দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সিরিজ় আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল তৃতীয় ম্যাচে একটু হলেও লড়াই দেবে আফগানিস্তান। তবে বাস্তবে লড়াই করলেন একা অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ শাহিদি। সঙ্গে কিছুটা সঙ্গত দিলেন আজ়মাতুল্লাহ ওমরজ়াই। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া আফগানিস্তান তৃতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে তুলল ২১৮। শাহিদি শতরান করলেন। প্রসিদ্ধ পাঁচ উইকেট নিলেন।
শাহিদি টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভাবতেও পারেননি চেন্নাইয়ের পিচে এ ভাবে ধসে যাবে আফগানিস্তানের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ওভারে প্রসিদ্ধের বলে ফিরে যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ় (৫)। এর পর একে একে প্রসিদ্ধ তুলে নেন ইব্রাহিম জ়াদরান (১১), রহমত শাহ (৫) এবং দারউইশ রসুলিকে (১)। এক সময় তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৫-২-৬-৪। প্রথম দু’ওভার মেডেন দেন।
সেখান থেকে আফগানিস্তানকে বাঁচাতে লড়তে নামে শাহিদি এবং ওমরজ়াই। দু’জনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ১১৪ বল ১০৫ রানের জুটি গড়েন। শাহিদি অনেকটাই ধরে খেলছিলেন। তুলনায় চালিয়ে খেলছিলেন ওমরজ়াই। আইপিএলে খেলার সুবাদে এই পিচ তাঁর ভালই চেনা। সেটাই কাজে লাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ৫৬ বলে ৫০ করে ফিরে যান তিনি।
ওমরজ়াই ফেরার পর আবার আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এক প্রান্তে শাহিদি ধরে থাকলেও উল্টো দিকে কাউকে পাচ্ছিলেন না। ফরিদ আহমেদ ফিরে যাওয়ার সময়েও শতরান থেকে ৯ রান দূরে ছিলেন শাহিদি। তবে জ়িয়া উর রহমান কোনও মতে একটি দিক ধরে রাখায় শতরান করেন শাহিদি। ৪৪তম ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরকে চার মেরে শতরান করেন। শাহিদির ইনিংসে মুগ্ধ হয়ে সমর্থকেরা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।
শতরানের পর পায়ের পেশিতে টান ধরে শাহিদির। মাঠেই বেশ কিছু ক্ষণ চিকিৎসা নিতে দেখা যায় তাঁকে। পরে উঠে দাঁড়ান। তবে বেশি ক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। ১০২ রানের মাথায় প্রসিদ্ধের বলে শ্রেয়স আয়ারের হাতে ক্যাচ দিতেই আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায়।