টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব সঞ্জু স্যামসনকে দিলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতীয় দলের কোচের মতে, ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে খেলা সঞ্জুর ইনিংসই দলের মেজাজ বদলে দিয়েছিল। সেই মেজাজে ভর করেই কাপ জিতেছেন সূর্যকুমার যাদবেরা।
বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে রান পাননি সঞ্জু। কেরলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের উপর বিশ্বকাপের শুরুতে ভরসা রাখতে পারেননি ভারতীয় দলের কোচ। অভিষেক শর্মার অসুস্থতার জন্য নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলালেও পরের ম্যাচেই ছেঁটে ফেলেছিলেন প্রথম একাদশ থেকে। ‘ব্রাত্য’ করে রাখা সেই সঞ্জুকেই মোড় ঘোরানোর কৃতিত্ব দিয়েছেন গম্ভীর।
বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘কোন ঘটনা মোড় ঘুরিয়েছে এটা বলা খুব কঠিন। আমি বিশ্বাস করি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সঞ্জুর ৯৭ রানের ইনিংসই আমাদের বিশ্বকাপ অভিযানের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই ম্যাচটা কিন্তু আমাদের কাছে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল। এক জন জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে চার-পাঁচটা ম্যাচ খেলেনি। তা-ও কী দুর্দান্ত ইনিংস। দেখিয়ে দিয়েছিল, কী ভাবে ফিরে আসতে হয়। ১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসটা খেলেছিল। একটা কথা মনে রাখতে হবে, যে মাঠেই খেলা হোক, বিশ্বকাপের ম্যাচ কখনও সোজা হয় না।’’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সঞ্জুর ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস শুধু ভারতীয় দলকে সেমিফাইনালে তুলে দেয়নি। সূর্যদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছিল। গম্ভীর বলেছেন, ‘‘ম্যাচটায় সঞ্জু একদম মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাট করেছিল। ভীষণ শান্ত দেখাচ্ছিল ওকে। অথচ কী আগ্রাসী ব্যাটিং। সঞ্জুর ওই ইনিংসটাই গোটা দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। ওর ইনিংস দেখে মনে হয়েছিল, আমরা ঠিক পথেই এগোচ্ছি। ওর ওই ইনিংসটার আগে আমরা নানা রকম আলোচনা করছিলাম। দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোয় আমরা আগ্রাসী ব্যাটিং করি। আইসিসির প্রতিযোগিতাগুলোয় আমরা কেন সে ভাবে খেলতে পারি না, এ সব আলোচনা হচ্ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচে সঞ্জুর ইনিংস আর তিন নম্বরে ঈশান কিশনের আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে মনে হল, সব ঠিক আছে। আমরা যেটা চাইছিলাম, সেটা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।’’
অভিষেকের টানা ব্যর্থতায় কিছুটা বাধ্য হয়েই সঞ্জুকে প্রথম একাদশে ফিরিয়েছিলেন গম্ভীর। ঈশানের উইকেট রক্ষাও প্রত্যাশিত মানের হচ্ছিল না। সঞ্জু প্রথম একাদশে ফেরায় সেই সমস্যারও সমাধান হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন সঞ্জু। একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ফাইনালে তাঁকে খেলানোর কথা ভেবেছিলেন তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে ঋষভ পন্থকেই খেলান।
আরও পড়ুন:
শুধু দুই বিশ্বকাপেই নয়, ভারতীয় দলে বার বার ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে সঞ্জুকে। সাফল্য পেলেও কোনও অজ্ঞাত কারণে তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারেননি কোচ-অধিনায়কেরা। এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়ে সঞ্জুও এত বছরের বঞ্চনার জবাব দিয়েছেন।