Advertisement
E-Paper

মৃত মায়ের চক্ষুদান করে কারাবাস! জামিন পেলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না সমাজকর্মী আমিরের

কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ২০৭ নম্বর বুথের বিএলও আমিরচাঁদ। শুক্রবার দিনভর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে ব্যস্ত থাকলেও বারবার তাঁর মনে ফিরে আসছিল গত কয়েক দিনের লাঞ্ছনার স্মৃতি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:১০
আমিরচাঁদ শেখ।

আমিরচাঁদ শেখ। — নিজস্ব চিত্র।

মায়ের মরণোত্তর চক্ষুদান করে প্রতিবেশীর ‘অপবাদে’ শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল। বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার পর শুক্রবার কাজেও যোগ দিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের দুঃস্বপ্ন যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না নদিয়ার সেনপুর গ্রামের সমাজকর্মী আমিরচাঁদ শেখের। জেল থেকে বেরিয়ে কাজে ফিরলেও প্রতি মুহূর্তের আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর ও পরিবারের।

কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ২০৭ নম্বর বুথের বিএলও আমিরচাঁদ। শুক্রবার দিনভর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে ব্যস্ত থাকলেও বারবার তাঁর মনে ফিরে আসছিল গত কয়েক দিনের লাঞ্ছনার স্মৃতি। আমিরের অভিযোগ, মা রাবেয়া বিবির মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী চক্ষুদান করায় প্রতিবেশী রশিদ শেখ ‘অঙ্গ চুরি’র অপবাদ দিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান। সেই ঘটনার জেরে আমির-সহ পরিবারের সদস্যদের তিন দিন জেল হেফাজতে কাটাতে হয়। পুলিশের ‘অতি-সক্রিয়তা’ ও প্রতিবেশীদের বিরূপ আচরণে রীতিমতো বিধ্বস্ত ৩৯ বছরের এই যুবক।

নিরাপত্তার অভাব এতটাই যে, নিজের ন’বছরের ছেলেকে এখনও বাড়ি ফেরাতে সাহস পাচ্ছেন না আমির। তিনি বলেন, “মায়ের চক্ষুদান করায় বাড়িতে চড়াও হয়েছিল ওরা। ভয়ে ছেলেকে মামাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। বাড়িতে তিনটি সিসিটিভি লাগিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আতঙ্ক কাটছে না।” যারা মিথ্যে অপবাদ দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করল, পুলিশ কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন আমির।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সম্ভব জৈন জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। আপাতত আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেলেও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত আমির ও তাঁর স্ত্রী মহসিনা। তবুও বিএলও-র দায়িত্ব পালনে কোনও খামতি রাখছেন না তিনি। আমিরের কথায়, “অনেক কাজ বাকি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা আমাকে কোনও চাপ না দিলেও, দ্রুত সব গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

বিএলও-র গ্রেফতারিতে প্রশাসনের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তথা কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “মরণোত্তর চক্ষুদান বা অঙ্গদান অত্যন্ত মহৎ কাজ। এতে বাধা দেওয়া বা হেনস্থা করা মানা যায় না। কেন এমন ঘটল, আমরা দলীয় ভাবেও খোঁজ নেব এবং প্রশাসনকে নজর রাখতে বলব।”

Krishnanagar eye donation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy