টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নামার ৪৮ ঘণ্টা আগে পেয়েছিলেন খবরটা। পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন দিদি, জামাইবাবু। তার পরেও বিশ্বকাপের ফাইনালে নেমেছিলেন ঈশান কিশন। শুধু নামেননি, দলকে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, শুক্রবার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ঈশানের তুতো দিদি ও তাঁর স্বামীর। সেই খবর পেয়ে অহমদাবাদে যেতে পারেননি ঈশানের বাবা প্রণব পাণ্ডে। এমনকি, ঈশানও নাকি বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে ফাইনাল খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ফাইনালের আগে ঈশানের বাবা প্রণব বলেন, “খুব খারাপ ঘটনা ঘটেছে। আমরা খুব দুঃখে আছি। আমি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যেতে পারছি না। ঈশানও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল, কিন্তু ফাইনাল থাকায় সিদ্ধান্ত বদলেছে। ওরও মন ভাল নেই।”
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাইনালের আগে অনুশীলনে মনমরা দেখিয়েছে ঈশানকে। অনুশীলনে সাধারণত তিনি মজা করেন। সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটি করেন। কিন্তু ফাইনালের আগে তা উধাও ছিল। ব্যাটিং অনুশীলনের পর দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার এসে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন।
আরও পড়ুন:
তবে তার প্রভাব মাঠে পড়তে দেননি ঈশান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বল থেকে হাত খোলা শুরু করেন। ২৫ বলে করেন ৫৪ রান। চারটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন বাঁহাতি ব্যাটার। পরে ফিল্ডিংয়ের সময় তিনটি ভাল ক্যাচও ধরেন তিনি। টিম সেইফার্ট, রাচিন রবীন্দ্র ও ড্যারিল মিচেলের সেই ক্যাচ না ধরলে আরও একটু লড়াই করত নিউ জ়িল্যান্ড।
বিশ্বকাপ চলাকালীন পিতৃবিয়োগ হয়েছে রিঙ্কু সিংহের। বাবার শেষকৃত্যের পরেই আবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। রিঙ্কুর এই দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেছেন সকলে। সেই একই কাজই করলেন ঈশান। পরিজন-বিয়োগও দেশের হয়ে খেলা থেকে সরাতে পারল না তাঁকে।