আবার কল্যাণী এমসে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ! মোটা বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে দু’জনকে পাকড়াও করল পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক জাল নিয়োগপত্র, স্ট্যাম্প এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু ডিজিটাল নথি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি বহরমপুরে। দীর্ঘ দিন ধরে একটি ‘সুসংগঠিত প্রতারণাচক্র’ চালাচ্ছিলেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় হাসপাতালের নাম এবং লোগো ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট এবং সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সেখানে বিজ্ঞাপন দেখে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী যোগাযোগ করেন। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অভিযুক্তেরা চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেন। তার পর সরকারি লেটারহেডের আদলে তৈরি ভুয়ো নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়েছিলেন। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
কয়েক জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়ার পর কল্যাণী এমসে কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁরা জালিয়াতদের পাল্লায় পড়েছেন। দ্বারস্থ হন পুলিশের। এমনই একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বহরমপুর থানার পুলিশ দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই চক্রের জাল কেবল মুর্শিদাবাদ বা নদিয়া নয়, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ছড়িয়ে রয়েছে। জালিয়াত চক্রের মাথায় কে বা কারা রয়েছেন, তা জানতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইলের তথ্য খতিয়ে দেখে বড়সড় জালিয়াতি চক্রের শিকড়ে পৌঁছোনোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আগেও সতর্ক করা হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে, কোনও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কেবল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং বৈধ বিজ্ঞপ্তির উপরেই যেন ভরসা রাখেন সকলে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।