Advertisement
E-Paper

৭-১ হল ৮-১! ভারতের সামনে আবারও উড়ে গেল পাকিস্তান, ঈশানের ঝড়ে ৬১ রানে জিতে বিশ্বকাপের সুপার এইটে সূর্যোদয়

ম্যাচ থেকে যে উত্তেজনা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। কার্যত একপেশে লড়াইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারাল ভারত। পরিসংখ্যান বেড়ে হল ৮-১।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৬
cricket

ভারতের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। ছবি: এএফপি।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে রবিবারের ম্যাচই হত না। হয়তো লজ্জার হাত থেকেও বেঁচে যেত পাকিস্তান। আট দিনে বয়কটের সিদ্ধান্ত বদলায় তারা। গোটা ঘটনার প্রভাব যে শুধু পাকিস্তানের উপরেই পড়েছে, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল রবিবারের ম্যাচে। দেখা গেল, দু’দেশেরক ম্যাচ এখন কেবল নামেই মহারণ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি সাক্ষাতের পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ হয়ে গেল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ১৭৫/৭। জবাবে পাকিস্তান থেমে গেল ১১৪ রানে। শেষের দিকে শাহিন আফ্রিদি যদি না চালিয়ে খেলতেন তা হলে একশোরও কমে শেষ হয়ে যেতে পারত তাদের ইনিংস। ম্যাচের কোনও সময়েই পাকিস্তানকে দেখে মনে হয়নি তাঁরা এই ম্যাচ জিততে পারে। প্রথম দু’ওভারের পরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে অলৌকিক কিছু না হলে এই ম্যাচ ভারতই জিততে চলেছে। হলও তাই।

ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ঈশানের ব্যাটিং। কিন্তু গোটা দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা না থাকলে এই জয় আসত না। ফিল্ডিংয়ের সময় সূর্যকুমার যাদব সাহসী কিছু সিদ্ধান্ত নেন, যা দিনের শেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঈশানের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং

কলম্বোর পিচ ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে চিন্তা ছিল ভারতীয় দলে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, কলম্বোর চরিত্র মেনে মন্থর পিচই বানানো হয়েছে। সেই পিচে ঈশান যে ইনিংসটি খেললেন তা ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে আজীবন থেকে যাবে। ভারতীয় দলে ফেরার পর থেকেই রানের মধ্যে রয়েছেন ঈশান। তবে জাত খেলোয়াড় তাঁরাই হন যাঁরা আসল ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারলেন। ঠিক সেটাই করলেন ঈশান। শাহিন আফ্রিদিকে ছয় মেরে স্বাগত জানালেন। ম্যাচ যত এগোল তত ঈশানের আগ্রাসন বাড়ল। পাকিস্তানের স্পিনারদের কোনও সুযোগ দিচ্ছিলেন না তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, অন্য পিচে খেলতে নেমেছেন ঝাড়খণ্ডের ব্যাটার। কতটা আত্মবিশ্বাস থাকলে তবে এ ধরনের শট খেলা যায় তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ঈশান। ভারত যে রানটা তুলেছে, তার ধারেকাছেও পৌঁছত না যদি ঈশান ওই ইনিংস না খেলতেন।

সূর্য-তিলকের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং

ঈশান যে ছন্দে ব্যাট করেছেন তা যে সকলের পক্ষে সম্ভব নয় তা বুঝে গিয়েছিলেন সূর্যকুমার এবং তিলক বর্মা। তাই ঝুঁকি নিয়ে চালিয়ে খেলার বদলে তাঁরা মন দেন খুচরো রান নেওয়ায়। তাতে রানের গতি কমে গেলেও কখনও স্কোরবোর্ড থেমে যায়নি। তৃতীয় উইকেটে দু’জনের ৩৮ রানের জুটি পরিস্থিতির বিচারে অনেক মূল্যবান। আমেরিকার পর আরও একটি ম্যাচে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেললেন সূর্য।

শেষ বেলায় শিবমদের ঝড়

ভারতের রান ১৫০ হয়তো পেরোত না, যদি না শেষ দিকে শিবম দুবে এবং রিঙ্কু সিংহ চালিয়ে খেলতেন। হাতে উইকেট থাকায় কেউ আর সাবধানি হয়ে খেলার চেষ্টা করেননি। তিনটি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ১৭ বলে ২৭ করেন শিবম। রিঙ্কু ৪ বলে ১১ রান করেন।

শুরুতেই পাকিস্তানকে তিন ধাক্কা

কলম্বোর কঠিন পিচে কোনও দল যদি প্রথম দু’ওভারেই টপ অর্ডারকে হারিয়ে ফেলে, তা হলে তাদের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না। কলম্বোয় পাকিস্তান কোনও অলৌকিক কাজ করে দেখাতে পারেনি। ভারতের বিরুদ্ধে সাহিবজ়াদা ফারহানের পরিসংখ্যান নিয়ে ম্যাচের আগে উত্তাপ বাড়ানো হয়েছিল পাকিস্তান শিবির থেকে। হার্দিকের চতুর্থ বলেই আড়াআড়ি শট চালাতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন রিঙ্কুর হাতে। বুমরাহের প্রথম বলেই আউট হতে পারতেন সাইম আয়ুব। মিস্‌ হিটে সেটি ছয় হয়ে যায়। পরের বলেই নিখুঁত একটি ইয়র্কার দিলেন বুমরাহ। পা সরানোর জায়গাই ছিল না। আট বলে দু’উইকেট হারালে ধরে খেলাটাই স্বাভাবিক বুদ্ধি। সেই ওভারেই সলমন একটি আলগা শট খেলতে গেলেন। বল তালুবন্দি করলেন হার্দিক। পাকিস্তানের লড়াই ওখানেই শেষ হয়ে গেল।

সলমনের দুই বিপরীত সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের পাঁচ স্পিনারের জন্য তৈরি হয়েই নেমেছিল ভারত। মেঘের আড়ালে যে আরও একটি অস্ত্র লুকনো আছে তা জানা ছিল না। প্রথম ওভার করতে নিজেই এলেন সলমন। অভিষেক শর্মার উইকেটও পেয়ে গেলেন। এটি যদি তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত হয়, তবে খারাপ সিদ্ধান্ত শেষ ওভারে শাহিনের হাতে বল তুলে দেওয়া। ভারতের ইনিংসে একটি ওভারেই ১৫ রান দিয়েছিলেন তিনি। শেষ ওভারে দিলেন ১৬ রান দিলেন। ওখানেই ভারতের রান অনেকটা বেড়ে গেল।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বুদ্ধিতে টেক্কা সূর্যের

ম্যাচের মাঝে একটি পরিসংখ্যান দেখানো হল টিভির পর্দায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ইনিংসে ছ’জন স্পিনার ব্যবহার করার নজির এ দিনই প্রথম। পাকিস্তান ইতিহাসে নাম তুলল ঠিকই। তবে বুদ্ধিতে ভারতকে টেক্কা দিতে পারল না। সূর্যকুমার প্রথম চার ওভার বল করালেন জোরে বোলারদের দিয়েই। তাঁদের খেলতে গিয়েই কেঁপে গেল পাকিস্তান। হারাল তিনটি উইকেট। ওখানেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেল।

India vs Pakistan Suryakumar Yadav Ishan Kishan Salman Agha
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy