Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

ক্লার্কের আশা ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া

অ্যাডিলেডের দুই প্রস্তুতি মঞ্চে স্বমূর্তিতে বাউন্সার

ফিলিপ জোয়েল হিউজ বেঁচে নেই। কিন্তু বাউন্সার বেঁচে থাকল। স্বমহিমায়। মাঠে এক তরুণ ক্রিকেটারের প্রাণ কেড়ে নিয়েও বাউন্সার যে যাবতীয় আক্রোশ নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৬ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:৪৮
হিউজহীন অস্ট্রেলিয়ার প্র্যাকটিস শুরু। শুক্রবার। ছবি: গেটি ইমেজেস

হিউজহীন অস্ট্রেলিয়ার প্র্যাকটিস শুরু। শুক্রবার। ছবি: গেটি ইমেজেস

ফিলিপ জোয়েল হিউজ বেঁচে নেই। কিন্তু বাউন্সার বেঁচে থাকল।

স্বমহিমায়।

মাঠে এক তরুণ ক্রিকেটারের প্রাণ কেড়ে নিয়েও বাউন্সার যে যাবতীয় আক্রোশ নিয়ে ভাল রকম বেঁচে, তার দৃষ্টান্ত থাকল শুক্রবার অ্যাডিলেডের দুই মাঠে। এক দিকে গ্লিডেরল স্টেডিয়ামে, যেখানে চলল ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচ। অন্য দিকে পার্ক ২৫ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, অস্ট্রেলিয়ার নেটে।

Advertisement

প্রস্তুতির দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় ম্যাচটা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের পক্ষে লাভজনক হল ঠিকই, কিন্তু টেস্ট শুরুর তিন দিন আগে তাঁরা এটাও টের পেলেন যে, হিউজের মৃত্যুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের প্রতি দয়ামায়া এক চুলও বেশি হবে না। বরং হিউজের মতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ক্রিজে দাঁড়াতে হবে ব্যাটসম্যানদের।

হিউজ-কান্ডের পর বাউন্সার নিয়ে যখন গোটা ক্রিকেট দুনিয়া উত্তাল, তখন ফাস্ট বোলাররা তাকে ‘ব্রাত্য’ করছেন বলে খবর নেই। বরং অজি পেসারদের বেশ কয়েকটা বাউন্সার তো প্র্যাকটিস ম্যাচে মুরলী বিজয়দের কাঁধ ছুঁয়ে চলে গেল, হেলমেটে ধাক্কা খেল!

ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আপাতত ভাল খবর, সেই বাউন্সার-বৃষ্টি সামলেই প্রচুর রান করলেন বিরাট কোহলি, অজিঙ্ক রাহানে, রোহিত শর্মা এবং ঋদ্ধিমান সাহা। ভারতীয় বোলাররাও এই আবহের সঙ্গে নিজেদের বেশ মানিয়ে নিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। দিনের শেষে বিপক্ষকে ২১ ওভারে ৮৩-৫ করে দেন উমেশ, অ্যারন, ইশান্ত, কর্ণরা।

দু’দিনের ম্যাচের প্রথম দিন অপরাজিত দুই ভারতীয় ব্যাটসম্যান কোহলি (৬৬) ও মুরলী বিজয় (৬০) এ দিন ১২৩-এর পার্টনারশিপ খেলে ব্যাটিং ছেড়ে দিয়ে ফিরে যান। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এ দিন প্রায়ই ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য করছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একদাশের পেসাররা। বেশ কয়েকটা মারাত্মক বাউন্সার দেন তাঁরা। একটা বিজয়ের হেলমেটের পাশে এসে ধাক্কা খায়। তাঁর শেষ বলটা ছিল গলার সামনে। কোনও রকমে ব্যাট দিয়ে তা আটকান তিনি। তার পরই প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা লাগান। কোহলিও একটি বাউন্সার এড়িয়ে যান।

এর পর রোহিত (৪৮) ও রাহানে (৫৬) পঞ্চম উইকেটে ১০৩ রান যোগ করেন। তাঁদেরও শুরুর দিকে পরপর বাউন্সার মোকাবিলা করতে হয়। রোহিত ছাড়লেও রাহানে হুক করে উড়িয়ে দেন। ঋদ্ধিমান সাহাকেও কম বাউন্সারের সামনে পড়তে হয়নি। তবে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন এ দিন। ৭৬-এর স্ট্রাইক রেটে ৬৭ বলে ৫১-র ইনিংস খেলেন তিনি। স্ট্রাইক রেটে রাহানে, রায়নার পরই বাংলার উইকেটকিপার।

শুক্রবারই ফিলিপ হিউজের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ক্রিকেট মাঠে ফিরলেন অজি ক্রিকেটাররা এবং সেখানেও ছবিটা একই। নেটে যথারীতি একের পর এক বাউন্সার দিলেন পল হ্যারিস, মিচেল জনসন, পিটার সিডল, জোশ হ্যাজলউডরা। সিডলের একটি বাউন্সার ‘ডাক’ করলেন শন মার্শ। অন্য ব্যাটসম্যানরা সেগুলো এড়িয়ে গেলেও ব্র্যাড হাডিন তাঁর মাথার উপর ওঠা একটি বলকে রেয়াত করেননি, পুল করে দেন। শুধু তাই? ওয় ভাইদের এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়া দলের দু’ভাই শন ও মিচেল মার্শের নেট-ডুয়েলেও বাউন্সার ছিল অন্যতম অস্ত্র। নেট শুরুর আগে কোচ ডারেন লেম্যান অবশ্য বলেছিলেন, “আগ্রাসী ক্রিকেটটাই অস্ট্রেলিয়ার খেলার বৈশিষ্ট, টেস্ট সিরিজে তা বদলাবে বলে মনে হয় না। তবে মঙ্গলবার মাঠে নামার পর টিমটা কেমন খেলবে, জানি না। এ রকম ঘটনা তো আগে কখনও ঘটেনি।”



টেস্টের আগে তিন দিন হাতে থাকলেও মাইকেল ক্লার্ককে পাওয়ার আশা নাকি এখনও ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া দল। শুক্রবার যখন ডারেন লেম্যান তাঁর দল নিয়ে নেটে নেমে পড়েন, তখন সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফিটনেস টেস্ট দিচ্ছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় আক্রান্ত ক্লার্ক বেশ খানিকক্ষণ দৌড়নোর পরও এ দিন ব্যথা অনুভব করেননি বলে অজি শিবিরের খবর। শনিবার অ্যাডিলেডে তিনি জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে নেটেও নামবেন বলে জানান লেম্যান। ক্লার্ককে প্রথম টেস্টে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কোচ বলেন, “আমরা চাই ক্যাপ্টেন খেলুক। শনিবার ও নেটে ব্যাট করবে। দেখা যাক, তার পর কেমন থাকে। দলের ডাক্তাররা, নির্বাচকরা ও ক্যাপ্টেন নিজে। সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নেবে।”

আরও পড়ুন

Advertisement