Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

রবিবার যুবভারতীতে ব্রাজিল বনাম জার্মানি

‘শুধু শিল্পেরই নয়, সাম্বা সুর এখন শক্তিরও’

দীপেন্দু বিশ্বাস
১৯ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:২২
উড়ছে: অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ছুটছে তাদের রথ। কোচিতে হন্ডুরাসকে হারিয়ে শেষ আটে ব্রাজিল । ছবি: গেটি ইমেজেস

উড়ছে: অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ছুটছে তাদের রথ। কোচিতে হন্ডুরাসকে হারিয়ে শেষ আটে ব্রাজিল । ছবি: গেটি ইমেজেস

ব্রাজিল ৩ : হন্ডুরাস ০

দীপাবলীর জন্য এই মুহূর্তে বসিরহাটে। এলাকার পুজোগুলো দেখে বুধবার রাতে তাড়াতাড়ি ঢুকেছিলাম বাড়িতে। কারণটা অবশ্যই ব্রাজিলের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। হোক না অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার। ঘরানা তো সেই একই! ছোটবেলায় জিকো, সক্রেটিসদের দেখলে মনে হত, ব্রাজিল মানে পাসের ঝরনা। ব্রাজিল মানে শিল্প। ব্রাজিল মানে এমন ফুটবল যা চোখের সুখ বাড়ায়।

বিরাশি, ছিয়াশির বিশ্বকাপে তেলে সান্তানার ব্রাজিলকে দেখেছি। এখনও চোখে ভাসে ফালকাও, কারেকা-দের খেলা। সেই ব্রাজিলের খেলায় প্রাধান্য পেত দৃষ্টিনন্দন ফুটবল। জেতা-হারা নয়। তাই বিরাশি, ছিয়াশিতে বড়দের বিশ্বকাপেও জোরদার দল নিয়ে মাঠে নেমেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। আর ব্রাজিল ফুটবলে বিবর্তন এসেছে নব্বই বিশ্বকাপ থেকেই। তখন থেকেই ব্রাজিল দলে স্কিলের সঙ্গে শক্তিকে মেলানোর পালা।

Advertisement

গত বিশ্বকাপ দেখতে ব্রাজিল গিয়েছিলাম। ওখানে পাড়ায় পাড়ায় দেখতাম, জলের কল বা বাসস্ট্যান্ড না থাকলেও একটা করে ফুটবল মাঠ ঠিক রয়েছে। আর সেখানে চুটিয়ে ফুটবল খেলছে সাত থেকে সাতান্ন। মজার ব্যাপার এটাই যে, খেলার সময় সব বলই মাটিতে রেখে পাস খেলতে হবে। বল শূন্যে উঠলেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামাবে। আর ধাক্কাধাক্কির ফুটবলটাও দারুণ সামাল দিচ্ছে পেলের দেশের খুদে খেলোয়াড়গুলো।

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে কার্লোস আমাদেউ-এর ব্রাজিল দলটা দেখে বুঝতে পারছি ব্রাজিল এখন শুধু সৃষ্টিশীল ফুটবল-ই খেলে না। স্কিলের সঙ্গে পাওয়ারটাও দারুণ মিশিয়ে দিয়েছে ওরা। বাচ্চা পওলিনহো-রা শুধু গতি আর স্কিল দিয়ে বাজিমাত করার টিম নয়। সঙ্গে প্রাধান্য দেয় শক্তি এবং শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও। আর ফুটবল বোধটা তো ওদের মজ্জাগত।

আরও পড়ুন: গরমে কাহিল দেখালেও মুখে স্বীকার করছে না জার্মানি

দু’টো তথ্য দিই। গ্রুপ লিগে স্পেনের বিরুদ্ধে এক গোল হজম করা ছাড়া টিমটা কিন্তু তার পরে ৩৫৫ মিনিট কোনও গোল খায়নি। যে টিমগুলোর মধ্যে রয়েছে, এশিয়ার দেশ উত্তর কোরিয়া। আফ্রিকার দেশ নিজার। আর বুধবার খেলল কনকাকাফ গ্রুপের দল হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে। এই টিমগুলোর সবাই ফিজিক্যাল ফুটবল বেশি প্রাধান্য দেয়। আর তিন মহাদেশের তিনটি দল একটা গোলও করতে পারেনি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। এতটাই শক্তপোক্ত ওদের রক্ষণ এবং মাঝমাঠ।

বুধবার রাতে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে দেখছিলাম হন্ডুরাসের ফুটবলাররা শুরু থেকেই ব্রেনের, পওলিনহো, লিঙ্কনদের পা চালাতে শুরু করল। অন্য টিম হলে হয়তো এই পরিস্থিতিতে পাল্টা পা চালিয়ে খেলাটা নষ্ট করতো। কিন্তু ব্রাজিলের বাচ্চাগুলো সে রাস্তাতেই হাঁটল না। কারণ, বিপক্ষের ফিজিক্যাল ফুটবল-এর মোকাবিলা কী ভাবে করতে হয় তা জানে এই ব্রাজিল।

আর স্কিল! ব্রেনেরের প্রথম গোলটা মনে করুন। টিমের মিডফিল্ড জেনারেল অ্যালান। উইং থেকে রাইট ব্যাক ওয়েসলির সঙ্গে ওয়াল খেলে ঠিক জায়গা করে নিল, তা দেখে যেন মনে হচ্ছিল ও যেন আগেই জানত বলটা ওর পায়েই আসবে। তার পর এমন নিখুঁত লো ক্রসটা রাখল যেখান থেকে গোল না হওয়াটাই অপরাধ।

দ্বিতীয় গোলের সময় মার্ক অ্যান্টোনিও হন্ডুরাস রক্ষণ থেকে ছিটকে বেরিয়ে গোলটা করে এল গতি আর শক্তিতে নির্ভর করে। ব্রেনের-এর দ্বিতীয় গোলটার পিছনেও সেই একই রসায়ন।

এ দিন জেতার ফলে যুবভারতীতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে আসছে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ জার্মানি। এই বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচটা দেখতে বুধবার থেকেই প্রহর গুণতে শুরু করে দিয়েছে গোটা বাংলা।

আরও পড়ুন

Advertisement