Advertisement
E-Paper

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ, ফিফাকে বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচ পিছোনোর আর্জি ইরাকের কোচের, ইরানের মহিলা দলকে আশ্রয় দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া

ইরাকের জাতীয় দলের কিছু ফুটবলার দেশের ক্লাবেই খেলেন। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁরা যোগ দিতে পারছেন না প্রস্তুতি শিবিরে। অন্য দিকে, ইরানের মহিলা দল জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় রাষ্ট্রের রোষে পড়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ২১:১৬
picture of football

ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি। ছবি: এক্স।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফুটবল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্লে-অফ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করলেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। সূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ বলিভিয়া-সুরিনাম ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা ইরাকের। অন্য দিকে, ইরানের মহিলা ফুটবলারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্লে-অফ ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে পারছেন না আর্নল্ড। তিনি নিজেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আটকে রয়েছেন। ইরাকের জাতীয় দলের ৬০ শতাংশ ফুটবলার দেশেরই কোনও না কোনও ক্লাবে খেলেন। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁরাও যোগ দিতে পারছেন না হোস্টনের প্রস্তুতি শিবিরে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ইরাকের কোচ। ১৯৮৬ সালে শেষ বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছিল ইরাক। এ বার আবার মূলপর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন আর্নল্ড। মেক্সিকো সিটিতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচ জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। কিন্তু প্রস্তুতির অভাব তাঁকে চিন্তায় রেখেছে।

ইরাকের কোচ বলেছেন, ‘‘এই মুহূর্তে ফুটবলারদের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফিফা ম্যাচ পিছিয়ে দিলে আমরা প্রস্তুতি একটু সুযোগ পাব। বলিভিয়া এবং সুরিনাম নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী খেলবে। আমাদের জন্য সেরা বিকল্প হতে পারে, বিশ্বকাপের আগে আগে ম্যাচটি খেলা। ফুটবলের প্রতি ইরাকের মানুষের ভালবাসা কল্পনাতীত। ৪০ বছর পর আমাদের সামনে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে। আমাদের সবটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।’’

ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সচিবও ফিফাকে সূচি বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন। আদনান দিরজাল যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘‘এই ম্যাচটা সাধারণ কোনও ম্যাচ নয়। এই ম্যাচের উপর একটা জাতির স্বপ্ন নির্ভর করছে।’’

অন্য দিকে, অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া ইরানের মহিলা ফুটবল দল পড়েছে রাষ্ট্রের রোষে। যুদ্ধ শুরুর দু’দিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় দলের কোনও ফুটবলার গলা মেলাননি। কারও মুখ নড়তে দেখা যায়নি। তাতে মনে করা হয়, জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহিলা ফুটবলারেরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মহিলা ফুটবলারদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলা হয়েছে। এর পর থেকে দেশে ফেরার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা এবং দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের ফুটবলারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিকে পারে অস্ট্রেলিয়া। সে দেশে বসবাসকারী ইরানিরা ফুটবলারদের দেশে ফেরত না পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন। একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংগঠনও এই পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিক করার দাবি জানিয়েছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, ক্যানবেরা বিমানবন্দরে ফুটবলারেরা পৌঁছোনোর পর রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে বিবেচনা করা হতে পারে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, ‘‘ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।’’

FIFA World Cup 2026 Iraq US Iran Conflict Australia fifa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy