Advertisement
E-Paper

দৌড়ে সোনা জিতে ফিরল জেলার শামিমা

২৫–২৯ মার্চ হরিয়ানার পঞ্চকুলায় ১৮-তম জাতীয় প্যারা-অ্যাথেলেটিক প্রতিযোগিতায় শামিমার সঙ্গে রাজ্যের আরও ১৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল।  রাজ্যের তিন মহিলা খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিল শামিমা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০১৮ ০১:৩৮
শামিমা খাতুন। শনিবার রামপুরহাটে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

শামিমা খাতুন। শনিবার রামপুরহাটে। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

জাতীয় স্তরের প্যারা-অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় বাংলার জন্য সোনা জিতে ফিরল নলহাটির বসন্ত গ্রামের শামিমা খাতুন। সোনাজয়ী সেই মেয়ে শনিবার দুপুরে রামপুরহাট স্টেশনে নামেন। তাকে স্বাগত জানাতে সেখানে তখন শুধু হাজির কংগ্রেস প্রভাবিত ফুটপাত ব্যবসায়ী সংগঠনের জনাকয়েক সদস্য, সাংবাদিক-কুল।

২৫–২৯ মার্চ হরিয়ানার পঞ্চকুলায় ১৮-তম জাতীয় প্যারা-অ্যাথেলেটিক প্রতিযোগিতায় শামিমার সঙ্গে রাজ্যের আরও ১৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। রাজ্যের তিন মহিলা খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিল শামিমা। এর আগে জাতীয় স্তরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযু্ক্ত খেলোয়াড়দের সাঁতার প্রতিযোগিতায় চার বার চ্যাম্পিয়ন হয় শামিমা।

এ বছরই প্রথম জাতীয় প্যারা-অ্যাথেলেটিক প্রতিযোগিতায় সামিল হয় সে। প্রথম বারেই মেলে সাফল্য। ৪০০ মিটার দৌড় ১৪ সেকেন্ডে শেষ করে শামিমা পিছনে ফেলেছে রাজস্থান, কর্নাটক, হরিয়ানা-সহ অন্য রাজ্যের প্রতিযোগীদের। তা ছাড়াও ২০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ ও ১০০ মিটার দৌড়ে রৌপো পদক জিতেছে।

বাঁ পা পোলিও আক্রান্ত শামিমার। নলহাটি শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের বসন্ত গ্রামে বাড়ি। গ্রামে খেলার কোনও মাঠ নেই। বাড়ির কাছে পুকুরেই সাঁতার শেখা। তাতেই নজর কেড়েছিল নলহাটিরই বাসিন্দা তথা রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর সর্বভারতীয় নেতা এবং প্রতিবন্ধীদের বাংলা দলের ম্যানেজার বদরুদোজ্জা শেখের। ১১ বছর বয়স থেকে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে তাকে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেন বদরুদ্দোজা। সাফল্যও মেলে। গত বছর জাতীয় স্তরের প্রতিবন্ধী ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের দৌড় দেখে শামিমাকেও ওই ইভেন্টে নামতে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। প্রথম বার দৌড়ে নেমেই জেতে শামিমা ।

নলহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনির ছাত্রী শামিমা বলে, ‘‘আমার সাফল্য স্যারকেই উৎসর্গ করব। ওঁর কঠোর প্রশিক্ষণই আমার পুরস্কার-প্রাপ্তির কারণ।’’ শামিমার সাফল্যে গর্বিত বদরুদোজ্জাও। তিনি জানান, নলহাটি শহর-সহ আশপাশের এলাকায় খেলাধূলোর অনুশীলনের জন্য ভাল মাঠ নেই। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতা পিছনে ফেলে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পদক জিতে রাজ্যের সম্মান রেখেছে ছেলেমেয়েরা। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘বাংলার হয়ে ওই প্রতিযোগিতায় এক মাত্র সোনা জিতে ফিরল শামিমা। ওকে রাজ্য সরকার গত বছর ডিসেম্বরে প্রতিবন্ধীদের রোল মডেল স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ স্টেশনে তাকে স্বাগত জানাতে দেখা গেল না কোনও সরকারি আধিকারিকের।’’

বদরুদোজ্জার নালিশ— হরিয়ানা, রাজস্থান, কর্নাটক, ঝাড়খন্ডের মতো অন্য অনেক রাজ্যে স্বর্ণপদক জয়ীদের সরকারি তরফে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। অথচ এ রাজ্যের প্রতিযোগীরা জাতীয় স্তরের পুরস্কার জিতলেও এমন কোনও সাম্মানিক পান না। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সামিল প্রতিযোগীদের যাতায়াত, খাওয়াদাওয়ার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়। দিতে হয় প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রিশনের টাকাও। বদরুদোজ্জার প্রশ্ন, ‘‘এ ভাবে চললে ভবিষ্যতে কেউ কি বাংলার হয়ে কোনও প্রতিযোগীতায় সামিল হতে চাইবেন?’

Shamima Khatun para-athletic competition
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy