পরনে পরিচিত আইনজীবীর কালো কোট, গলায় ব্যান্ড। নদিয়ার জেলা আদালত চত্বরে দেখা যেত ‘আইনজীবী’ কৌশিক দেবনাথকে। মক্কেলদের আইনি পরামর্শ দেওয়া, মামলা লড়া— সবই করতেন। কিন্তু আদতে তিনি আইনজীবী-ই নন! চাকদহ থেকে ওই ভুয়ো আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, বৈধ ডিগ্রি বা শংসাপত্র ছাড়াই দীর্ঘ দিন ধরে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকদহ এলাকার বাসিন্দা কৌশিক অনেক দিন ধরে আইনজীবী হিসাবে ‘প্র্যাকটিস’ করছেনয় শুধু জেলা-ই নয়, কলকাতার শিয়ালদহ আদালতেও তাঁর আনাগোনা ছিল। ‘দ্রুত’ ফয়সালা করিয়ে দেওয়া কিংবা জামিন করিয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিতেন। প্রায় পনেরো বছর ধরে এ ভাবেই চলছিল।
সম্প্রতি কিছু বিষয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় আইনজীবীরা কৌশিকের সম্পর্কে খোঁজখবর করেন। জানা যায়, আইনজীবী হিসাবে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশনই নেই তাঁর। থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয় কৌশিকের বিরুদ্ধে। রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করে চাকদহ থানার পুলিশ। পুলিশি জেরায় ধৃত ব্যক্তি নিজের অপরাধ কবুল করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু ভুয়ো নথি ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশেরই একটি সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
কৌশিকের গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই কপালে ভাঁজ পড়েছে তাঁর কাছে আইনি পরামর্শ নিতে আসা মক্কেলদের। অনেকেই মামলা লড়ার জন্য প্রচুর টাকা দিয়েছেন তাঁকে। নদিয়া জেলা আদালতেও এই খবর চাউর হয়ে গিয়েছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সোমবার ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হবে। এ বার আইনজীবীই অভিযুক্ত হয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়াবেন।