বিয়ের বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। বাগ্দত্তা ও বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুণের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি এক তরুণ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বন্ধুদের সঙ্গে বাগ্দত্তার আসন্ন জন্মদিনের উৎসব উদ্যাপন করতে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন বিশাল অগ্রবাল নামের তরুণ। ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে তাঁর। প্রায় ৪০০ ফুট নীচে এক গভীর গিরিখাতে পড়ে যান তরুণ। তাঁর দেহ উদ্ধার করে আনার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
গাহুঞ্জের বাসিন্দা এবং পারিবারিক রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কেতন বৃহস্পতিবার তাঁর বাগ্দত্তা ও দুই বন্ধুকে নিয়ে মাভাল তহসিলের এক মনোরম পাহাড়ি দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাগ্দত্তার জন্মদিনের আগের মুহূর্তটি আনন্দের সঙ্গে উদ্যাপন করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কিন্তু যে ভ্রমণটি সুখের স্মৃতি হয়ে থাকার কথা ছিল, তা আচমকাই এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বদলে যায় শোক ও আতঙ্কে। পুলিশ জানিয়েছে, সকাল প্রায় সাড়ে ১০টায় কেতন একটি খাড়া পাহাড়ের কিনারার কাছে ছবি তুলছিলেন। এমন সময় হঠাৎ তিনি পা পিছলে পড়ে যান। দুর্গের উপর দিয়ে প্রবল বাতাস বইছিল। তিনি পিছলে প্রায় ৪০০ ফুট নীচে এক গভীর গিরিখাতে পড়ে যান। মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে খাদে পড়ে থাকেন কেতন। নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না কেতনের বাগ্দত্তা ও তাঁর বন্ধুদের। কেতনকে উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো পুনেপাল্স নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যsরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। খাড়া পাহাড়ি এলাকা, দুর্গম পথ এবং ঘন জঙ্গলের প্রতিকূলতার মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার লাগাতার প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা উপত্যকা থেকে ওই যুবকের দেহ উদ্ধার করেন। জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেতন। আগামী নভেম্বরে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে দুই পরিবারই ইতিমধ্যেই আয়োজন শুরু করে দিয়েছিল। জাঁকজমক করে বিয়ের অনুষ্ঠান পালনের জন্য রাজস্থানের উদয়পুরের একটি প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল। সমস্ত আনন্দ-আয়োজন থমকে গিয়েছে কেতনের পরিবারের। পুত্রকে হারানোর খবর পেয়ে শোকে স্তব্ধ অগ্রবাল পরিবার।