Advertisement
E-Paper

৪ উইকেট, ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৩ রান! শুধু ব্যাট-বলেই নয়, জ্যাভলিন, হকিতেও দক্ষ হরমনপ্রীতদের একাই হারিয়ে দেওয়া ডি ক্লার্ক

শুধু ডব্লুউপিএল নয়, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগেও নাদিন ডি ক্লার্কের চাহিদা রয়েছে। ব্যাট বা বল হাতে বদলে দিতে পারেন ম্যাচের রং। জ্যাভলিন থ্রো এবং হকিতেও দক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১১
picture of cricket

নাদিন ডি ক্লার্ক। ছবি: এক্স।

মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচেই আলোচনায় উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাদিন ডি ক্লার্ক। শুক্রবার হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে প্রায় একার হাতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে এনেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অলরাউন্ডার। এই ডি ক্লার্কের কাছেই গত বিশ্বকাপে লিগ পর্বের ম্যাচে হারতে হয়েছিল ভারতকে।

বল হাতে ২৬ রানে ৪ উইকেটের পর ব্যাট হাতে ৪৪ বলে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। ডি ক্লার্ককেই কৃতিত্ব দিয়েছেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা। তাঁর কাছেই হার, মেনে নিয়েছেন মুম্বই অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরও। ২৫ বছরের অলরাউন্ডার শুধু ক্রিকেটই খেলেন না। শুরু করেছিলেন জ্যাভলিন থ্রো দিয়ে। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত চুটিয়ে খেলেছেন হকিও। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার পর ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছেন পাকাপাকি ভাবে। তবে জ্যাভলিন ছোড়া এবং হকি খেলার অভ্যাস বজায় রেখেছেন এখনও। ক্রিকেটের অবসরে নিজেকে ফিট রাখতে জ্যাভলিন এবং হকিই তাঁর প্রধান ভরসা।

বেঙ্গালুরুকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়ে খুশি ডি ক্লার্ক। ব্যাটিং নিয়ে বলেছেন, ‘‘ক্রিজ়ে গিয়ে নিজের ব্যাটিং দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রয়েছে। কখনও সফল হই, কখনও হই না। তবে এমন ব্যাটিং সহায়ক পিচের সুবিধা তো কাজে লাগাতেই হবে।’’ আরও বলেছেন, ‘‘শেষ দিকে আমি বেশি বল খেলতে চাইছিলাম। আমাদের দুটো ভাল জুটি হয়েছে। অরুন্ধতি (রেড্ডি) ভাল ব্যাট করল। আর প্রেমার (রাওয়াত) বাউন্ডারি দুটো আমাদের খুব কাজে এসেছে। আগামী দু’দিন এই জয়টা উপভোগ করতে পারব। আসলে দিনটা যদি আপনার হয়, তা হলে আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে যাতে সেটা সবচেয়ে ভাল ভাবে ব্যবহার করা যায়।’’ ম্যাচ জেতানোর কৃতিত্ব একা নিতে চাননি ডি ক্লার্ক। বোলিং পারফরম্যান্স নিয়েও খুশি ডি ক্লার্ক। তবে মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি।

দেশের হয়ে এখনও পর্যন্ত ৪টি টেস্ট, ৫২টি এক দিনের ম্যাচ এবং ৬৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ডি ক্লার্ক। মহিলাদের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। বল বা ব্যাট হাতে একাই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। ফিল্ডিংয়েও তুখোড় ২৫ বছরের ক্রিকেটার। শুধু ডব্লুউপিএল নয়, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি লিগেও তাঁর চাহিদা যথেষ্ট।

ঠিক যেমন আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বদলে দিয়েছিলেন গত এক দিনের বিশ্বকাপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের রং। সে দিন হরমনপ্রীতেরা হারলেও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জিতে নিয়েছিলেন ডি ক্লার্ক। জয়ের জন্য ২৫২ রান তাড়া করতে নেমে ৮১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল লরা উলভার্টের দলের ইনিংস। সবাই যখন ধরে নিয়েছিলেন ভারতের জয় নিশ্চিত, তখন মাঠে নামেন ডি ক্লার্ক। ৮টি চার এবং ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর সেই ইনিংস বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আশঙ্কায় রেখেছিল ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। গত ২ নভেম্বর ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান ডি ক্লার্ক।

শুক্রবার মুম্বইয়ের সেই স্টেডিয়ামেই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করলেন ক্রিকেট জনতাকে। গত মরসুমে ডব্লিউপিএল খেলেছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়েই। ২০২৪ সালের পর এ বার আবার বেঙ্গালুরু শিবিরে। গত নিলামের আগে ডি ক্লার্ককে ছেড়ে দেন হরমনপ্রীতেরা। ভারতীয় দলের অধিনায়ক ভুলটা বুঝলেন হাড়ে হাড়ে।

WPL 2026 RCB MI Harmanpreet Kaur South Africa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy