এক দিকে সদ্য এক নম্বর ওয়ান ডে দলকে সিরিজে হারানোর গৌরব। অন্য দিকে দু’দিন আগেই দু’শোর বেশি রানে হারার লজ্জা। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে যখন মুখোমুখি হবে, তখন এই দুই তথ্যই এগিয়ে রাখবে ইংরেজদের।
পাশাপাশি আবার ২০১৫-র সেই অভিজ্ঞতার কথাও ভোলা সম্ভব নয় ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটারদের। অ্যাডিলেডে এই বাংলাদেশের কাছে ১৫ রানে হেরেই তাদের ছিটকে যেতে হয়েছিল গ্রুপ পর্যায় থেকে।
ভারতের কাছে মঙ্গলবারের ২৪০ রানে হারটা বাংলাদেশকে কতটা ধাক্কা দিয়েছে, সেটা বোঝা যাবে এই ম্যাচেই। সাকিব আল হাসানরা ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য মাস খানেক আগে সে দেশে পৌঁছে গেলেও ব্যাপারটা যে তেমন রপ্ত করতে পারেননি, তার প্রমাণ মঙ্গলবার ওভালে তাঁদের ব্যাটিং ধসেই পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবারও যদি সে রকমই কিছু হয়, তা হলে ফের বাংলাদেশের জন্য বড় একটা ধাক্কা আসছে বলা যায়।
ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় ঘন ঘন বদলই এখানকার ক্রিকেটের বড় ফ্যাক্টর। ইংরেজ ক্রিকেটাররাই পরিবেশের অপ্রত্যাশিত বদলে ধোঁকা খেয়ে কুড়ি রানে ছ’উইকেট হারাচ্ছেন (মঙ্গলবার লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের শেষ ম্যাচে)। সেখানে অনভিজ্ঞ বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা কী করে এই সমস্যা দূর করবেন, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বাংলাদেশের মিডিয়াই প্রশ্ন তুলেছে, ভারতের পেসারদের বিরুদ্ধেই যদি এই অবস্থা হয় বাংলাদেশের, তা হলে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নামলে কী হবে? এই দুই দলের বিরুদ্ধে ম্যাচই সেই ওভালে, যেখানে সদ্য ভরাডুবি হয়েছে দলের ব্যাটিংয়ে।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাঝেই কোচ-অধিনায়কের সঙ্গে বৈঠকে বিসিসিআই
তবে ভারতের বিরুদ্ধে এই বেনজির হারেও বাংলাদেশিরা আত্মবিশ্বাস খুইয়েছেন বলে মনে হচ্ছে না। সাকিব মঙ্গলবার ম্যাচের পর যদিও বলেন, ‘‘আমাদের কোনও কিছুই ঠিক হয়নি ম্যাচে। বেশি গবেষণা করতে গিয়ে আমরা ডুবলাম’’, সেখানে এই ম্যাচে সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার মেহদি হাসান বলেন, ‘‘ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত কয়েকটা ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছি। তাই বৃহস্পতিবার আত্মবিশ্বাসী হয়েই মাঠে নামব।’’
শেষ ম্যাচে বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস ও মইন আলিকে বিশ্রাম দিয়েছিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে তিনজনেরই খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, স্টোকস যদি পুরো ফিট না হন তা হলে তাঁকে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা আছে ইংল্যান্ডের।