Advertisement
E-Paper

যেন ফাইনালের আগেই বড় ফাইনাল

তিনি নিল হার্ভি! বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতেই বিরক্ত বোধ করেন। খেলা দেখছেন না। বৃহস্পতিবার নিয়েও উত্‌সাহ নেই। তিনি আর্থার মরিস! আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দেখার মোট সময় আধ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার নিয়ে এতটুকু উত্‌সাহ নেই। মনে করেন ওয়ান ডে ক্রিকেট স্রেফ লটারি। বুধবার তাই তিরানব্বই বছর বয়সী ক্রুজে চলে যাচ্ছেন। ফিরবেন বাংলা নববর্ষের দিন। তিনি গ্রেগ চ্যাপেল! অনূর্ধ্ব উনিশ অস্ট্রেলিয়া টিম নিয়ে পারথে ব্যস্ত থাকবেন বলে বৃহস্পতিবার হয়তো ম্যাচই দেখবেন না। এমনিতেও বিশ্বকাপ নিয়ে বাঁধভাঙা উত্‌সাহ তাঁর একেবারেই নেই।

গৌতম ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৫ ০৩:৪৫
ফ্লেচারের সঙ্গে ধোনি। সোমবার সিডনিতে ভারতের অনুশীলনের সময়।  ছবি: এপি।

ফ্লেচারের সঙ্গে ধোনি। সোমবার সিডনিতে ভারতের অনুশীলনের সময়। ছবি: এপি।

তিনি নিল হার্ভি! বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতেই বিরক্ত বোধ করেন। খেলা দেখছেন না। বৃহস্পতিবার নিয়েও উত্‌সাহ নেই।

তিনি আর্থার মরিস! আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দেখার মোট সময় আধ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার নিয়ে এতটুকু উত্‌সাহ নেই। মনে করেন ওয়ান ডে ক্রিকেট স্রেফ লটারি। বুধবার তাই তিরানব্বই বছর বয়সী ক্রুজে চলে যাচ্ছেন। ফিরবেন বাংলা নববর্ষের দিন।

তিনি গ্রেগ চ্যাপেল! অনূর্ধ্ব উনিশ অস্ট্রেলিয়া টিম নিয়ে পারথে ব্যস্ত থাকবেন বলে বৃহস্পতিবার হয়তো ম্যাচই দেখবেন না। এমনিতেও বিশ্বকাপ নিয়ে বাঁধভাঙা উত্‌সাহ তাঁর একেবারেই নেই।

অস্ট্রেলিয়ার শতাব্দীসেরা দলে নির্বাচিত এই তিন ব্যাটসম্যানের জন্য কোনও মানেই বয়ে আনছে না সিডনি সেমিফাইনাল।

আর তাতে সিডনি সেমিফাইনালের কিছু যায় আসে না! তার যে সব অনু-পরমাণু শিরা আর ধমনীতে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল, তা ঠিকই ছড়িয়ে পড়েছে! প্রবাদপ্রতিম তিন ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতি তার সম্মানকে অগ্রাহ্য করার পক্ষে যথেষ্ট নয়। মাদকতার আঙ্গিকে এমনই তার অবস্থান! সোমবার যেমন! কথা নেই, বার্তা নেই বাহাত্তর ঘণ্টা আগেই দু’পক্ষে নীরব টেনশন শুরু হয়ে গেল আর তাতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জড়িয়ে পড়ল সর্বময় কর্তৃত্বসম্পন্ন আইসিসি। পটভূমি এ রকম: সকালে সিডনি মাঠের বহু আলোচিত পিচের পাশে হঠাত্‌ই গিয়ে হাজির হন আইসিসির পিচ কমিটির সর্বেসর্বা অ্যান্ডি অ্যাটকিনসন। তিনি কথা বলতে থাকেন এসসিজি মাঠের সহকারী পিচ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে। তখনও পিচ প্রস্তুতকারী টম পার্কার এসে পৌঁছননি। পার্কার এসে পৌঁছতে অ্যাটকিনসনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়।

টেনিস র‌্যাকেট হাতে রায়নাকে শর্ট বল সামলানোর অনুশীলনে ধোনি।

সোমবার। ছবি: দেবাশিস সেন ও টুইটার।

কিছু পরে সেখানে গিয়ে উদয় হন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক কর্মী। তিনি পার্কারের সঙ্গে আলাপ শুরু করেন। কিছু পরে দেখা যায় উইকেটে রোলার চলছে। এরই ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখানে ঢুকে পড়ে ভারতীয় দল। ধোনি-শাস্ত্রী-ফ্লেচার ঢোকেন উইকেটের কাছে। ধোনি দ্রুত সরে যান। কিন্তু ডানকান ফ্লেচার সেখানেই দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলতে থাকেন পার্কারের সঙ্গে। দূর থেকে মনে হতে থাকে বাদানুবাদ চলছে। ফ্লেচার বেশ কিছুক্ষণ পরে উইকেটের পাশ থেকে সরে গেলে দুপুর-দুপুর আবির্ভূত হন স্বয়ং মাইকেল ক্লার্ক। তাঁকেও পার্কারের সঙ্গে হাত-পা নেড়ে কথা বলতে দেখা যায়। ক্লার্ককে বেশ উত্তেজিতই দেখাচ্ছিল।

সিডনি উইকেট ঘিরে দিনভর এমন ঘটনাপ্রবাহ আর অদ্ভুত সিকোয়েন্সের মধ্যে কেউ তো আর লিপ রিডিং করেনি যে বুঝতে পারবে, পিচে দাঁড়িয়ে কী কথা হচ্ছে?

কিন্তু সর্বাত্মক সন্দেহ, পিচ কেমন হবে তা নিয়ে প্রাক্-ম্যাচ কামড়াকামড়ি চলছে। নইলে দিনভর এমন অদ্ভুত সব সিকোয়েন্স তৈরি হয় না। আন্দাজ করা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া চাইছে নিজেদের শক্তি অনুযায়ী পেস এবং বাউন্সভিত্তিক পিচ হোক।

আইসিসি চাইছে, নিরপেক্ষ সারফেস হোক। টিপিক্যাল ওয়ান ডে-র মতো যা ব্যাটিং সহায়ক।

আর ভারত চাইছে, যদি স্পিনিং বানানো যায় জল কম দিয়ে, রোলার কম চালিয়ে।

জাভাগল শ্রীনাথ আজকের এবিপি-সাক্ষাত্‌কারে যা বলেছেন, সেটা তো সত্যি। চূড়ান্ত উইকেটটা কেমন হয়, সেটা না দেখে কারও পক্ষে ম্যাচের পূর্বাভাস করা সম্ভব নয়। সে জন্যই বোধহয় উইকেট নিয়ে এত চাপানউতোর। এমনও ভেসে এল যে, আইসিসির মাধ্যমে হোম টিম হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পিচজনিত সর্বময় কর্তৃত্ব কমিয়ে আনতে চাইছে ভারত। আর অস্ট্রেলিয়া তাতে প্রচণ্ড রেগে যাচ্ছে।

এ বারের বিশ্বকাপে আর কোনও ম্যাচে বাইশ গজের চরিত্র নিয়ে এমন জল্পনা হয়নি। প্র‌্যাকটিস আর প্রস্তুতি ঘিরেও এমন সাজো-সাজো রব ওঠেনি। সকালে ভারতীয় প্র‌্যাকটিসে রবি শাস্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে পড়লেন নেট পরিচালনা করতে। ফ্লেচার কোণের নেটে ক্যাম্বিস বলে রায়নাকে শর্ট বলের সামনে চোখ না বোজা অভ্যেস করাচ্ছেন। একটু পর সেখানে ছুটে এলেন ধোনি। এ বার ধোনি নিজেই টেনিস বল ছুড়ে প্র‌্যাকটিস করানো শুরু করলেন টিমে তাঁর এক নম্বর বন্ধুকে! ছবির গূঢ় অর্থ দ্রুত বার করলেন কেউ কেউ। ভারত জানে পরের ম্যাচে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে না, যারা রায়নাকে প্রথম ৪২ বলের একটাও শর্ট করবে না। এটা অস্ট্রেলিয়া প্রথম বল থেকেই রায়নার পরীক্ষা নেবে।

