প্রথম কোয়ালিফায়ারের ছবিই দেখা গেল আইপিএলের ফাইনালে। আরও এক বার দাপট দেখালেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারেরা। ভুবনেশ্বর কুমার়, জশ হেজ়লউডদের দাপটে রান পেলেন না শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন। রান পেলেন না জস বাটলারও। ফলে সমস্যায় পড়ল গুজরাত। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করল তারা।
চলতি আইপিএলে গুজরাতের প্রায় ৬০ শতাংশ রান করেছেন শুভমন ও সুদর্শন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এই দু’জনের ব্যাটেই জিতেছে গুজরাত। ফলে ফাইনালেও দলকে ভাল শুরু করার দায়িত্ব ছিল এই দু’জনের কাঁধেই। সেটা ভাল ভাবে জানতেন বেঙ্গালুরুর বোলারেরা। ফলে দুই ব্যাটারের বিরুদ্ধে অন্য পরিকল্পনা করে নেমেছিলেন তাঁরা। সেটা কাজে লাগল।
হেজ়লউড বা ভুবনেশ্বর সাধারণত লেংথ বল করেন। সুইং করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ফাইনালের পিচে বেশি সুইং ছিল না। তাই দুই বোলারই শর্ট বলের উপর ভরসা করলেন। সেই শর্ট বলই তাঁদের সাহায্য করল। হেজ়লউডের বলে পুল মারতে গিয়ে ১০ রান করে আউট হলেন শুভমন। সেই বলটি পুল মারার বল ছিল না। শট নির্বাচনে ভুল করেন শুভমন। ভাল ক্যাচ ধরেন অধিনায়ক রজত পাটীদার। সুদর্শন আবার ভুবনেশ্বরের বাউন্সার সামলাতে পারেননি। ক্যাচ তোলেন। সেই ক্যাচটিও ভাল ধরেন জিতেশ শর্মা। ১২ রানে আউট হন সুদর্শন।
নিশান্ত সিন্ধু ও বাটলার দলের ইনিংস ধরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টেকেনি সেই জুটিও। রাসিখ দারের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন নিশান্ত। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর ছ’ওভার একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি গুজরাতের ব্যাটারেরা। রান তোলার গতি কমছিল। ফলে চাপ বাড়ছিল। বাধ্য হয়ে ক্রুণাল পাণ্ড্যের বল বেরিয়ে খেলার চেষ্টা করেন বাটলার। ক্রুণাল বুদ্ধি করে বাটলারের থেকে দূরে বল করেন। বাটলার বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি। স্টাম্প আউট হন তিনি। ২৩ বল খেলে ১৯ রান করেন তিনি।
ওয়াশিংটন সুন্দরও তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যেতেন। জেকব ডাফির বাউন্সার সামলাতে না পেরে তিনিও ক্যাচ তোলেন। ফাইন লেগে ক্যাচ ধরেন জর্ডন কক্স। কিন্তু বল ধরার পর তাঁর আঙুলের ফাঁক দিয়ে বল মাটিতে লাগে। ফলে বেঁচে যান তিনি। আরশাদ খানকে ছ’নম্বরে নামিয়ে ফাটকা খেলতে চেয়েছিল গুজরাত। তিনি নেমে দু’টি ছক্কাও মারেন। কিন্তু ১৫ রানের মাথায় হেজ়লউডের বাউন্সারে তিনিও আউট হন।
আরও পড়ুন:
গুজরাতকে সম্মানজনক রানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল ওয়াশিংটন ও রাহুল তেওতিয়ার উপর। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রান পেলেন না তেওতিয়া। রাসিখ দারের বলে ৭ রানের মাথায় আউট হন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, ১৫০ রান করতেও সমস্যা হবে গুজরাতের।
ওয়াশিংটন অবশ্য তখনও ক্রিজ়ে ছিলেন। এক বার ক্যাচ পড়ার পর তিনি ভাল খেলছিলেন। অন্তত বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন। তাতে সফলও হচ্ছিলেন। হেজ়লউডের শেষ ওভারে আসে ১৬ রান। কিন্তু অপর প্রান্তে উইকেট পড়ছিল। জেসন হোল্ডার, রশিদ খান তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে একাই লড়লেন তিনি। করলেন অর্ধশতরান।
শেষ পর্যন্ত ১৫৫ রানে শেষ হল গুজরাতের ইনিংস। ৩৭ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকলেন ওয়াশিংটন। বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাসিখ। ৩ উইকেট নিলেন তিনি। ২ করে উইকেট নিলেন হেজ়লউড ও ভুবনেশ্বর। এখন দেখার এই রানের মধ্যে বিরাট কোহলিদের গুজরাত আটকে রাখতে পারে কি না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আইপিএলের ফাইনাল ৩১ মে, রবিবার। অহমদাবাদে হবে এ বারের ফাইনাল। নতুন কোনও দল এ বার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না।
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
-
শতরান করে রাজস্থানকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে! তবু ৯৬ রান করা বৈভবের ইনিংস ভুলতে পারছেন না শুভমন
-
পন্থের পদত্যাগের পর লখনউয়ের পরবর্তী অধিনায়ক কে? দুই ক্রিকেটারের নাম প্রস্তাব কেকেআরের প্রাক্তন ব্যাটারের
-
আইপিএল থেকে বিদায় বিশ্বাসই হচ্ছে না বৈভবের! গুজরাতের কাছে হারের পর মুখ খুলল সূর্যবংশী, লম্বা বার্তা সমর্থকদের
-
আইপিএল ফাইনালে বেঙ্গালুরুর সামনে গুজরাত! শতরান করে নায়ক শুভমন, বোলারদের ব্যর্থতায় দাম পেল না বৈভবের লড়াই
-
আইপিএল শেষ হওয়ার আগেই প্রথম কোপ অধিনায়কের উপর! গোয়েন্কার লখনউয়ের নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা ঋষভ পন্থের