রজত পাটীদার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। বিরাট কোহলিদের দু’বার আইপিএল জয়ই পাটীদারের নেতৃত্বে। স্বাভাবিক ভাবেই বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের অন্যতম প্রিয় ক্রিকেটার তিনি। অথচ বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল খেলতেই চাননি পাটীদার!
মধ্যপ্রদেশের ৩৩ বছরের ব্যাটারের নেতৃত্বে আইপিএল জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখছেন বেঙ্গালুরুর সমর্থকেরা। সেই সময় তাঁর মন্তব্য নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো। একটি সাক্ষাৎকারে পাটীদার বলেছেন, ‘‘আমি ২০২২ সালে আরসিবির হয়ে খেলতে চাইনি। কারণ আমার মনে হত, আরসিবি আমায় দলে নিয়ে কারও পরিবর্ত হিসাবে নেবে। ফলে আমার খেলার তেমন সুযোগ থাকবে না। আমার ধারণা ভুল ছিল না। দলে যোগ দেওয়ার সময় ঠিক এটাই বলা হয়েছিল আমায়। জানিয়ে দেওয়া হয়, পরিবর্ত হিসাবে আমায় ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ কেউ চোট না পেলে আমাকে খেলানো হবে না।’’ পাটীদার আরও বলেছেন, ‘‘ঠিক এই কারণেই আরসিবি আমার পছন্দ ছিল না। সত্যি বলতে, আমি দলে যোগ দিতেই চাইনি। আইপিএলের সময় বিয়ের দিনও ঠিক করে ফেলেছিলাম। বেঞ্চে বসে থাকার জন্য দলে থেকে কী হবে? সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। নিজেকে আলাদা কিছু ভাবি না। ম্যাচ খেলাই ছিল আমার লক্ষ্য। বসে থাকার জন্য দলে যোগ দিতে মন সায় দেয়নি। খেলার সুযোগই না থাকলে দলে থেকে কী হবে?’’
দলে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদলালেন কেন? পাটীদার জানিয়েছেন, কোচ, কয়েক জন সতীর্থ এবং বাড়ি সকলের কথায় সিদ্ধান্ত বদলান। সকলে তাঁকে দু’মাসের জন্য বিয়ে পিছিয়ে দিতে বলেন। সকলেই দলে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলেছিলেন। সুযোগ হাতছাড়া করতে বারন করেছিলেন।
২০২১ সাল থেকে আরসিবির হয়ে খেলছেন পাটীদার। প্রথম বছর চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। খুব ভাল কিছু করতে পারেননি। ২০২২ সালে আটটি ম্যাচ খেলেন। তার মধ্যে একটিতে ৫৪ বলে ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সেই ইনিংসই পাটীদারের ক্রিকেটজীবন বদলে দিয়েছিল। তার পর থেকে আরসিবির প্রথম একাদশে নিয়মিত সদস্য পাটীদার। গত বছর থেকে অধিনায়কও।