আর এ সব সাজো-সাজো রবকে ছাপিয়ে বেরিয়ে পড়ছে আরও একটা সত্যি। সবাই এমন সচকিত যে, বোঝা যাচ্ছে আর পাঁচটা ম্যাচের মতো নয়। এটা আলাদা মর‌্যাদা বহনকারী।

যত কাণ্ড বাইশ গজে

সবিস্তার জানতে ক্লিক করুন

অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের দিন মাঠে হাজির ছিল পুরো ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফের দল। ওয়াহাব রিয়াজের ওভার দেখে তাঁদের মনে হতে থাকে অস্ট্রেলিয়াকে রাউন্ড দ্য উইকেট বল করলে কেমন হয়? বিশেষ করে উমেশের গতিকে যদি কাজে লাগানো যায়। এ ব্যাপারে প্রাথমিক ভেবে রাখা হয়েছে। একটাই ছোট কাঁটা টেস্ট সিরিজে রাউন্ড দ্য উইকেট করতে গিয়ে স্ট্র‌্যাটেজিটা পুরো ফ্লপ হয়েছিল। শামি বা বরুণ অ্যারন কাজে লাগাতেই পারেননি। ভারতীয় নেটে স্ট্রংম্যান বলে যাঁকে ডাকা হচ্ছিল, সেই উমেশকে দিয়ে কী ভাবে প্ল্যানটা সফল করা যায় এখন তারই তোড়জোড় বোলিং কোচ ভরত অরুণের।

দু’হাজার তিনের জো’বার্গ ফাইনালের সঙ্গে অনেকে এই ম্যাচটার একাধিক মিল পাচ্ছেন। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টও পাচ্ছে। ওয়ান্ডারার্সের সেই ফাইনালের আগে ভারতের পেস বোলিং ত্রয়ী এমনই দুর্ধর্ষ বল করেছিলেন। শ্রীনাথ-জাহির-নেহরা। কিন্তু ফাইনালে অতি উত্তেজিত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা পারফর্মই করতে পারেননি। স্নায়ুগুলোকে বেশি জাগিয়ে ফেলা হয়েছিল। গিলক্রিস্ট-হেডেনকে স্লেজ করতে গিয়ে উল্টে নিজেরাই ম্যাচের বাইরে চলে যান।

এ বার তাই ভারতীয় প্রাক্-সেমিফাইনাল থিম হল ঠান্ডা, ঠান্ডা!

বোলারদের বলা হচ্ছে নিজেকে ভেতর থেকে বেশি ‘হাইপ’ করতে যেও না। পারফরম্যান্সের পক্ষে সেটা ভাল নয়। ‘অপ্টিমাম অ্যারাউজাল লেভেলের’ বেশি উঠতে যেও না। ব্যাঙ্কার (মোহিত শর্মা), স্ট্রংম্যান (উমেশ) এবং নবাব (শামি) তিন জনকেই বলে দেওয়া হয়েছে ‘ওয়ান বল অ্যাট আ টাইম’ এটা মাথায় রাখতে।

টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, পেস বোলিং ইউনিট তথাকথিত অভিজ্ঞ না হলেও তারা ম্যাচে অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়বে না। কিছুতেই ফিরবে না দু’হাজার তিনের সেই ওয়ান্ডারার্স! কেউ কেউ বলছেন, ধোনি রয়েছে তো। ও নিজে এত ঠান্ডা যে সেই আমেজেই টিম ঠান্ডা থেকে যাবে।

এত চর্চা, ম্যাচকে অনুবীক্ষণের তলায় ফেলা আর উইকেট নিয়ে কামড়াকামড়ি! নাহ্, সেমিফাইনাল বললে কমিয়ে বলা হয়। হয় মেগা সেমিফাইনাল বলতে হয় বা ফাইনালের আগের বড় ফাইনাল।

যেটা পছন্দ হয় পাশে টিক দিন!

gautam bhattacharya world cup 2014 Sydney MS Dhoni india australia Arthur Morris Greg Chappell
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy