Advertisement
২৯ নভেম্বর ২০২৩

এই ব্রাজিলে ট্যালেন্টের অভাব বলছেন বাংলার ফুটবলাররা

আগের বেশ কয়েকটা বিশ্বকাপ ভাল যায়নি। চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরের কথা, শেষ বিশ্বকাপে ২০১৪-য় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল তারা। ২০১০-এ তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল!

কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল বনাম পেরু। ছবি: এএফপি।

কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল বনাম পেরু। ছবি: এএফপি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০১৬ ২২:১০
Share: Save:

আগের বেশ কয়েকটা বিশ্বকাপ ভাল যায়নি। চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরের কথা, শেষ বিশ্বকাপে ২০১৪-য় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল তারা। ২০১০-এ তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল! ২০০৬-এও একই। এ রকম একটা অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ ছিল একমাত্র কোপা আমেরিকাই। গত দু’বার কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেও পঞ্চম আর অষ্টম স্থানেই শেষ করেছিল তারা। এ বারও পারফরম্যান্সের নিরিখে দেখলে, লিগ পর্বেই ছিটকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। এবং সেটাই হল। পেরুর কাছে হেরে সেই কোপা থেকেই ছিটকে যেতে হল ব্রাজিলকে। সোমবার সকালে কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পেরুর কাছে যে ভাবে হেরে ছিটতে যেতে হল, তাতে দুঙ্গার দল নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল আরও এক বার।

গৌতম সরকার

প্রিয় দলের জয় দেখতে এ দিন বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ভক্তদের চোখ ছিল টিভির পর্দায়। কিন্তু, শেষমেশ হতাশায় ডুবে যেতে হল। বাদ গেল না এ বাংলাও। সকলেই ব্রাজিলের খেলা দেখে হতাশ। সাধারণ দর্শক তো বটেই হতাশার সুর শোনা গেল গৌতম সরকার থেকে দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো প্রাক্তন ফুটবলারদের মুখেও। ব্রাজিলে এই মুহূর্তে সাপ্লাই লাইনের অভাব। এমনটাই মনে করছেন গৌতম সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘আগে যে ভাবে ব্রাজিল দলে ফুটবলার উঠে আসত এখন আর সেটা নেই। কোয়ালিটি প্লেয়ারের অভাব রয়েছে। আর ফুটবল তো একজনের খেলা নয়! একটা নেইমারকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।’’

দীপেন্দু বিশ্বাস

নেইমারের না থাকাটাকে গৌতমবাবু গুরুত্ব না দিলেও দীপেন্দু কিন্তু অন্য কথা বলছেন। তাঁর মতে, নেইমারের না থাকাটা ব্রাজিলের জন্য একটা বড় সেটব্যাক। তাঁর কথায়, ‘‘ব্রাজিলের হারটা দুঃখজনক। কিন্তু, সব থেকে বড় সমস্যাটা হল ধারাবাহিকতার অভাব। সঙ্গে কোয়ালিটি প্লেয়ারের অভাব। নেইমার থাকলে একটু হলেও অন্য রকম হতে পারত! কিন্তু, দলের একমাত্র তারকা, সেও নেই। আর ব্রাজিলের সেই অ্যাটাকিং ফুটবলটাকেও হঠাত্ উধাও হয়ে যেতে দেখলাম। এখন ওরা অনেক বেশি রক্ষনাত্মক। টিম গেমটাই যেন আর হচ্ছে না।’’

সঞ্জয় সেন

মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেনও আঙুল তুলছেন ব্যক্তিগত ট্যালেন্টের দিকেই। গোটা ঘটনাটিকে ‘হতাশাজনক’ বলে সঞ্জয় বললেন, ‘‘কোপার ফ্লেভারটা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেল। ট্যালেন্টেড প্লেয়ারের অভাব। একটা নেইমার ছাড়া আর কেউ নেই! আরও ট্যালেন্ট উঠে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নতুন করে একঝাঁক ট্যালেন্টেড প্লেয়ার উঠে এলেই দলটা দেখবেন আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’’

দীপক মণ্ডল

দীপক মণ্ডলও ব্যক্তিগত ট্যালেন্টকেই দায়ী করছেন। ওই ফুটবলারের প্রশ্ন, ‘‘এই ব্রাজিল দলে রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহোদের মতো ব্যাক্তিগত ট্যালেন্ট কোথায়?’’ এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘যদিও এখন ব্যাক্তিগত ট্যালেন্ট দিয়ে কাজ হয় না। খেলার ধারাটাই বদলে গিয়েছে। নেইমার থাকলেও একা কিছু করতে পারত না। টিমগেমের যুগ এটা। আর ব্রাজিল দলে সেটাই যে নেই! একটা গোল হয়ে গেলেই সকলে মিলে নেমে ডিফেন্স করে!’’

আরও খবর
পেরুর বিতর্কিত গোলে কোপা থেকে বিদায় ব্রাজিলের

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE