বৈভব সূর্যবংশীর মতো ক্রিকেটার তৈরির কোনও নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। এই ধরনের খেলোয়াড়েরা নিজস্ব প্রতিভা নিয়েই জন্মায়। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ করে নেওয়া ১৫ বছরের ক্রিকেটার সম্পর্কে মূল্যায়ন রাহুল দ্রাবিড়ের। উচ্ছ্বসিত মাইকেল ভনও।
ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচই দু’বছর আগে বৈভবকে রাজস্থান রয়্যালসে নিয়েছিলেন আইপিএলের নিলামে। কাছ থেকে দেখেছেন বৈভবকে। গত আইপিএলে সর্বোচ্চ রান করার পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বৈভব সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত দ্রাবিড়। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দ্রাবিড় বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই এক অনন্য প্রতিভার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। আমার মতে, বলের গতি বুঝতে পারা, ক্রিকেটীয় বিচেক্ষণতা, নির্ভীকতার এক অবিশ্বাস্য সংমিশ্রণ হল বৈভব। ওর মতো ক্রিকেটার কোনও বাধা ধরা নিয়মে তৈরি করা যায় না।’’
ক্রিকেটের প্রতি বৈভবের আন্তরিকতাও মুগ্ধ করেছে দ্রাবিড়কে। তিনি বলেছেন, ‘‘কিছু জিনিস ওর মধ্যে জন্মগত। বাকিটা কঠোর পরিশ্রম। শুধু জন্মগত প্রতিভা দিয়ে এই জায়গায় পৌঁছোনো যায় না। ছোট থেকেই ও অনুশীলনে প্রচুর বল থেকে। রাজস্থানে থাকার সময় ওকে দেখে বুঝেছি।’’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বৈভবের সাফল্য নিয়ে আশাবাদী দ্রাবিড়। তিনি বলেছেন, ‘‘আশা করব নতুন এই যাত্রায় বৈভব সব রকম সাহায্য পাবে। সকলে ওর পাশে থাকবে। যাতে ওকে নিয়ে তৈরি হওয়া সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হতে পারে। বৈভবের মতো ক্রিকেটারকে আগলে রাখা উচিত। নিয়ন্ত্রণটাও সুক্ষ হওয়া দরকার। কোনও কোনও সময় কাউকে স্বাধীনতাও দিতে হয়।’’
বৈভবকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ভনও। তিনি বলেছেন, ‘‘বল দেখার চোখ আর ব্যাটের ব্যবহারই বৈভবকে আলাদা করে তুলেছে। আর একটা ব্যাপার দুর্দান্ত। বোলারদের খুব ভাল পড়তে পারে। ফিল্ডিং সাজানো দেখে আন্দাজ করতে পারে, বোলার কী রকম বল করতে পারে। সত্যি কারের বড় খেলোয়াড়েরা এটা বুঝতে পারে।’’ ভন আরও বলেছেন, ‘‘বৈভব দুর্দান্ত। এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে মারতে পারে। ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে মারতে পারে। থার্ড ম্যানের উপর দিয়েও ছয় মারতে পারে। বোলারের লেংথ সামান্য এদিক ওদিক হলেই বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারে। ফিল্ডিংয়ের কথা ছেড়ে দিন। বৈভব মাঠেকর বাইরে বল উড়িয়ে দেয়। আমি ভাবছি, ভারতের টেস্ট খেলতে নামলে বৈভব কী করবে!’’