টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এমন ভাবেই গ্রুপ বিন্যাস করা হয়েছে যেখানে দু’টি বড় দলের গ্রুপে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। শনিবার তেমনই একটি ম্যাচ ছিল অহমদাবাদে। মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউ জ়িল্যান্ড। সেই ম্যাচে জিতে প্রোটিয়ারা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল সুপার এইট। অপেক্ষায় থাকতে হবে নিউ জ়িল্যান্ডকে।
প্রথমে ব্যাট করে নিউ জ়িল্যান্ড তুলেছিল ১৭৫/৭। মার্ক চ্যাপম্যান (৪৮) বাদে কেউই সে ভাবে বড় রান পাননি। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দিলেন অধিনায়ক এডেন মার্করাম। ৪৪ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। ১৭ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট হল। নিউ জ়িল্যান্ড পরের ম্যাচে জিতলে তারা সুপার এইটে পৌঁছে যাবে।
গত বার ফাইনাল খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এ বার তাদের সম্ভাবনা নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তুলে থাকেন, তাদের জাগিয়ে দিল এই পারফরম্যান্স। দক্ষিণ আফ্রিকা দেখাল, তারা ট্রফি জিততেই এসেছে। হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। এই ধরনের পিচে যেখানে গড় রান ২০০, সেখানে তার থেকে অনেক কমে কিউয়িদের আটকে রাখল। রানও তাড়া করে ফেলল অনায়াস দক্ষতায়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে শুরুটা ভালই করেছিলেন দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী হওয়ার মূল্য চোকাতে হয় সেইফার্টকে (১৩)। অ্যালেনও (৩১) নিজের ইনিংস বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। রান পাননি রাচিন রবীন্দ্র (১৩) এবং গ্লেন ফিলিপসও (১)।
নিউ জ়িল্যান্ড এক সময় ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। সেখান থেকে দলকে টানেন চ্যাপম্যান (৪৮) এবং ড্যারিল মিচেল (৩২)। পঞ্চম উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। চ্যাপম্যান ফিরতেই আবার ধস নামে নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। পর পর আরও দু’টি উইকেট তারা। শেষ দিকে জিমি নিশামের (১৫ বলে ২৩) সৌজন্যে ১৭৫ তোলে।
আরও পড়ুন:
জবাবে মার্করাম শুরু থেকেই একটা দিক ধরে রেখে চালিয়ে খেলছিলেন। ফলে বাকি ব্যাটারদের সে ভাবে চিন্তাই করতে হয়নি। প্রোটিয়া অধিনায়কের দাপটে ৪.৪ ওভারে ৬২ তুলে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ার প্লে-তে ওঠে ৮৩ রান। ওখানেই ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়।
মার্করাম ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও ব্যাটারই বড় রান পাননি। কুইন্টন ডি কক (২০), রায়ান রিকেলটন (২১), ডেওয়াল্ড ব্রেভিসেরা (২১) শুরুটা ভাল করেও ফিরে যান। অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জেতান ডেভিড মিলার (অপরাজিত ২৪)।