নাম না করে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন জয় শাহ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দু’দেশ সমস্যা তৈরি করায় ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) চেয়ারম্যান। জয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও দল সংস্থার থেকে বড় নয়।
নির্বিঘ্নে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দু’দেশের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন জয়। মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে আইসিসি চেয়ারম্যান নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ বিশ্বকাপ শুরুর আগে কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করবে কিনা বা কী ভাবে প্রতিযোগিতা হবে, তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসাবে বলব, কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়। কোনও একটি দল কোনও সংস্থা বা সংগঠন তৈরি করতে পারে না। সংস্থা হল সব দলের সমন্বয়।’’
আইসিসি চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, ‘‘এ বারের বিশ্বকাপ দর্শক সংখ্যায় আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার আমরা একসঙ্গে ৭২ লাখ দর্শক পেয়েছি। বিশ্বকাপের মোট দর্শকের সংখ্যাও আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এ বারের বিশ্বকাপে আমেরিকা সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল ভারতকে। নেদারল্যান্ডস চাপে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। জ়িম্বাবোয়ে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে। ইংল্যান্ডও বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল নেপালের বিরুদ্ধে। এ বার আইসিসির সহযোগী দলগুলো পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ভাল খেলেছে। সহযোগী দলগুলোকে আমার অভিনন্দন।’’ জয় সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন, একটি পূর্ণ সদস্য দেশ বিশকাপে না থাকলেও দর্শক সংখ্যায় কোনও প্রভাব পড়েনি।
সমস্যার সূত্রপাত বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাদ দেওয়ায়। ভারতে খেলতে এলে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কয়েক দফা আলোচনার পরও ভারতে দল পাঠাতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে আইসিসি। সে সময় বাংলাদেশের দাবি সমর্থন করেছিল শুধু পাকিস্তান। মহসিন নকভিরাও নানা জটিলতা তৈরির চেষ্টা করেন। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচ না খেলার কথাও বলেছিল পাকিস্তানের সরকার। সে সময় মুখ বুজে পরিস্থিতি সামাল দেন জয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের সাফল্যে খুশি জয়। আইসিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘‘সূর্যকুমার যাদব এবং গৌতম গম্ভীরের জন্য আমার একটা বার্তা রয়েছে। শীর্ষস্থান থেকে নীচে নামতে কয়েক মাস লাগে। অথচ নীচ থেকে শীর্ষে উঠতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়। তাই আপনারা কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান এবং ট্রফি জিততে থাকুন। বিসিসিআইয়ে থাকার সময় ২০২৮ সালের অলিম্পিক্স পর্যন্ত পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম। এখন আমি আইসিসিতে। বিসিসিআইয়ের দায়িত্বে অন্যেরা এসেছেন। আমার তো মনে হয় এখন থেকেই ২০৩০-৩১ বা ২০৩৬ পর্যন্ত পরিকল্পনা করে ফেলা উচিত।’’