখে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পাক ক্রিকেটারদের এই ‘পুশ আপ সেলিব্রেশন’ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পিসবি।
পাক ক্রিকেট দলে ‘পুশ আপ সেলিব্রেশন’-এর ট্রেন্ড চালু করেছিলেন মিসবা উল-হক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শতরান করার পর তাঁকে মাঠে পুশ আপ করতে দেখা যায়। এর পর লর্ডসে জেতার পর গোটা দল পুশ আপ করে সেলিব্রেট করে।
পুশ আপ নিষিদ্ধ হওয়ায় এ বার থেকে কী ভাবে জেতার সেলিব্রেশন করবে দল?
পিএমএল-এন এর এক নেতা চৌধুরী নাজির আহমেদের কথায়, “বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমেই এই সেলিব্রেশন করা উচিত।”
তবে পিসিবি-র চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি মিসবা উল হকের সমর্থনে দাঁড়ান। তিনি জানান, নিজের ফিটনেসকে প্রমাণ করতেই শতরানের পর মাঠে পুশ আপ দেন ৪২ বছরের পাক অধিনায়ক।
আরও খবর...