Advertisement
E-Paper

ম্যাচ গড়াপেটা, দুর্নীতির অভিযোগে একঘরে কানাডা ক্রিকেট বোর্ড! দূরত্ব বাড়াচ্ছে অন্যান্য খেলার সঙ্গে যুক্ত দল

কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে মেজর লিগ বেসবলের দল। আগে যৌথ ভাবে একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠান করত তারা। এ বার ক্রিকেট দলকে রাখা হবে না সেখানে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪০
cricket

বিতর্কে কানাডা ক্রিকেট বোর্ড। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চাপ বাড়ছে কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের উপর। ক্রমশ একঘরে হয়ে যাচ্ছে তারা। কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে মেজর লিগ বেসবলের দল। আগে যৌথ ভাবে একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠান করত তারা। এ বার ক্রিকেট দলকে রাখা হবে না সেখানে।

২৩ মে ‘ক্রিকেট ডে অ্যাট দ্য পার্ক’ নামের একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল কানাডা ক্রিকেট দল ও মেজর লিগ বেসবলের দল টরন্টো ব্লু জেসের। কিন্তু টরন্টো জানিয়ে দিয়েছে, কানাডা ক্রিকেট দল সেখানে থাকবে না। বেসবল দল বিবৃতিতে বলেছে, “২৩ মে এই বছরের ক্রিকেট ডে অ্যাট দ্য পার্ক হতে চলেছে। সেখানে ক্রিকেট কানাডা থাকবে না।”

কেন ক্রিকেট কানাডা একঘরে?

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের তদন্তমূলক অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’-এর ‘কোরাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ পর্বে দাবি করা হয়েছে, কানাডার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠীর হাতে। এই তথ্যচিত্রের উপর ভিত্তি করেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা-নিউ জ়িল্যান্ডের ম্যাচে গড়াপেটা হয়েছিল বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন বা দল নির্বাচনে প্রভাব রয়েছে বিশ্নোই গোষ্ঠীর। কুখ্যাত এই গোষ্ঠীর পছন্দের ব্যক্তিদের হাতেই থাকে কানাডা ক্রিকেটের ক্ষমতা। দলে কোন ক্রিকেটারদের রাখতে হবে তা-ও বলে দেয় বিশ্নোই গোষ্ঠী।

কানাডা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘‘ইংল্যান্ডের সারের একটি রেস্তরাঁয় একটা বৈঠক হয়েছিল। সেখানে একজনকে সরাসরি বলা হয়েছিল, কোন ক্রিকেটারকে দলে রাখতে হবে। কাদের কোনও ভাবেই দল থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। অন্যথা হলে তাঁকে বিপদে পড়তে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টা বেশ ভয়ের ছিল। ওই ঘটনার পর জাতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলতেও তিনি ভয় পেতেন।’’ ওই ব্যক্তি আরও বলেছেন, ‘‘কানাডার ক্রিকেট বোর্ডের কোন পদে কে থাকবেন বা দলের কোন ক্রিকেটারদের প্রতি আলাদা খেয়াল রাখতে হবে, সবই বলে দেওয়া হয়।’’

তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, কয়েক জন ক্রিকেটারের দেখভাল ঠিকমতো না হওয়ায় কানাডার জাতীয় দলের এক সদস্যকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর জাতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। তাঁরা কানাডা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান। বিশ্নোই গোষ্ঠীর নির্দেশ না মানার অভিযোগে এক ক্রিকেটকর্তার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়। তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। ওই ব্যক্তি আরও বলেছেন, ‘‘ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িতেরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা নন। ভয়ের কোনও ব্যাপার হলে তাঁরাও ভয় পান। হতাশা, অবসাদের শিকার হন। প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পান না।’’

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস আগে হঠাৎ করেই কানাডার জাতীয় দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল নিকোলাস কর্টনকে। অধিনায়ক করা হয় দিলপ্রীত বাজওয়াকে। ক্রিকেট বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছিলেন কর্টন এবং দলের কোচ। অধিনায়ক বদল নিয়ে কোনও ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ গড়াপেটায় মূল অভিযোগ বাজওয়ার দিকেই। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাঁর করা একটি ওভার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলার ছিলেন বাজওয়া। ওই ওভারে তিনি একটি ‘নো‘ বল করেন। লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করে দু’টি ‘ওয়াইড’ দেন। বাজওয়ার ওই ওভারে নিউ জ়িল্যান্ড ১৫ রান তুলেছিল। বাজওয়ার আগে বল করতে আসা কানাডার দুই বোলার জসকরণ সিংহ এবং ডিলন হেলিগারও প্রচুর রান দিয়েছিলেন। তাঁদের ২ ওভারে উঠেছিল ৩৫ রান। যদিও সাদ বিন জ়াফর একটি ওভারে কোনও রান দেননি। একটি উইকেটও নেন সেই ওভারে। হেলিগারও তাঁর দ্বিতীয় ওভারে ৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন। গড়াপেটার অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) দুর্নীতি দমন বিভাগ।

এই অভিযোগের পরেই ক্রমশ একঘরে হচ্ছে কানাডা ক্রিকেট বোর্ড। যদিও আইসিসির তদন্তের উপর আস্থা রাখছে কানাডার ক্রিকেট কর্তাদের একাংশ। আইসিসির পরামর্শমতো তাঁরা ব্যবস্থা নিয়ে কানাডার ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত করতে চান বলে ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’কে জানিয়েছেন এক কর্তা।

Baseball
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy