বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার টেস্ট থেকে অবসরের আসল কারণ কি গৌতম গম্ভীর? সোমবার এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে গম্ভীরের মন্তব্যে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি কথা বলেছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং কেকেআর নিয়েও।
সোমবার কলকাতায় ‘রেভস্পোর্টজ়’-এর একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন ভারতের কোচ। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সাম্প্রতিক অতীতে বহু বার খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর খারাপ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কখনও রোহিত, কখনও কোহলির বিরুদ্ধে তাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গম্ভীর নিজেও এ ব্যাপারে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। এই মন্তব্য তিনি কী ভাবে সামলান?
গম্ভীর বলেছেন, “আমি মানুষ। অন্য কারও মতো আমিও ভুল করতে পারি। খেলোয়াড়দেরও ভুল করার অধিকার রয়েছে। আমি গত ১৮ মাসে অনেক ভুল করেছি। স্বীকার করতে কোনও লজ্জা নেই। একটা জিনিসে বরাবর বিশ্বাস করি, সঠিক মানসিকতা নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য। কিন্তু খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না। সকলকে ভুল করার অধিকার দিতে হবে।” অর্থাৎ প্রকারান্তরে গম্ভীর স্বীকার করে নিয়েছেন, টেস্ট খেলা নিয়ে রোহিত এবং কোহলির উপরে পরোক্ষে চাপ দেওয়া হয়তো তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ইংল্যান্ডে গিয়ে ভাল লড়াই করলেও ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকাম হয়েছিল ভারত।
গম্ভীর জানিয়েছেন, সততা তাঁর কাছে সবার আগে। তাঁর মতে, যত ক্ষণ সাজঘরে সকলের কাছে সৎ থাকতে পারছেন তত ক্ষণ নিজের পদের প্রতি সুবিচার করতে পারবেন। গম্ভীরের কথায়, “ক্রিকেটারেরা কেন ভুল করতে পারে না? ওরাও তো মানুষ। যত ক্ষণ আমি সৎ ভাবে সব কাজ করছি এবং ম্যাসিয়োর থেকে সহকারি কোচ, সাজঘরে প্রত্যেকের প্রতি সৎ থাকছি, তত ক্ষণ আমি নিজের পদের প্রতি সুবিচার করছি বলেই মনে করি।”
ধোনিকে কোচ চান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর গম্ভীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন ধোনি। এ-ও বলেছিলেন, গম্ভীরের মুখে হাসি ভাল লাগে। সেই পোস্টের উত্তরও দেন গম্ভীর। এ দিন ধোনির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “ও মাঠে এসে ফাইনাল দেখেছে। খুব ভাল লেগেছে আমার। আমাকে হাসতে বলেছে, সেটা দেখেও ভাল লেগেছে। আশা করি কোনও এক দিন ওকে আমার পদে দেখতে পাব। তা হলে আমিও ওকে একই কথা লিখব। আশা করব ডাগআউটেও ওর মুখে হাসি দেখা যাবে।”
কেকেআরের প্রশংসা
দলের মেন্টর হিসাবে ২০২৪-এ কেকেআরকে ট্রফি জিতিয়েছিলেন গম্ভীর। তার পরেই ভারতের কোচ হন তিনি। গম্ভীর মনে করেন, কেকেআর না থাকলে তিনি ভারতের কোচ হতেই পারতেন না। বলেন, “কেকেআরের মেন্টর হওয়া খুব সম্মানের ছিল। ৭-৮ বছর পর কেকেআরে মেন্টর হিসাবে ফিরেছিলাম। সেই দায়িত্ব পালন করার মাঝেই যখন কেকেআর ভাল খেলতে শুরু করেছিল, তখন জয় (শাহ) ভাইয়ের থেকে ফোন পেয়েছিলাম। ও বলেছিল, তোমাকে এই কাজটাই ভারতের হয়ে করতে হবে। ভারতের কোচ হতে হবে।”
গম্ভীরের সংযোজন, “সেই সময় আমি তৈরি ছিলাম না। কারণ আগে কখনও কোনও দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলাম না। বরাবর উপদেষ্টাই থেকেছি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম কতটা বড় চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে চলেছি। কারণ প্রধান কোচ এবং উপদেষ্টার কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জ না থাকলে জীবনে আর মজা আসবে কী করে? আমি ভেবেছিলাম, যদি সততা থাকে, হৃদয় ঠিক জায়গায় থাকে এবং যদি বুঝতে পারি ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা কতটা, তা হলেই দায়িত্ব নেব। সেটা পেরেছিলাম।”
আরও পড়ুন:
ভারতের কোচ হওয়ার নেপথ্যে কেকেআরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, “ভারতের কোচ হওয়ার ক্ষেত্রে কেকেআরের পদ প্রচুর সাহায্য করেছে। কেকেআরে না ফিরলে এবং দল ভাল না খেললে আজ যেখানে আছি সেখানে কোনও দিন থাকতে পারতাম না। তাই কেকেআর আমার জীবনে সৌভাগ্য এনে দিয়েছে। কলকাতার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আলাদাই।”