বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রের শুরুতেই প্রতিপক্ষ ভারত। ঘরের মাঠে খেলা হলেও পাঁচ টেস্টের সিরিজ়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম। প্রস্তুতি হিসাবে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটি চার দিনের ম্যাচ খেলবেন বেন স্টোকসেরা।
আগ্রাসী ক্রিকেটের তত্ত্ব থেকে সরছেন না ম্যাকালাম। যে ধরণের ক্রিকেটের সঙ্গে সমর্থকেরা পরিচিত হয়ে গিয়েছেন, তেমন ক্রিকেটই স্টোকসদের খেলাতে চান ইংল্যান্ড কোচ। ম্যাকালাম বলেছেন, ‘‘আমরা নতুন টেস্ট মরসুম শুরু করতে চলেছি। তার আগে বিগত দিনের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখে নেওয়া দরকার। আমরা কোথা থেকে কোথায় পৌঁছোতে পেরেছি। আমরা কী কী অর্জন করতে পেরেছি। কোন কোন সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই দল যাদের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের জন্য আমরা কী করতে পেরেছি। নতুন মরসুমের আগে এগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।’’
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হওয়ার পর থেকে টেস্টে স্টোকসদের আগ্রাসী ক্রিকেট খেলাচ্ছেন ম্যাকালাম। তাঁর এই দর্শনকে বলা হচ্ছে বাজ়বল (ম্যাকালামের ডাক নাম বাজ়। তা থেকেই এসেছে বাজ়বল।)। কিন্তু এক বারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড। অথচ প্রতি বারই ফাইনাল ম্যাচ আয়োজিত হচ্ছে ইংল্যান্ডের মাটিতে। ইংরেজ ক্রিকেটপ্রেমীদের এই হতাশা অজানা নয় ম্যাকালামের। তাই এ বার বাড়তি সতর্ক তিনি। ম্যাকালাম বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয়েছে, আমাদের আগ্রাসী ক্রিকেট মানুষকে মুগ্ধ করেছে। তাঁরা একটা আগ্রাসী মনোভাবে দলের সঙ্গে একাত্ম হতে চেয়েছেন। এ ভাবে খেলতে গিয়ে আমরা বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়াও করেছি। সংবাদমাধ্যমের সামনে সপ্রতিভ ভাবে কথা বললেও খেলায় তার প্রতিফলন ছিল না সব ক্ষেত্রে। এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তবু চাই ইংরেজ সমর্থকেরা আমাদের সঙ্গে থাকুক। শুধু মাঠে পারফরম্যান্সের সময় নয়, সব সময় সমর্থকদের পাশে চাই।’’
ম্যাকালাম চান তাঁর দলের ক্রিকেটারেরা মাঠের মধ্যে এবং বাইরে চৌকস হোন। ক্রিকেটারদের জনসংযোগের ক্ষেত্রে উন্নতি চান। তিনি বলেছেন, ‘‘আপনি নিজেকে কী ভাবে উপস্থাপিত করছেন, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন বা কথা বলছেন— এসবও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বড় মঞ্চে প্রচারের আলোয় খেলার চাপ সামলাতে পারাই যথেষ্ট নয়। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দলের আরও উন্নতি প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের আরও নম্র হতে হবে।’’ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা যে যথেস্ট পারদর্শী নন, তা গত মাসেই স্বীকার করেছিলেন মার্ক উড। ইংল্যান্ডের জোরে বোলার বলেছিলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমের সামনে আমরা অনেক সময় বোকামি করে অদ্ভুত কিছু কথা বলি। আগামী দিনে এ ব্যাপারে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’’ উডের সেই মন্তব্যকেই সমর্থন করেছেন ম্যাকালাম। তবে ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ওরা প্রশিক্ষিত ক্রিকেটার। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য ওরা আলাদা প্রশিক্ষণ নেয়নি। ওরা অবিশ্বাস্য কঠোর পরিশ্রম করে। প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তবু কথা বলার সময় আর একটু চৌকস হতে হবে। মনে হয় ক্রিকেটারেরা পারবে।’’
ম্যাকালাম মেনে নিয়েছেন, আগামী কয়েকটা সিরিজ় ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। ম্যাকালামের বিশ্বাস, এ বার তাঁরা সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ের সময় যাতে ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে ছ’মাস আগে মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন স্টোকস। ইংল্যান্ড অধিনায়কের এই মানসিকতারও প্রসংশা করেছেন ম্যাকালাম। তিনি বলেছেন, ‘‘মনে হয় ও ব্যক্তিগত ভাবে নিজেকে একটা জায়গায় দেখতে চায়। এক জন যে প্রতিভা নিয়ে জন্মায় এবং যে সুযোগ পায় তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা উচিত। ও হয়তো সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে। বিশেষ করে ক্রিকেটজীবনের শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতিভাকে সর্বাধিক কাজে লাগাতে চাইছে। এই ধরনের ভাবনা অত্যন্ত ইতিবাচক।’’
আরও পড়ুন:
অতীতের সাফল্য থেকে উৎসাহ এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন টেস্ট মরসুম শুরু করতে মুখিয়ে রয়েছেন ম্যাকালাম। ইংল্যান্ড কোচ চান এ বার সমর্থকদের ভাল কিছু উপহার দিতে।