Advertisement
E-Paper

রঞ্জি ফাইনালে অশান্তি! মাঠেই কর্নাটকের ফিল্ডারকে জম্মু-কাশ্মীর অধিনায়কের ঢুঁসো, সামলাতে হিমশিম আম্পায়ার

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে অশান্তি হল। মাঠে প্রতিপক্ষ দলের ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারলেন জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পারস ডোগরা। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হল আম্পায়ারদের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৮
cricket

কর্নাটকের কেভি অনীশকে (বাঁ দিকে) ঢুঁসো মারছেন জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পারস ডোগরা। ছবি: এক্স।

প্রথম দিন কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের দ্বিতীয় দিন অশান্তি হল। মাঠেই কর্নাটকের ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারলেন জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পারস ডোগরা। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হল আম্পায়ারদের। শুধু প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারকে ঢুঁসো মারা নয়, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, লোকেশ রাহুলদের সঙ্গে বচসাতেও জড়ালেন পারস।

হুবলির মাঠে ঘটনাটি ঘটে জম্মু-কাশ্মীরের ইনিংসের ১০১তম ওভারে। সতীর্থ কানহাইয়া ওয়াধাওয়ানের সঙ্গে ব্যাট করছিলেন পারস। বল করছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাঁর একটি বল খেলার পরেই দেখা যায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা কেভি অনীশের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন পারস। তাঁদের মধ্যে কিছু কথা হয়। তার পরেই দেখা যায়, অনীশকে ঢুঁসো মারেন পারস। তবে দুই ক্রিকেটারই হেলমেট পরে থাকায় মাথায় চোট লাগেনি। পরে বোঝা যায়, পারসকে স্লেজ করায় মেজাজ হারান জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক।

আচমকা এই ঘটনায় অবাক হয়ে যান অনীশ। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন মায়াঙ্ক। তিনি পারসকে প্রশ্ন করেন, কেন ঢুঁসো মারলেন তিনি। তাতে পারস আরও কিছু বলেন। ঘটনাস্থলে এ বার আসেন রাহুল। তাঁর সঙ্গেও বচসায় জড়ান পারস। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে আসেন আম্পায়ারেরা। তাঁরা কথা বলেন পারসের সঙ্গে। কিছু ক্ষণ পর দেখা যায়, হাতের ইশারায় অনীশের কাছে ক্ষমা চাইছেন পারস। কিন্তু তা মানতে চাননি অনীশ। তিনি বার বার হাতের ইশারায় দেখান, ঢুঁসো মেরে ভাল করেননি পারস।

তার পরে দেখা যায়, কর্নাটকের অধিনায়ক দেবদত্ত পড়িক্কলের সঙ্গে দুই আম্পায়ার কথা বলছেন। তাঁরা তাঁকে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ফলে কিছু ক্ষণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পারসের কাজে খুশি হননি জম্মু-কাশ্মীরের প্রধান কোচ অনিল শর্মাও। ডাগ আউটে তাঁকে দেখে বোঝা যায়, বিরক্ত হয়েছেন। হাতের ইশারায় পারসদের খেলার দিকে মন দেওয়ার নির্দেশ দেন অনিল।

পরের ওভারে আবার একটি বচসা ঘটতে পারত। রান নেওয়ার সময় কর্নাটকের পেসার বিজয়কুমার বৈশাখের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ওয়াধাওয়ানের। দুই ক্রিকেটার আবার সামনাসামনি চলে আসেন। তবে কিছু বলার আগেই সেখানে চলে আসেন আম্পায়ারেরা। দুই ক্রিকেটারকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা।

মাঠে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব পড়েনি। দ্বিতীয় দিন চা বিরতিতে তাদের রান ৬ উইকেটে ৪৭৮। শুভম পুন্ডিরের ১২১ রানের পাশাপাশি রান করেছেন ইয়াওয়ের হাসান (৮৮), আব্দুল সামাদ (৬১) ও ওয়াধাওয়ান (৭০)। অধিনায়ক পারসও ৭০ রান করে আউট হন। কর্নাটকের বোলারদের মধ্যে সফল কৃষ্ণ। ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

২০০৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এ ভাবেই ইটালির মার্কো মাতেরাজ্জ়িকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। মাথা গরম করার খেসারত দিতে হয়েছিল তাঁকে। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইটালি। ক্রিকেটে অবশ্য লাল কার্ড নেই। তাই হয়তো এখন বেঁচে গেলেন পারস। কিন্তু খেলা শেষে নিজেদের রিপোর্টে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করবেন আম্পায়ারেরা। ফলে এই ঘটনার জেরে শাস্তি পেতে পারেন পারস।

India Cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy